Published : 17 Aug 2024, 02:27 PM
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি সমর্থন না করলেও ‘জ্ঞানচর্চায় তাদের কর্মপদ্ধতির’ ভূয়সী প্রশংসা করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ওপর আলোচনায় তিনি ভেঙে দেওয়া ২০ দলীয় জোটের দ্বিতীয় প্রধান শরিকের বিষয়ে এই মন্তব্য করলেন।
‘শুধু স্লোগান দিয়ে রাজনীতি করলে হবে না’ এবং ‘জেনেশুনে’ রাজনীতি করতে হবে মন্তব্য করে জামায়াতের রাজনীতির উদাহরণ টানেন বিএনপি নেতা।
তিনি বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি সমর্থন করি না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর যে কৌশল, তাদের রাজনৈতিক যে প্রক্রিয়াটা তা অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত, ঠিক কমিউনিস্ট পার্টির মত অনেকটাই…খেয়াল করে দেখবেন।”
এর ব্যাখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘‘তাদের স্টাডি সেল আছে… তাদের যে ছাত্র শিবির আছে তাদের প্রত্যেকটার সেল আছে।
‘‘তাদের লেখাপড়া করতে হয়, বই পড়তে হয়, সেই বই পড়ে তাদেরকে উত্তর দিতে হয়। সেটার জন্য তারা নিজেরা পড়ে, তারা পত্রিকা প্রকাশ করে। এগুলোর চর্চা যদি না থাকে… জ্ঞানের চর্চা ছাড়া, জ্ঞান ছাড়া আপনি কখনও সাফল্য অর্জন করতে পারবেন না।”
‘জিয়াকে সমর্থন দেয় সিপিবি, ন্যাপ (মোজাফফর)’
সেনাবাহিনীতে থেকেও জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় চলে আসার সময় যা যা করেছিলেন, তার কিছুটা তুলে ধরেন ফখরুল।
তিনি বলেন, “প্রতিটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলেছেন, ন্যাপের সঙ্গে বলেছেন, কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী তখন ছিল না, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের (জামায়াত এই নামেই স্বাধীন দেশে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসে) সঙ্গে কথা বলেছেন, মুসলিম লীগসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে কথা বলেছেন।
“তার (জিয়াউর রহমান) সঙ্গে কথা বলে সকলের একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, আসলে তিনি (জিয়াউর রহমান) একজন দেশপ্রেমিক, তিনি কাজ করতে চান, তাকে দিয়ে কাজ হবে।”
সামরিক অভ্যুত্থানের সমালোচক হলেও কমিউনিস্ট পার্টি এবং ন্যাপ (মোজাফফর) জিয়ার ১৯ দফাকে সমর্থন দিয়েছিল বলেও জানান ফখরুল।
জিয়াউর রহমানের ওপর একটি লেখা বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধানে যখন বিসমিল্লাহ সংযোজন করা হল, প্রফেসর মোজাফফর আহমদ বলেছেন, ‘অসুবিধাটা কোথায়? বিসমিল্লাহ দিয়ে যদি কাজ শুরু করা যায় অসুবিধাটা কোথায়? বিসমিল্লাহ বলে যদি আমি ভালো কাজ করতে পারি তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
‘‘আর আমি যদি সোশ্যালিজমের সামনে যদি বিসমিল্লাহ বসাই, আমার সমস্যা কোথায়? এভাবেই বামপন্থিরা জিয়াউর রহমানের প্রতি আকৃষ্ট হলেন, তারা তাকে সমর্থন দিয়ে দিলেন।”
এ কথা অনেকেই জানেন না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সেজন্য বলি, শুধু চিৎকার-চেঁচামেচি করে রাজনীতি হবে না, রাজনীতি করতে হলে আপনাদের জ্ঞানচর্চা করতে হবে।”
আলোচনার আয়োজকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ইউ আর বিকামিং অ্যা থিংক ট্যাংক অব বিএনপি। বিএনপি হতে যাইয়েন না, থিংক ট্যাংক হন বিএনপির।
“বইপত্র শুধু নয়, আপনারা সেমিনার করেন, আলোচনা সভা করেন, ওয়ার্কশপ করেন যাতে আমরা জিয়াউর রহমানকে আরও বেশি করে জানতে পারি, ছড়িয়ে দিতে পারি।”
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্ব ও মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী ও লুৎফর রহমান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল আহসান, শামসুল আলম লিটন ও আবু নাছের বক্তব্য রাখেন।
এই সংগঠনটির চেয়ারম্যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।