Published : 31 Aug 2025, 12:25 AM
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপরে হামলার ঘটনা দেশের মানুষ ‘মেনে নেবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নূরকে দেখতে যান বিএনপির এই নেতা। সেখানে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি।
মঈন খান বলেন, “রাজপথে নুরুল হক নুরের অবস্থান স্পষ্ট। তার ওপরে এভাবে হামলার ঘটনা দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না, মেনে নেবে না।
“আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই। এই অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত চাই।”
এর আগে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সকালে নুরকে দেখতে যান হাসপাতালে। তিনিও নুরের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।
পরে রাত ১০টায় নুরকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
তিনি আইসিইউতে প্রবেশ করে নুরকে দেখেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজখবর নেন।
আমান মেহেরপুরে দলের জেলা সম্মেলন শেষ করে ঢাকায় এসে সরাসারি হাসপাতালে যান। পরে তিনি বলেন, ‘‘ নুরের ওপরে হামলার ঘটনার অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। এহেন ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে নুরসহ তার দলের নেতাকর্মীরা যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হন। গণ অধিকার পরিষদের দাবি, তাদের মিছিলের পেছন থেকে হামলা করেছে জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির পাল্টা অভিযোগ, তাদের প্রধান কার্যালয়ে হামলা হয়েছে ওই মিছিল থেকে।
গণধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, তাদের মিছিলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে মশাল মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে। এতে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
নুরসহ আহতদের প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার নাকে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
নুরের চিকিৎসায় শুক্রবার রাতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
‘নুরের অবস্থা স্থিতিশীল’
ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “নুরের চোখের ওপরে আঘাত রয়েছে, মাথায় সামান্য রক্তক্ষরণ রয়েছে। আহত অবস্থায় রাতে হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেন। সেখান থেকে তাকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) রাখা হয়। পরে রাতেই আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।”
তিনি বলেন, “রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয় এবং তাদের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার বর্তমান অবস্থা স্টেবল (স্থিতিশীল) রয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলছি না। তার মস্তিষ্কে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, সেটা ওষুধে ভালো হয়ে যাবে বলে আশা করছি।”
নুরুল হক নুরের চিকিৎসায় গঠিত ৬ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, অ্যানেস্থিশিয়া বিভাগের প্রধান, ক্যাজুয়ালটি, নাক-কান-গলা, নিউরোসার্জারি ও চক্ষু বিভাগের একজন করে চিকিৎসক।
নুরুল হক নুরের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।