১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৮ সংগঠনের গণমিছিলের ‘পাল্টায়’ সিপিবি কার্যালয় ‘দখলের’ ডাক পিনাকীর

“আয়োজকরা কেউ উদীচীর সাথে যোগাযোগ করেনি। সুতরাং এই কর্মসূচির সাথে উদীচীর সম্পৃক্ততা নেই,” বলেন জামসেদ আনোয়ার তপন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Mar 2025, 03:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:01 PM

হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়নের বিচার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অপসারণের দাবিতে শনিবার গণমিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে বামপন্থী আটটি সংগঠন।

শুক্রবার দেওয়া এই কর্মসূচির ‘পাল্টায়’ ঢাকার পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এর কার্যালয়কে ‘ছাত্র-জনতার কার্যালয়’ বানানোর ডাক দিয়েছেন লেখক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য।

গণমিছিলের উদ্যোগ নেওয়া সংগঠনগুলো হল—বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ উদিচী শিল্পীগোষ্ঠী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)।

গণমিছিলটি বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে এসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকী আক্তার।

আট সংগঠনের এই কর্মসূচীর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ফেইসবুক পেইজে দুটি পোস্ট দিয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য।

রাত ১২টায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আগামীকাল এই কর্মসূচিটা সিপিবির এমএম আকাশ-রুহিন হোসেন প্রিন্সদের ফ্রাকশনের সংগঠনগুলো মিলে, সাথে বাসদ (বজলুর রশীদ ফিরোজ) এবং জনসংহতি সমিতিকে (সন্তু লারমা) নিয়ে আয়োজন করেছে। সম্মুখে রাখছে লাকী আক্তারকে।

“আমরা আগামীকাল গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো মিলে সকাল সাড়ে ১০টায় পুরানা পল্টনে সিপিবি অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে ঘেরাও করবো এবং গত ১৫ বছর হাসিনার দালালীর এবং গণজাগরণ মঞ্চে অংশগ্রহণের জন্য গণজবাবদিহিতা চাইবো।”

তিনি লিখেছেন, “আগামীকাল পুরানা পল্টন সিপিবি অফিসকে আমরা বিপ্লবী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কার্যালয় বানাবো।

“চলো চলো পুরানা পল্টন চলো। সিপিবি অফিস ঘেরাও করো। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”

এর কিছুক্ষণ পর দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি বলেন, “পুরানা পল্টনে সিপিবি অফিসের বিল্ডিং এ দোকান আছে কিছু। আপনাদের উতলা হওয়ার কিছু নাই। আপনাদের মালিকানা আপনাদেরই থাকবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আপনাদের এক মাসের ভাড়া মওকুফ করা হবে। পরের মাস থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আপনাদের ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা জুলাই ফাউন্ডেশনে দান হিসেবে জমা দিয়ে রশিদ রাখবেন। আগামীকাল দোকান না খোলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের।”

এদিকে উদীচীর নাম ব্যবহার করে ঘোষিত কর্মসূচিটি উদীচীর অনুমোদন বিহীন, যার সাথে উদীচী সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া জামসেদ আনোয়ার তপন।

শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, “আয়োজকরা কেউ উদীচীর সাথে যোগাযোগ করেনি। সুতরাং এই কর্মসূচির সাথে উদীচীর সম্পৃক্ততা নেই।”

গেল ফেব্রুয়ারিতে কমিটি গঠন নিয়ে উদীচী বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

অধ্যাপক বদিউর রহমানকে সভাপতি এবং অমিত রঞ্জন দে’কে সাধারণ সম্পাদক বহাল রেখে নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করার ঘোষণা করে এক পক্ষ। এরপর সভাপতি পদে অধ্যাপক বদিউর রহমানকে রেখে জামসেদ আনোয়ার তপনকে সাধারণ সম্পাদক করে আরেকটি কমিটির ঘোষণা আসে অন্য পক্ষ।