খালেদা জিয়া বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাবেন, আশা ফখরুলের

“আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন,” বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Oct 2023, 02:13 AM
Updated : 28 Oct 2023, 02:13 AM

সরকার অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেবে বলে আশা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিকালে এক সমাবেশে তিনি বলেন, “আজকে আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, সর্বপ্রথম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

“আমরা আশা করি, তার পরিবারের পক্ষ থেকে যে তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে, এই সরকার অবৈধ হলেও তারা তাকে বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেবে।”

গত ৯ অগাস্ট থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড সুপারিশ করেছে, দ্রুত বিএনপিনেত্রীর লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। সেজন্য তাকে বিদেশে মাল্টিডিসিপ্ল্যানারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

এমন অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার বোনকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রেখে, এখন গৃহবন্দি রেখে অসুস্থ অবস্থায় তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

“একটি মাত্র কারণ, তারা (সরকার) জানে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি বাইরে থাকেন তাহলে জনগণের যে স্রোত, তারা বন্ধ করতে পারবে না এবং তাদের ক্ষমতায় থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে ‘সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে’ বিকালে এই সমাবেশ হয়।

এই সরকারের আমলে গণতন্ত্রের জন্য মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নারীদের কারগারে পাঠানোর বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, “এই সরকার যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে মহিলাসহ কোনো মানুষেরই কোনো নিরাপত্তা থাকবে না, আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে হারাব, আমাদের সার্বভৌমত্বকে হারাব, আমাদের গণতন্ত্র চিরতরে চলে যাবে, আমাদের কোনো অধিকার আর থাকবে না।”

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আফরোজা খানম রীতা, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের নাজমুন নাহার বেবী, নেওয়াজ হালিমা আরলি, ইয়াসমীন আরা হক, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার, অর্পনা রায় দাশ, শাহানা আখতার শানু, নায়েবা ইউসুফ, রুমা আখতারসহ বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা থেকে আসা নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম প্রমূখ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)