Published : 13 Aug 2025, 09:54 PM
সরকারের ‘অস্বচ্ছ ও এক পেশে নীতিকৌশল ও নির্দেশনা’ দেশের ওষুধ শিল্পে সংকট সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাবনাময় এই শিল্পখাতে সরকারের গৃহীত কিছু অস্বচ্ছ, একপেশে নীতিকৌশল ও নির্দেশনা এবং একই সঙ্গে কিছু বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তা এই খাত ঘিরে বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে আমরা লক্ষ্য করছি।”
বিএনপি মহাসচিব এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি সরকারের গঠিত ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিসিসি), অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটি, ডিসিসির কারিগরি উপকমিটিতে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির কোনো প্রতিনিধি না রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “ওষুধ শিল্পের নীতি প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পেশাজীবীদের মতামত প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
“বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি ও শিল্প সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে যৌথভাবে সমাধান খুঁজে বের করাই হবে দেশের স্বার্থে শ্রেষ্ঠ পদক্ষেপ।”
শিল্প উদ্যোক্তাদের বাদ রেখে কোনো কমিটি গঠন, নীতি প্রণয়ন বা পরিবর্তনকে বিএনপি সমর্থন করে না তুলে ধরে দলের মহাসচিব বলেন, “সামনে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই খাতের সুরক্ষায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
তার মতে, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আজ আর শুধু একটি উৎপাদন খাত নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে। এই খাতের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন অত্যন্ত জরুরি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি সরকার, বেসরকারি খাত, ওষুধ শিল্প খাতের উদ্যেক্তা, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সমন্বিত সহযোগিতায় দেশের ওষুধ শিল্পখাতকে টেকসই উন্নয়নের পথে আরো এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”
কার্যকর সব পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে দেশের ঔষুধ শিল্পের স্থিতিশীলতা ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার এই খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণে এগিয়ে আসবে, বিএনপি এমন আশা করে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত প্রায় দুই বছর ধরে নতুন কোনো ওষুধের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি এবং অনেক দিন ধরে ওষুধের মূল্য সমন্বয়ও করা হয়নি। আবার নতুন ওষুধের নিবন্ধন না দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট চুক্তি ট্রিপস এর ছাড় হারাতে বসেছে।
২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে, এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ অবস্থায় নতুন ওষুধের নিবন্ধন দ্রুততম সময়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করি।”
ওষুধ শিল্প দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তুলে ধরে বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দেশের চাহিদার প্রায় শতভাগ ওষুধ এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ১৬০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হয়। এই খাত এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডেন্ট) উৎপাদনেও সক্ষমতা অর্জন করেছে।”
বিএনপির বিগত শাসনামলে এই শিল্পের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে বিবৃতিতে দলের মহাসচিব দাবি করেছেন।
এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে ওষুধের মূল্যনীতি প্রণয়ন, ২০০২ সালে জাতীয় ওষুধ নীতি হালনাগাদ, ২০০৩ সালে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ শক্তিশালীকরণ, ট্রিপস ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন, রপ্তানি প্রণোদনা এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ ঔষধ শিল্পের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।