Published : 01 Sep 2026, 03:36 PM
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নয় দফা দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে অযোগ্য করার বিধান যুক্ত না করার দাবি আবারও জানিয়েছে বিরোধী দল।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেছেন জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হয়েছে।
তাদের দাবি, এমন প্রস্তাব ‘অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক’।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদেরও অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে যে ৯ দফা দাবি দেওয়া হয়, সেগুলোর অধিকাংশই গেল ২৯ জুলাই সিইসির সঙ্গে হওয়া সর্বশেষ বৈঠকে দিয়েছিল দলটি।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব সরকারের কাছে দিচ্ছে ইসি। বিষয়টিতে তাদের আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, “সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলাদেশে সকল নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারে, রাজনীতি করতে পারে, ভোট দিতে পারে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
“রহস্যজনক কারণে কমিশন নিজেরাই একটা বৈঠক করে সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন যে এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। ইসির এমন সুপারিশ অসাংবিধানিক। বাতিলের দাবি করেছি।”
গোলাম পরওয়ার বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষককেরা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে পারবেন না, এটা হতে পারে না। সরাসরি আইনের, সংবিধানের লঙ্ঘন এবং বৈষম্য করা হচ্ছে। এটা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দল, তার কোনো পদ-পদবি ধারণ করছেন, এমন কোনো ব্যক্তির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত না। তাদেরকেও স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করতে বলেছি।”
নির্বাচনে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের বিষয়ে পুনরায় আপত্তি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এ নেতা বলেন, সামসুল আলম সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন।
“সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী, আইনের লঙ্ঘন।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অতিরিক্ত সচিবের বিষয়ে কনসার্নটা আমরা ওনাদেরকে জানিয়েছি। ফলে আমরা হতাশ না। আমরা মনে করি আমাদের এই দাবি মানা হবে। মানতে হবে। তা নাহলে এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না, এই নির্বাচন দলীয় হিসেবেই কিন্তু একটা বায়াসনেসের মধ্যে পড়ে যাবে।”
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “যারা প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তাদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে হবে। এবং এখানে দুটো কথা ভুল ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই।
“একটা হচ্ছে যে তফসিল ঘোষণা হলে তারা ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করবেন, অনেকে এটা বলেন। আমরা তাও চাই না।”
জামায়াতের কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন-ইসি ইতিবাচক ছিল তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “কিছু কিছু বিষয় ওনারা বলেন যে এটা সরকারের করণীয়, আমরা পরামর্শ দিতে পারি। …তবে এটুকু বলতে আমাদের দ্বিধা নেই যে ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার তাদের যে একটা চাপ ইসির ওপর আছে, কথা শুনলে আর উত্তর দিলে বোঝা যায় যে, কোথাও একটা অসহায়ত্ব তাদের (ইসি) মধ্যে আছে।”
১১ দলীয় জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “১১ দলীয় ঐক্য শুধু জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
“আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, প্রত্যেক দল নিজ নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, দুই নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন, আবদুর রব, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান ও জামায়াত নেতা ইয়াসিন আরাফাত।
আগের খবর:
বছর শেষে ইউপি ভোট দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক: জামায়াত কেন রাখতে চায়, ইসি কেন চায় না
সামনে স্থানীয় সরকারের ভোট, দেশে ভোটার এখন প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ