১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপির সঙ্গে অবরোধের ঘোষণা জামায়াতেরও

২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপির মত একই কর্মসূচি দিয়ে আসছে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপির সঙ্গে অবরোধের ঘোষণা জামায়াতেরও

হরতাল-অবরোধের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Nov 2023, 09:14 PM

Updated : 02 Nov 2023, 09:14 PM

সরকারের পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির পর জামায়াতে ইসলামীও রোবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “শুক্রবার সারাদেশে দেশব্যাপী আন্দোলনে নিহতদের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং রোববার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে টানা শান্তিপূর্ণ অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছি।”

‘সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশপ্রেমিক সংগ্রামী জনতাকে’ এই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘সরকার পতনের’ এক দফা দাবিতে ২৮ অক্টোবর সমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। ২০ শর্তে তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ।

সেদিন দুপুরের আগে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরুর পর কাছেই কাকরাইল মোড়ে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। শান্তিনগর, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, আরামবাগ এবং দৈনিক বাংলা মোড় এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করা হয় আরো ডজনখানেক যানবাহন। হামলা করা হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে।

দৈনিক বাংলা মোড়ে পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সংঘাতে প্রাণ যায় যুবদলের মুগদা থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা শামীম মোল্লার।

বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতও সেদিন সমাবেশ ডেকেছিল। বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হলেও জামায়াত সেদিন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঠিকই কর্মসূচি শেষ করে।

পণ্ড হওয়া সমাবেশ থেকেই পরদিন সারাদেশে হরতালের ডাক দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াতও একই কর্মসূচি দেয়।

ফখরুল হরতালের দিন গ্রেপ্তার হলে মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। একই কর্মসূচি দেয় জামায়াতও।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাতে বেশ কয়েকজনের প্রাণ গেছে, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে কয়েক ডজন যানবাহন ও স্থাপনা।