Published : 19 Oct 2022, 09:35 PM
কোনো প্রতিবন্ধকতাই খুলনার সমাবেশে জনস্রোতকে আটকাতে পারবে না- এমন আশা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিবহন ধর্মঘটের কোনো প্রভাব পড়বে না।
বুধবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের দুই শরিক জাতীয় দল ও ইসলামিক পার্টির সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নেতাকর্মীদের হত্যা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিভাগীয় শহরগুলোতে ডাকা গণসমাবেশের অংশ হিসেবে আগামী শনিবার খুলনায় বিএনপির এ কর্মসূচি রয়েছে। নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে হবে এ সমাবেশ।
মির্জা ফখরুল বলেন, “সমাবেশে এসবের (পরিবহন ধর্মঘট) এতটুকু প্রভাব পড়বে না। ময়মনসিংহে আপনারা দেখেছেন কীভাবে মানুষ এসেছে। ট্রলারে করে, নৌকায় করে বিভিন্নভাবে। একইভাবে রিকশায় করে, রিকশাওয়ালারা মানুষজন নিয়ে এসেছে তারা ভাড়া পর্যন্ত নেয়নি। এটাই হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণ।
“খুলনাতেও দেখবেন যে, তারা (ক্ষমতাসীনরা) যত গাড়ি বন্ধ করুক, যা কিছু করুক একইভাবে জনগণ গণতন্ত্রের দাবিতে উপস্থিত হবে খুলনার সমাবেশে ইনশাল্লাহ।
“আমরা কোনো প্রতিবন্ধকতা, কোনো হরতাল মানব না, আমরা কোনো কারফিউও মানব না, আমরা সেখানে (সমাবেশ) উপস্থিত হবই।”
মঙ্গলবার রাতে খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের যৌথ আলোচনা সভায় ২১ ও ২২ অক্টোবর আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এ পরিস্থিতিতে শহরের বাইরের বিএনপির নেতাকর্মীদের আগেই খুলনায় পৌঁছাতে দলের পক্ষে নির্দেশনাও এসেছে।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহের বিভাগীয় সমাবেশের দিনও গণপরিবহন বন্ধ ছিল।
সেই প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, “ময়মনসিংহেও এভাবে তারা গাড়ি-ঘোড়াসহ পরিবহন বন্ধ করেছিল। ঠেকাতে পারেনি। আপনারাও ছিলেন সবাই। ওরা জনগণের ঢলকে প্রতিরোধ করতে পারেনি।”
খুলনাতেও সেটা পারবে না বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা।
সমাবেশকে সামনে রেখেই মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিএনপি অভিযোগ করলেও এর সরাসরি কোনো উত্তর শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা দেননি।
সরকারি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হবে না বলা হলেও এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা কেন- এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, “আজ পর্যন্ত কি আওয়ামী লীগ তাদের কোনো কথা রাখতে পেরেছে? রাখতে পারেনি। কারণ তারা বিশ্বাসই করে, যা বলব তা করব না। ঠিক উল্টাটা করে। সুতরাং আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।”
‘বিএনপি আরেকটা ১/১১ সৃষ্টির দিবা স্বপ্ন দেখছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটা (১/১১) ওরা করেছে তো। সেই অভ্যাস তাদের আছে। সেজন্য তারা এই কথা মনে করে।
“আমরা কোনো দিবা স্বপ্ন দেখি না। আমরা স্বপ্ন দেখি একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের, আমরা স্বপ্ন দেখি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার, আমরা স্বপ্ন দেখি সত্যিকার একটা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার।”
‘আওয়ামী লীগও রাজপথে নামবে’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ওখানে তো কোনো আপত্তি নাই। উনাদের সেই গণতান্ত্রিক অধিকার আছে রাজপথে নামতেই পারেন।
“কিন্তু একই সঙ্গে সমস্ত বিরোধী দলকে তাদের সমস্ত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে- এটা সরকার হিসেবে তাদের দায়িত্ব।”
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকাল ৪টায় প্রথমে জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং বিকাল ৫টায় ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেমের সঙ্গে দলীয় নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসেন বিএনপি মহাসচিব।
দুই বৈঠকেই তার সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সংলাপে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের প্রতিনিধিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, শামসুল আহাদ, সারোয়ার আলম, লুতফুল হাবিব, মাসুদ চৌধুরী, সাইফুল আলম রুমেল, শহীদ আলী, বেলায়েত হোসেন শামীম, আতিকুর রহমান ও মো. রফিকুল ইসলাম।
আর ইসলামিক পার্টির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- এজাজ হোসেন, সিদ্দিক আহমেদ নোমান, সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, আদেল উদ্দিন মাহমুদ, সুজন মাহমুদ ও সাইফুর রহমান।
আরও পড়ুন