Published : 27 Jul 2023, 02:24 PM
বিএনপির মহাসমাবেশের আগের দিনেই নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভিড় করতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা; পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যালয়ের দুই পাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার কর্মদিবসে সড়কে কোনো জটলা সৃষ্টি করা যাবে না। বিএনপির কার্যালয়ের অফিস কর্মীরাও সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের ভিড় না করতে অনুরোধ করছেন। তারপরও সেখানে উৎসুক নেতাকর্মীরা জটলা করছেন।
বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যালয় এসে নেতা-কর্মীদের চলে যেতে বলেন। মহাসমাবেশ যেহেতু শুক্রবার, সেদিন দুপুরে আসার জন্য বলেন।
বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন দেখা যায়। সাজোঁয়া যান, জল কামান ও প্রিজন ভ্যানও দেখা যায় নয়া পল্টনের সড়কে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি রওশনুল হক সৈকত বলেন, “আজকে অফিস ডে। এই সময়ে ব্যস্ত রাস্তায় মানুষজন সমবেত হলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে। যাতে মানুষের দুর্ভোগ না হয় সেজন্য আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। এখানে কেউকে জটলা করতে দেব না আমরা।”
বিএনপির এই মহাসমাবেশ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার। সেজন্য নয়া পল্টন অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চেয়েছিল দলটি। এর পাল্টায় আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটেই শান্তি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার কার্যদিবস হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কোনো দলকেই অনুমতি দিচ্ছিল না। বিএনপিকে সমাবেশের জন্য গোলাপবাগ মাঠ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল পুলিশের তরফ থেকে।
এ পরিস্থিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি এক দিন পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়।
বুধবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন, বৃহস্পতিবার নয়, তারা মহাসমাবেশ করবেন শুক্রবার বেলা ২টায়। আর সেটা নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই হবে।
তখন যুবলীগও জানায়, তাদের তিন সংগঠনের শান্তি সমাবেশ একদিন পিছিয়ে শুক্রবার বিকাল ৩টায় নেওয়া হয়েছে। শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে সেই কর্মসূচি হবে।
তবে বৃহস্পতিবার আবারও সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে যুবলীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান নিখিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে শান্তি সমাবেশ করার জন্য আবারও অনুমতি চেয়েছি। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতিও নিচ্ছি। বিকাল ৩টায় সমাবেশ হবে।"
জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এখনও কোনো পক্ষকেই তারা সমাবেশ করার অনুমতি দেননি।
এদিকে মহাসমাবেশ পেছানো হলেও শুক্রবার সকাল থেকেই নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জগো হতে শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বেলা ১০টা থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা সেখনে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
সেখান থেকে তাদের সরাতে পুলিশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। দুই দফা তারা নেতা-কর্মীদের সরাতে এগোতে থাকলে নেতা-কর্মীরা ফকিরেরপুলের চলে যায়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাবসিবল গেইটও সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ের কর্মী শামীম আহমেদ বলেন, “অফিসের নির্দেশনা আছে, কেউ যেন অফিসে না ঢোকেন। সেজন্য গেইট বন্ধ রাখা হয়েছে।”
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, আবদুর সালাম আজাদ, নাজিম উদ্দিন আলম, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে আসেন।
জামালপুর থেকে আসা ছাত্রদল কর্মী হাবিবুর রশীদ বলেন, “দুই দিন আগে ঢাকায় আসছি। বিএনপির অফিস মানে আমার বাড়ি আসছি। এখানে দাঁড়াতে পারব না.. এটা কেমন কথা!”
নোয়াখালী থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী শারমিন সুলতানা বলেন, “আমরা তো কোনো যানবাহনে বাধা দিচ্ছি না। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে একটু স্লোগান দিচ্ছি… আমার নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি… এতেই পুলিশ ক্ষেপে উঠেছে। পুলিশের মত প্রতিষ্ঠানে এমন আচরণ করা ঠিক হচ্ছে?”
ঢাকার সূত্রাপুর থেকে আসা আবিদ আলী বলেন, “মহাসমাবেশ উপলক্ষে মানুষে ঢাকায় এসেছে। কালকে সমাবেশ হবে সেজন্য দেখতে এসেছি বন্ধুদের নিয়ে। এখানে পুলিশ যেভাবে আমাদের ধমক দিচ্ছে, যেন আমরা কোনো অপরাধ করেছি। এটা তো ঠিক না।”
আরও পড়ুন
পুরানো খবর:
দুই দলের সমাবেশই এক দিন পেছাল