২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সিদ্ধান্ত বদল, বায়তুল মোকাররমেই সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগের ৩ সংগঠন

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলছেন, পুরাতন বাণিজ্য মেলা এলাকায় অন্য কর্মসূচি থাকায় সেখানে অনুমতি মেলেনি।

সিদ্ধান্ত বদল, বায়তুল মোকাররমেই সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগের ৩ সংগঠন

এর আগে গত ১২ জুলাই নয়া পল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2023, 01:31 PM

Updated : 27 Jul 2023, 01:31 PM

শান্তি সমাবেশের তারিখ একদিন পেছানোর পর কর্মসূচির স্থান বদলে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটেই শুক্রবারের সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান নিখিল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে শান্তি সমাবেশ করার জন্য আবারও অনুমতি চেয়েছি। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ এই তিন সংগঠন এখানেই সমাবেশ করব। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতিও নিচ্ছি। বিকাল ৩টায় সমাবেশ হবে।"

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকায় ‘মহাসমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি, যারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থকে হটাতে এক দফার আন্দোলনে রয়েছে।

এরপর যুবলীগ তাদের সোমবারের ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’ সমাবেশ পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটি পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপির ‘অরাজকতা’ সৃষ্টির চেষ্টা ঠেকাতে তারা মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরে যুবলীগের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে জানায়, বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ ফটকে তারা দুপুর থেকে ‘শান্তি সমাবেশ’ করবে।

অন্যদিকে বিএনপি নয়া পল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ে সামনে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে থাকে। সেখানে না হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বিকল্প স্থান হিসেবে দেখায় তারা।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণায় পুলিশ কাউকেই অনুমতি দিচ্ছিল না। বুধবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবার যেহেতু কর্মদিবস, সে কারণে নয়া পল্টন কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দিতে চান না তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোকেও অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিএনপিকে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ করার পরামর্শ দেয় পুলিশ, যদিও তাতে দলটির মত ছিল না। তেমনি যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগও বিকল্প স্থান দেখতে থাকে।

জনভোগান্তি সৃষ্টি করে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পুলিশকে এ ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাববেন বলে হুঁশিয়ার করেন ডিএমপি কমিশনার।

লিখিত অনুমতি চেয়েও পুলিশের সায় না পাওয়ায় বিকালে বৈঠকে বসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তারা সমাবেশ একদিন পিছিয়েছেন। শুক্রবার বেলা ২টায় নয়া পল্টনে তাদের পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ হবে।

এদিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে অনুমতি না পেয়ে বৃহস্পতিবার সমাবেশের জন্য ঢাকা মহানগর নাট্য মঞ্চ কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ বিকল্প স্থান হিসেবে ভাবনায় ছিল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠনগুলোর নেতাদের।

তবে বিএনপি সমাবেশের দিন পিছিয়ে দেওয়ার পর যোগাযোগ করা হলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের কর্মসূচিও একদিন পিছিয়ে শুক্রবার বিকাল ৩টায় নেওয়া হয়েছে। শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে তাদের শান্তি সমাবেশ হবে।

নিখিল বলেছিলেন, “মূলত রাজধানীতে যাতে কোনো ধরনের অরাজকতা না হয়, সেজন্যই আমরা তারিখ পরিবর্তন করেছি।”

তবে পরদিনই সে সিদ্ধান্ত তারা পরিবর্তন করায় রাজধানীতে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে প্রতিদ্বন্দ্বী এ দুই পক্ষের সমাবেশ হবে শুক্রবার।

এর আগে গত ১২ জুলাই নয়া পল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করে।

সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "পুরাতন বাণিজ্য মেলা এলাকায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে মহামান্য রাষ্ট্রপতির একটি কর্মসূচি থাকায় এসএসএফ পারমিশন দেয় নাই, সে কারণে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মসূচি পুরাতন বাণিজ্য মেলায় করতে পারছে না।"