Published : 10 Sep 2026, 06:42 PM
পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী র্যাব বিলুপ্ত করার পরিবর্তে এর যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিতর্ক হওয়ার কথা বলেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
জাতীয় সংসদে তিনি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন নেত্রকোণা-৪ আসনের বিএনপির এ সংসদ সদস্য।
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে র্যাব গঠনের সময় বাবরের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার প্রসঙ্গ তোলেন।
র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা মূলত গত ১৫ বছরে র্যাবের কর্মকাণ্ড দেখছেন। কিন্তু এর আগে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাহিনীটির ভূমিকার কথাও মনে রাখা উচিত।
তিনি বলেন, “এখন আমাদের র্যাবের মতো একটা সংগঠন এই দেশের অত্যন্ত প্রয়োজন। এই কারণে প্রয়োজন, অত্যন্ত দক্ষতার সাথে, সততার সাথে, নিষ্ঠার সাথে র্যাব কার্যক্রম পরিচালিত করেছিল।”
তার দাবি, বিএনপি সরকারের সময় র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।
সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তখনকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এক ঘণ্টার জন্যও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে র্যাবকে পরিচালিত করা হয়নি।”
র্যাব বিলুপ্তির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের কথা বলেন তিনি।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার যখন কথা হয়েছিল, উনি তখন বলেছিলেন র্যাব বিলুপ্ত করতে হবে। কিন্তু আমি ওনার সাথে অনেকক্ষণ আর্গুমেন্ট করেছিলাম যে র্যাবকে বিলুপ্ত করাটা ঠিক হবে না।”
এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আর কথা হয়নি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি বুঝি, র্যাবের মতো একটা সংগঠন দরকার। সেই কারণে হয়তো র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামে যেটা, সংগঠনটা আসছে, এটা প্রয়োজন।”
দেশে বোমা হামলা এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিশেষায়িত বাহিনী দরকার।”
র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোও অস্বীকার করেননি তিনি।
নিজেকে র্যাবের ‘সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের একজন’ দাবি করে সরকারি দলের এই এমপি বলেন, “র্যাবের যে দুষ্কর্মের কথা, সেটা তো আমরা...যদি আপনি বলেন সবচেয়ে বড় ভিকটিম, আমি। যখন ২৮ মে ২০০৭ সালে ধরে নিয়ে যায়, তখন একটা মিথ্যা অস্ত্র দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যায়।”
তিনি বলেন, “কোনো বাহিনী কেমন আচরণ করবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ওপর।”
এসআরবির ক্ষেত্রেও সরকার রাজনৈতিক ব্যবহার করবে না বলে আশ্বস্ত করেন লুৎফুজ্জামান বাবর।
এসআরবিকে সমর্থন করার জন্য বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
নেত্রকোণার এ সংসদ সদস্য বলেন, “এই মুহূর্তে আপনারা এটাকে অ্যালাও করেন। আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, পরবর্তীতে আপনাদের পক্ষ থেকে যদি কোনো কারেকশন থাকে, সেটা উনি অ্যামেন্ডমেন্ট করে দেবেন।”
এর আগে বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য বলেছেন, র্যাবের জনবল, সম্পদ, নথিপত্র ও স্থাপনা নতুন এসআরবিতে হস্তান্তরের প্রস্তাব থাকায় এটি কার্যত শুধু নাম পরিবর্তন হতে পারে।
তারা বিলটি আরও যাচাই-বাছাই এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান।