ইসির ইভিএম কেনার প্রকল্প যেন মগের মুল্লুক: ফখরুল

মির্জা ফখরুলের ভাষায়, এদেশে কোনো ‘জবাবদিহি করতে হয় না’, সে কারণেই ইসির এমন প্রকল্প।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Sept 2022, 11:41 AM
Updated : 21 Sept 2022, 11:41 AM

নির্বাচন কমিশনের আরও ২ লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন কেনার প্রকল্পকে ‘জাতির সঙ্গে মস্করা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “আপনারা দেখেন যে, কী রকম মস্করা হচ্ছে জাতির সঙ্গে। যেখানে মানুষ নির্বাচন চাচ্ছে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, যেখানে ইলেকশন কমিশনকে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল বলেছে যে, তারা ইভিএম চাই না। প্রায় সবগুলো, একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া।

“সেখানে তারা (ইসি) আজকে একশ পঞ্চাশটি আসনের জন্য আরও ইভিএম মেশিন কিনতে ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা চেয়েছে। মগের মল্লুক। কারণ এদেশে তো কোনো জবাবদিহি করতে হয় না।”

বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি প্ল্যানিং কমিশনের মিটিংয়ে খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, যে এখানে বেশিরভাগ যে প্রজেক্ট তৈরি করা হয়, সেই প্রজেক্ট তৈরি করা হয় চুরির জন্য এবং দেখা যায় যে বিশাল ফারাক বাস্তবতার সঙ্গে।

“এখানে কোনো পর্যালোচনা পর্যন্তও করা হয় না, এখানে মধ্যরাতে ঋণ চুক্তি করা হয়। এই হচ্ছে সার্বিক অবস্থা।”

আওয়ামী লীগ দেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত করেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আসলে তো কোনো সরকার নাই। দেয়ার ইজ নো গভার্নেন্স। এরকম একটা ভয়াবহ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে এই আওয়ামী লীগ দেশটাকে।

“যেটা আমরা জীবনে কোনোদিন… নজরুল ভাই বসে আছেন, আমরা বসে আছি, এই দেশটার স্বাধীনতার সংগ্রামের সাথে আমাদের একটা সম্পর্ক আছে। আমরা কোনোদিন কল্পনাও করি নাই, চিন্তাও করি নাই যে, এই দেশ আমাদেরকে একদিন দেখতে হবে।”

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় দুই লাখ ইভিএম কেনা এবং আগেরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ প্রকল্পে মোট ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

‘পুলিশ হয়রানি করছে’

মির্জা ফখরুল বলেন, “লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার নামে হয়রানি করছে এবং দেশে বিরাজমান পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে।

“বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ রাজনৈতিক কর্মীদের একজনের কাছ থেকে অন্যজনের তথ্য সংগ্রহেও লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহের কমিটির তালিকাও তারা সংগ্রহ করছে।”

পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধান, ফৌজদারি কার্যবিধি, পুলিশ আইন বা পুলিশ বিধি কিংবা অন্য কোনো আইন দ্বারা কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

তার ভাষ্য, “এটা এক দিকে যেমন নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, অন্যদিকে তেমনি নাগরিকের আইনি অধিকার ভোগ করা এবং তার ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে প্রতীয়মান হয়, যা সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

“চলমান অবস্থায় এটা প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ বিএনপিসহ ভিন্নমতালম্বীদের দমনের উদ্দেশে তাদের গণহারে শুধু নাম ঠিকানা নয়, তাদের পেশা, সন্তান-সম্পত্তির বিবরণসহ চৌদ্দ গোষ্ঠীর যাবতীয় বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে ‍যা দেশের বিরাজমান আতঙ্কের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে।”

জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আন্দোলনে নেতাকর্মীদের ‘উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায়’ পুলিশ এমন কর্মকাণ্ড শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, “…পুলিশের কাছে আমরা মামলা করলে সেটা খারিজ হয়ে যায়। পল্লবীতে হামলার ঘটনায় আমরা যে মামলার আবেদন করেছি, সেটা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আর আমাদের ছেলেদের বিরুদ্ধে তারা (আওয়ামী লীগ) যে মামলা করেছে ওটার আবার তদন্ত শুরু হয়েছে। ৩৯টা মামলার বিচার শুরু হয়েছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ তার সহধর্মিনীর ওপর ‘হামলার’ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে নিন্দা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

আরও খবর

Also Read: ইভিএম কিনতে ইসির ৮৭১১ কোটি টাকার প্রকল্প চূড়ান্ত

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক