Published : 20 Mar 2015, 01:24 PM
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে আসা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন তা দেখার অপেক্ষায় তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাড়া পেলেই নির্বাচনের ময়দানে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন তার এই উপদেষ্টা।
তবে দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি ‘আল্লাহর ইচ্ছা’, ‘ব্যক্তিগত ভাবনা’ ও ‘জনগণের চাওয়া’ বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাঁচ বছর আগে ‘রাজনৈতিক গুরু’ আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র হওয়া মনজুর।
গত বছরের ১৯ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেয়র নির্বাচনে আবার লড়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন মনজুর আলম।
চলতি মাসের শুরু থেকেই সিসিসি নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা, তফসিল ঘোষণা আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হলেও চুপ ছিলেন বর্তমান মেয়র।
গত কয়েক দিনে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্যই করেননি তিনি। গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে এক বৈঠকে চট্টগ্রামে দলের প্রার্থী নিয়ে অলোচনা করেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার রাতে গণভবনে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি।
এরইমধ্যে শুক্রবার নির্বাচন নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেন মনজুর আলম।
তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত হলে নির্বাচনের বিষয়ে ভাবব। ম্যাডামের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।
“নির্বাচন করব কি না সেজন্য আল্লাহর ইচ্ছা, জনগণের চাওয়া, দলের সমর্থন এবং ব্যক্তিগত ভাবনা প্রয়োজন। পাঁচ বছর নগরবাসীর সেবার মানসে কাজ করেছি।”
মনজুর আলম বলেন, “পাঁচ বছরের কাজের মূল্যায়ন জনগণ করবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
১৯৯৪ সাল থেকে পরপর তিনবার নগরীর ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মনজুর।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন মনজুর আলম।

ফাইল ছবি
নির্বাচনের আগে ঢাকায় গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন।
নির্বাচন কাছাকাছি এলে মনজুরের প্রতি বিএনপির সমর্থন স্পষ্ট হয়, প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে মহিউদ্দিনকে পরাজিত করে মেয়র হন তিনি।
বিজয়ী হওয়ার বছর খানেক পর খালেদার উপদেষ্টার পদ পেলেও নগর বিএনপির রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় নন বলে দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে গত তিন দিন ধরে নগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দিন দুয়েকের মধ্যেই সিসিসি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
বিএনপি নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিলে মেয়র প্রার্থী কে হবেন সে বিষয়ে দলীয় ‘হাই কমান্ডই’ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দলের মধ্যে দুই ধরনের মত রয়েছে। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ জানানো হবে।
গত বুধবার রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ এপ্রিল ওই তিন করপোরেশনে ভোট হবে, প্রার্থীদের মনোনায়নপত্র জমা দিতে হবে ২৯ মার্চের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার থেকে তিন সিটি করপোরেশনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে।