১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’: পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

বিডিনিউজ২৪

কাজী মোবারক হোসেন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jul 2026, 07:10 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”

এর ঘণ্টাখানেক পর জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি নব্বই পরবর্তী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, যাকে মেয়াদ পূর্তির আগেই ইস্তফা দিতে হল।

বঙ্গভবনে ৩৯ মাসের দায়িত্বে সাহাবুদ্দিন দুটি জাতীয় নির্বাচন দেখেছেন। তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়িয়েছেন। নজিরবিহীন এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে একজন সরকারপ্রধানের দেশান্তরী হওয়ার সাক্ষী হয়েছেন।

গত সাড়ে তিন দশকে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এতটা ঘটনাবহুল আর বন্ধুর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়নি।

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রের একটি অনুলিপি সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ করেছে বঙ্গভবন। সেখানে তিনি অসুস্থতাকেই ইস্তফা দেওয়ার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক’ ভূমিকার কারণেই সাংবিধানিক বিপর্যয় এড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

বিষয়: রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ।

আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১২তম (হবে ২২তম) রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি

২৪/৭/২০২৪

ঝঞ্ঝামুখর ৩৯ মাস

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০২৩ সালে অবসরে যাওয়ার সময় তার উত্তরসূরি হিসেবে আওয়ামী লীগ যখন মো. সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়, অনেকেই তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, কারণ তিনি রাজনীতির অঙ্গনে সামনের সারির কেউ ছিলেন না।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাবনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসনের সময় রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দিও হন।

পরে আইন পেশায় যোগ দেন। বিচার বিভাগে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন।

তখন দেশের মানুষ তাকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নামে চিনত। ওই নামে তিনি সংবাদপত্রে কলামও লিখতেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার নামের সঙ্গে ডাকনামের অংশটি ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। 

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক; এর বাইরে পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদকালের প্রথম বড় রাজনৈতিক ঘটনা। ১১ জানুয়ারি তার কাছেই শপথ নেন টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে।

হাসিনা আমলের কোনো কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও অনিবার্য পরিণতির মত বঙ্গভবনে থেকে যান মো. সাহাবুদ্দিন। তাকেই সংসদ বিলুপ্ত করার আদেশ দিতে হয়। ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট তিনিই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়ান। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে অধ্যাদেশে পরিণত করতে তাকেই সই দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু ওই বছরের ১৯ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো ‘দালিলিক প্রমাণ’ তার কাছে নেই।

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে। বঙ্গভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়।

তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আর সে পথে যায়নি।

তবে সব মিলিয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছিল রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে থাকা সাহাবুদ্দিনের। নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।”

সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে সরাসরি যোগাযোগ করে কখন পদত্যাগ করতে চান জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “নতুন সরকার আসলে… নতুন সরকার বললে, অনুরোধ করলে।”

কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এর পরের পরিস্থিতি মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য অনেকটা সহনীয় হয়ে আসে।

নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নানা ‘চক্রান্ত’ হয় দাবি করে তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ‘চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা’ হয় সে সময়।

“আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। যে কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। বিশেষ করে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে,” বলেছিলেন সাহাবুদ্দিন।

তার সেই দুঃসময়ে বিএনপির কাছ থেকে ‘শতভাগ সমর্থন’ পাওয়ার কথাও বলেছিলেন তখনকার রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি বলেছিলেন, “আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তারা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।

“বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।

রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার অবস্থান এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

তখনও বিএনপির মন্ত্রী-এমপিরা সংবিধানের বিধানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পক্ষে কথা বলেন।   

হঠাৎ পদত্যাগ

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে ঘুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই অস্ত্রোপচারের ফলোআপ পরীক্ষা করাতেই তিনি যুক্তরাজ্যে যান।

১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। এরপর তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

নয় দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল।

গত দেড় মাসে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা দেশের রাজনীতির অঙ্গনে ছিল না। গত ২২ জুলাই প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে হঠাৎ করেই আবার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়।

সায়ের ফেইসবুকে লেখেন, “আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।”

এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বৃহস্পতিবার দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সে সুযোগ তার আছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো ‘পদক্ষেপ নেই’।

তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।

চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে গিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার ফেরার জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল।

সংবিধানের নিয়ম হল, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারকে দায়িত্ব নিতে হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সে কারণে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে স্পিকারকে শুক্রবার দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়। শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে দেশে ফেরেন স্পিকার।

এরপর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে নিজেই পদত্যাগের কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রপতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”  

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।”

এরপর বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পাশাপাশি নিজে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন।

সাহাবুদ্দিনের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে স্পিকার বলেন, তিনি ‘মাফিয়া সরকারের আমলে’ নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রের সঙ্গে চিকিৎসকের সনদ বা কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজ দেওয়া হয়েছে কি না, একজন সাংবাদিক জানতে চান। জবাবে হাফিজ বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজেই তার রোগগুলোর নাম লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এর জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নাই।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে দেশের জন্য গুরুতর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে স্পিকার বলেন, “একজন মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হতেই পারেন। এর আগেও বিভিন্ন কারণে রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন।”