০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের দলে ভেড়াতে চায় আ. লীগ

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার দুপুরে দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের গুলশানের বাসায় সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আওয়ামী লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ আগ্রহের কথা জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Sep 2008, 09:59 AM

Updated : 26 Aug 2022, 02:20 PM

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার দুপুরে দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের গুলশানের বাসায় সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আওয়ামী লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, "সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের দলে নিতে আওয়ামী লীগ আগ্রহী। আশা করছি, ইতিমধ্যে যেসব সাবেক সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন তারা আরও সক্রিয় হবেন।" আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাগত জানিয়ে আশরাফুল বলেন, "সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যেনো আওয়ামী লীগে যোগ দেয় সেজন্য আমি তাদের আহবান জানাচ্ছি। দেশ গঠনে আপনারা যেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন সেজন্য আওয়ামী লীগের দরজা আপনাদের জন্য সবসময় খোলা। আপনাদের অবদান মূল্যায়ন করা হবে।" এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তারা দেশের মানুষের জন্য কীভাবে কাজ করবেন সে বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। জিল্লুর রহমানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ, হোসেইন আহমেদ খান, মির্জা শামসুল ওয়াজেদ, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন শাহেদ উল্লাহ চিশতী এবং বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়ার্ডন লিডার মাসরুর ইল হক। এসময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক সেনা প্রধান এ কে এম শফিউল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ম সা আ আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অনুষ্ঠান শেষে শুক্রবার সৌদি রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে ইফতার পার্টিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হন দলটির নীতি নির্ধারকরা। জামায়াতের উপস্থিতিতে কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শুক্রবার সৌদি রাষ্ট্রদূতের বাসায় ইফতার পার্টিতে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফুল বলেন, ধর্মীয় মৌলবাদী রাজনৈতিক দল জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেতে আপত্তি নেই আওয়ামী লীগের। ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে এক না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা সৌদি রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে ইফতারের মতো একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবও ছিলেন। আমরা তো তার পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ি। একজন ইমাম যুদ্ধাপরাধী হলে কী আমরা তার পেছনে দাড়িয়ে নামাজ পড়বো না?" সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, "সৌদি আরব আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ। কয়েকদিন আগে সৌদি রাষ্ট্রদূত আমাদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঙ্গে দেখা করে গেছেন। সৌদি রাষ্ট্রদূত তো আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কাউকে দাওয়াত দেননি।" বিজয় দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল বলে আওয়ামী লীগ সে অনুষ্ঠান বর্জন করে। তাহলে জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে সৌদি রাষ্ট্রদূতের দাওয়াতে তারা কেন গেলেন- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধীরা গেলে সেখানে আওয়ামী লীগ যাবে না।" আগামীতে বিভিন্ন মুসলিম দেশের দূতাবাসে জামাতের উপস্থিতিতে ইফতারের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে কিনা জানতে চাইলে দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, "আগে দাওয়াত আসুক, তারপর দেখা যাবে।" ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, বিএনপি'র মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের পরও জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আমির হোসেন আমু বলেন, "এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আর কুটনীতিক দাওয়াত হলে তো আমরা বর্জন করতে পারি না।" বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এএল/জিএনএ/১৫৪৯ ঘ.