কানাডার ফ্লাইট ‘বেগমপাড়ার’ জন্যই: ফখরুল
অলাভজনক জেনেও শুধু ‘বেগমপাড়ায়’ যাতায়াতকারীদের জন্যই ঢাকা-কানাডার ফ্লাইট চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সোমবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে টরেন্টো (কানাডা) সরাসরি ফ্লাইট করেছে, একটা ট্রায়াল ফ্লাইট হয়েছে; এখন চালু করবে। গতকালই বিমানের যারা কর্মকর্তা আছেন তারা বলছেন যে, এই ফ্লাইটটা কেন করা হলে, আমরা জানি না। কারণ এটা কোনোমতেই ভায়াবেল ফ্লাইট নয়।
“করা হয়েছে একটা কারণেই। বেগমপাড়াতে যারা যাতায়াত করেন, তাদের সুবিধার জন্য অথবা সরাসরি এখান (বাংলাদেশ) থেকে পাচার করার জন্য, সুটকেইসে ভরে, ট্রাংকে ভরে পাচার করার জন্য।”
গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ঢাকা থেকে সরাসরি কানডায় বিমানের পরীক্ষামূলক ফ্লাইট যায়।
এই ফ্লাইট নিয়ে বিএনপি নেতারা আগেও ‘বেগমপাড়ার’ সন্দেহের কথা বলছিলেন। বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে নিয়ে কানাডায় বাড়ি কেনার এলাকা ‘বেগমপাড়া’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। যারা পাচার করেছেন, তারা স্ত্রীদের নামে বিদেশে সেই সম্পদ কিনেছেন বলে এমন নামকরণ।
গত বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, যাদের তথ্য পাওয়া গেছে, তার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি। এছাড়া রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীও রয়েছে।
ফখরুল বলেন, “সেই দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। এটার কোনো জবাবদিহিতা নেই। পার্লামেন্টে এসব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না। কারণ এই পার্লামেন্টে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই।”
দেশের এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, “এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে একটাই মাত্র পথ, সেই পথ হচ্ছে এদেরকে জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই তাদের সরাতে হবে, তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।”
পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ক্ষোভ
মির্জা ফখরুল বলেন, “গত পরশু পুলিশের একটা অনুষ্ঠানে পুলিশের আইজি ও পুলিশ কমিশনার কিছু কথা বলেছেন- আমরা বিস্মিত হয়েছি, ক্ষুব্ধ হয়েছি। কী করে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তারা এই ধরনের সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক অশালীন এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত কথা বলতে পারেন; এটা আমরা চিন্তা করতে পারি না।
“…যে সরকারি কর্মকর্তা যাদের রাজনৈতিক কথাবার্তা বলা একেবারেই কনডাক্টের বাইরে সেখানে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী এবং যিনি স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী, যিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রাজনীতির মধ্যে, এখনও গণতন্ত্রের জন্য গৃহবন্দি হয়ে আছেন। তার সম্পর্কে এই ধরনের অশালীন উক্তি করতে পারে!”
চাকরিবিধির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফখরুল বলেন, “আমি ভাবতে পারি না- এরা শিক্ষিত মানুষ! বড় পদে আছেন, তাদের মুখ থেকে যখন এই ধরনের কথা আসে; তখন সেই চাকরি সম্পর্কে, সেই সরকার সম্পর্কে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আমাদের একটা ধারণা তৈরি হয়।
“আমি গতকালও বলেছি, আপনারা মনে করবেন না যে আওয়ামী লীগই শেষ। অবশ্যই পরিবর্তন হবে এবং সেই পরিবর্তনে আপনাদেরকে এই জবাবদিহি করতে হবে।”
র্যাবের উপর যুক্তরাষ্ট্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফখরুল বলেন, “এখন তাদেরকে (সরকারি কর্মকর্তা) বলতে চাই, সরকারের বেআইনি হুকুম মানবেন না। বেআইনি হুকুম মানলে আপনাদের ওই অবস্থায় (নিষেধাজ্ঞা) পড়তে হবে।”
‘অ্যাসোসিয়েশনের অব ইঞ্জিনিয়ার্স-অ্যাব’ আয়োজিত এই সভায় অ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনহ আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান চুন্নুর সঞ্চালনায় পেশাজীবী নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, কাদের গনি চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন বকুল, রফিকুল ইসলাম, আবদুল হালিম, ফখরুল আলম, অ্যাবের সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজু, সাধারণ সম্পাদক হাছিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
