Published : 30 Dec 2018, 09:36 PM
রোববার ভোটের পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ওআইসি থেকে একটি শক্তিশালী দল এসেছেন এখানে পর্যবেক্ষণের জন্য, কমনওয়েলথের, ভারতীয়রা আছেন এবং তারা অত্যন্ত খুব নামীদামী লোকজন, প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং অবজারভার। তারা সবাই আমাদের বাংলাদেশের আজকের যে নির্বাচন হল তার প্রশংসা করেছেন।
“তারা বলেছেন, অত্যন্ত সুন্দর সুষ্ঠু এবং সুচারুভাবে এই নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে এবং সেজন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।”
এইচ টি ইমাম বলেন, “দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু সুচারু এবং অবাধ, সেই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন নির্বাচন যে সম্ভব সেটি প্রমাণ হয়েছে।”
গণমাধ্যম এবং দলীয় সূত্র থেকে আসা বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও মহাজোট বিপুল ভোটের ব্যবধানে অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করবে।”
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে ‘জনগণের রায় প্রতিষ্ঠা করার’ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
ভোট গণনা শুরুর পর ফলাফল আসা শুরু করলে শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এখন আনন্দ মিছিল করার সময় নয়, দেশ শাসনের সময়।”
দলীয়প্রধানের নির্দেশের রেশ টেনেই এইচ টি ইমাম বলেন, “…কাজেই কোনো জায়গায় কোনোভাবে কেউ কোনো আনন্দ মিছিল বের করবেন না।”
আওয়ামী লীগ সরকারের বিপরীতে ভোটের আগে বিএনপিকে নিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন ইতোমধ্যে ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃভোটের দাবি তুলেছেন ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘এ নির্বাচন জাতিকে ভবিষ্যতে সমস্যায় ফেলবে’ বলে তিনি মনে করেন।
ফখরুলের বক্তব্যের পাল্টায় এইচ টি ইমাম বলেন, “মির্জা ফকরুল সাহেব এবং তার দলের সবাই বলেছেন তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি সাময়িক কৌশল। কৌশলগত কারণে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।
“যে কারণে আপনারা দেখেছেন ঢাকা শহরে কোথাও বিএনপির পোস্টার নেই। এত বড় একটি দল, যাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা আছে, তাদের কোনো পোস্টার নেই, অনেকে অবাক হয়েছেন।”
সম্প্রতি বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে ‘আইএসআই ও জামায়াত এজেন্টদের’ কথিত টেলি কথোপকথন ফাঁস হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, “সৌভাগ্যবশত আমরা তাদের অনেক ফোনআলাপ এবং বিভিন্ন আলাপচারিতাসহ অনেক কিছু আগেই ধরে ফেলেছি।”
এবার নির্বাচনে বিএনপির ‘বড় বড় ভালো নেতৃবৃন্দ’ মনোনয়ন পাননি মন্তব্য করে এইচ টি ইমাম বলেন, “এতে অনেকেই শুধু মর্মাহত হননি, দুঃখ প্রকাশ করেছেন একেবারে প্রকাশ্যে।
“যেমন সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রামে মোরশেদ খানের মত ব্যক্তি, নারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকারের মত ব্যক্তি গণমাধ্যমে বলেই ফেলেছেন, তাদের কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছিল।”
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে এইচ টি ইমাম প্রশ্ন রাখেন, মনোনয়নের জন্য কোনো নির্বাচনে এ ধরনের নিলাম হয়?
“সে নিলাম এদেশে হয়নি, হয়েছে লন্ডন থেকে। ওখান থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে আপনি এত টাকা দেবেন। যিনি বলেছেন ‘আমি সবচেয়ে বেশি দেব’, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
“যার ফলে তাদের অনেক জায়গায় কোনো এজেন্ট নেই, পোস্টারও নেই। তারা নির্বাচনকে অন্যভাবে নিয়েছেন, নির্বাচনকে তারা গুরুত্বই দেননি।”
অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।