Published : 19 Jan 2026, 01:26 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যখন বাছাই হয়, তখন কিছু সমস্যা থাকে; এটা নতুন কোনো ব্যাপার না। আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি যে, মোটামুটিভাবে তারা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে।
“আমাদের যে সমস্যাগুলো দুই-একটা আমরা মনে করেছি, সেটা আমরা গতকাল তার (সিইসি) সামনে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।”
সোমবার সকালে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে এ মন্তব্য করেন ফখরুল।
ভোটে সমান সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের নেই।”
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি গঠন করেন।
১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যু হলে তাকে স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ আমরা কবর জিয়ারত করতে এসেছি, শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। একইসঙ্গে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।

“তার পাশেই শুয়ে আছেন আরেকজন ক্ষণজন্মা অপরাজেয় মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি তার সারাটা জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অমর নাম। যে নাম প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করতে হয়। যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেছিলেন।
“বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটা বটোমলেস বাস্কেট থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আমরা বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর স্মরণ করি, তার অনুসৃত যে পথ, সেই পথে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে শপথ গ্রহণ করি।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে যখন ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে, একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে; তখন আবার নতুন করে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমরা আজকে এখানে শপথ নিয়েছি।
“এই শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি এবং এর সমস্ত অঙ্গসংগঠনের শহীদ জিয়ার আদর্শ সেই আদর্শকে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করব, এই শপথ আমরা এখানে নিয়েছি।”
এদিন সকাল ১১টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে তারা জিয়াউর রহমান এবং পাশে শায়িত দলের চার দশকের প্রধান খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজ আলী, হেলেন জেরিন খান, শাহ নেছারুল হক, এসএম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
পরে বিএনপি মহানগর, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ছাত্রদল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।