Published : 29 Dec 2025, 10:04 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হচ্ছে সোমবার; এদিনই বেশিরভাগ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রোববার পর্যন্ত ৩ হাজার ১৪৪টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে; এরমধ্যে ১১৬টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান; জামায়াত আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অধিকাংশ দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহে প্রার্থীদের সাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “এ পর্যন্ত সবাই আচরণবিধি অনুসরণ করছে। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ, পরিবেশও ভালো রয়েছে। এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।”
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ নিবন্ধিত ৫৮টি দলের এবার ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ভোট করতে পারছে না আওয়ামী লীগ।
দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলীয় প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে; আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকা লাগবে, অথবা সাবেক সংসদ সদস্য হতে হবে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জামানত ৫০ হাজার টাকাসহ প্রয়োজনীয় দলিলাদি, হলফানামা যুক্ত করতে হবে।
কোনোভাবেই পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি উপস্থিত হতে পারবেন না মনোনয়ন জমার সময়; মিছিল ও শোডাউনেও রয়েছে মানা।
এবার নির্বাচন পরিচালনায় ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি এএএম নাসির উদ্দিন। সেই অনুযায়ী, সোমবারই মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হচ্ছে।
মনোনয়নপত্র জমার সময় বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন।
“এখন যদি বড় দলগুলো, লিডিং পলিটিক্যাল পার্টির অনুরোধ করে তাহলে ১/২ দিন বাড়ানোর বিষয়টি চিন্তা করা যেতে পারে, এটা কমিশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে। তবে আমাদের এখনও কেউ অনুরোধ করেনি।”
• ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা
• মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
• মনোনয়নপত্র বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬
• রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ: ৫-৯ জানুয়ারি ২০২৬ (১৮ ডিসেম্বর সংশোধিত)
• কমিশনে দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি: ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ (১৮ ডিসেম্বর সংশোধিত)
• প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
• চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬
• নির্বাচনি প্রচারণা: ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের আশা
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, “তিন সহস্রাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ হয়েছে, বেশ ভালো। তবে তফসিল ঘোষণার পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটের আবহ অতীতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের মতো নেই।”
তিনি বলেন, “বিশেষ করে কিছু দল এখনও আন্দোলনে নানা দাবিতে; ৩ জানুয়ারি, ৯ জানুয়ারি কর্মসূচি রয়েছে, শাহবাগেও আন্দোলন চলমান।
“এসব দাবি দাওয়া, অতীতে কেয়ারটেকার সময়ে তফসিলের পর এ ধরনের কার্যক্রম দেখতে পাইনি। তফসিলের পর দলগুলোর একটাই এজেন্ডা ছিল নির্বাচন। এবার নতুন নতুন জিনিস দেখতে পাচ্ছি। ফোকাস নির্বাচন বাদ দিয়ে এসব কেন করছে, এটা কী ধরনের বার্তা দেয় জানি না; অস্বাভাবিক।”
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, “বড় দলগুলোর নেতাদের মধ্যে সন্দেহ, আন্দোলন; এখান থেকে বের হয়ে আসা উচিত। দলগুলোর মূল ফোকাস নির্বাচন হওয়া উচিত, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়।”
তিন সহ্রসাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে ‘ভালো সংখ্য’ বর্ণনা করে তিনি বলেন, “কাল দেখা যাক, কতজন জমা দেয়। মনোনয়নপত্র জমার সংখ্যাটা ভালো হলে প্রত্বিন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। এটাই আশা করছি।”
>>সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে বর্জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২৮টি দল অংশ নেয়। দলীয় ও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হতে ২ হাজার ৭৪১ জন মনোনয়নপত্র জমা দেয়। বিএনপিসহ ১৪টি দল ভোটের বাইরে ছিল।
>>একাদশ সংসদ নির্বাচনে বছর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিল ৪৯৮টি এবং দলীয় মনোনয়নপত্র ছিল ২ হাজার ৫৬৭টি। ওই সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৬১ জন। তাদের মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১৭৩৩ জন; বাকি ১২৮ জন স্বতন্ত্র।
>> দশম সংসদ নির্বাচনে ১২টি দল অংশ নিয়েছিল। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ১ হাজার ১০৭টি, বাছাইয়ের পর টিকে ছিলেন ৮৭৭ জন। ১৫৩টি আসনে একজন প্রার্থী ছিল বলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
>> দল নিবন্ধনের পদ্ধতি চালুর পর নবম সংসদ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ২৮টি দল; প্রার্থী ছিলেন ১৫৬৭ জন।
>> নিবন্ধন চালু হওয়ার আগে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৫টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ১৯৩৯ জন।
>> সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৮১টি দল অংশ নেয়, ২৫৭২ জন প্রার্থী ছিলেন।
>> ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ১৪৫০ জন প্রার্থী ছিলেন, দল ছিলেন ৪২টি।
>> পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ২৭৮৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, দল ছিলেন ৭৫টি।
>> চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ৮টি দল অংশ নিয়েছিল, প্রার্থী ছিলেন ৯৭৭ জন।
>> তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫২৭ জন প্রার্থী ছিল, দল ছিলেন ২৮টি।
>> দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ২১২৫ জন।
>> প্রথম সংসদ নির্বাচনে ১৪টি দল অংশ নেয়, ১০৯১ জন প্রার্থী ছিলেন।
সংসদ নির্বাচন: মনোনয়নপত্র সংগ্রহ-জমার সময় শেষ হচ্ছে সোমবার