Published : 02 Nov 2025, 06:29 PM
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন সংক্রান্ত আলোচনায় বিএনপির দাবির ‘পক্ষে’ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ‘ব্যক্তিগতভাবে অবস্থান’ নেওয়ায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি।
রোববার আইন উপদেষ্টাকে পাঠানো এক চিঠিতে দলটির ‘উদ্বেগ’ তুলে ধরেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আগে ভোটের সময় জোটভুক্ত হয়ে জনপ্রিয় বা বড় দলের প্রতীকে ভোট করার সুযোগ বাতিল করে গেল ২৩ অক্টোবর সংশোধিত আরপিও অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। সংশোধিত আরপিও অধ্যাদেশ আকারে জারি হলে দলগুলোকে নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যদলের প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের বিরুদ্ধে বিএনপিসহ কয়েকটি দল তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে ।
আরপিওর এই সংশোধনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে।
এদিকে সরকার আরপিও অধ্যাদেশের খসড়ায় আবার পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায়।
এ অবস্থায় আরপিও সংশোধনের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে আইন উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধন সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে দেওয়া আপনার ব্যক্তিগত আশ্বাস ও অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
“আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, একজন উপদেষ্টা হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ আইন উপদেষ্টা, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন। নির্বাচনি আইন সংশোধনের মতো বিষয়ে কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে এককভাবে আশ্বাস প্রদান করা জুলাই গণঅভুথান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদের নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতার পরিপন্থী।”
এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সংশোধনীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আখতার বলেন, “গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি হল, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা। যে দলের নামে জনগণ ভোট দেন, সেই দলই নির্বাচনের পর জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
“কিন্তু যখন একাধিক নিবন্ধিত দল বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করে, তখন ভোটার জানেন না, তিনি আসলে কাকে ভোট দিচ্ছেন। ভোটার যে রাজনৈতিক দর্শন, নীতি বা নেতৃত্বকে সমর্থন জানাতে চান, তা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এর ফলে ভোটার-দায়বদ্ধতার সম্পর্ক ভেঙে যায়।”
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করে এনসিপির ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন যে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অন্য কোনো দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না।
“কোনো যৌথ জোট বা জোটনির্ভর প্রার্থী মনোনয়নের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিকট নিবন্ধন করতে হবে।”
এনসিপির ভাষ্য, “এমন সংশোধন রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে সংকুচিত করবে না, বরং প্রকৃত গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদকে শক্তিশালী করবে। কারণ, এতে প্রতিটি দলকে নিজের নাম, নীতি ও নেতৃত্বের দায় নিজেকেই নিতে হবে। এটি ভোটারের অধিকার, রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম শর্ত।”
চিঠিতে দলটির সদস্য সচিব এই দুটি বিষয়ে সরকারকে অবস্থান স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছে।