Published : 15 Oct 2023, 09:28 PM
সরকার পদত্যাগের এক দফা আন্দোলনের ‘চূড়ান্ত পর্যায়ের কর্মসূচি’ ঠিক করতে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যসহ আরও চারটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি।
রোববার বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত আলাদা এই বৈঠকে বসেন বিএনপির নেতারা।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসব বৈঠকে লন্ডন থেকে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলো হচ্ছে, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদের দুই অংশ এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট-এনডিএম।
তবে কী কী ধরনের কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি।
গত বুধবার ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও লেবার পার্টির সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি।
আগামী জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট ধরে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির মধ্যে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া বিএনপি ও সমমান দলগুলো দুর্গা পূজা শেষে ‘কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার’ কথা বলছে।
বিএনপি ও সমমনাদের দাবি, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এরপর নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
দাবি পূরণ না হলে নির্বাচন করতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
এমন দাবির মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোট ও সমমনাদের বাদ দিয়েই হয় দশম সংসদ নির্বাচন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে আগেও আন্দোলনে যাওয়ার কথা জানিয়েও পরে ভোটে আসে বিএনপি ও সমমনারা।
তবে সেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি আবার তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে ফিরে গেছে। দলটি দাবি করছে, ২০১৪ সালে তাদেরকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা গেলেও এবার তার সেটি সম্ভব হবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বিএনপির দাবিকে পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না। তারা বলছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন হবে না। ভোটে আসা বা না আসা কোনো দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে “যেভাবেই হোক এ দেশে নির্বাচন হবেই। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে।”
জবাব দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “২০১৪ সালে যা করতে পেরেছেন, ২০১৮ তে যেটা করতে পেরেছেন, এবার সেই নির্বাচন আপনি করতে পারবেন না। কারণ, এবার মানুষ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে করে সেটা সম্ভব হবে না।”
বৈঠকে কারা ছিলেন
এসব বৈঠকে বিএনপির পক্ষে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের বৈঠকে ছিলেন সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সামছুল আলম, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির আবুল কালাম আজাদ, সাম্যবাদী দলের একাংশের হারুণ চৌধুরী, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের হারুন আল রশিদ খান।
নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন রাশেদ খাঁন, এরশাদ সিদ্দিকী, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, আরিফুল ইসলাম, মাজেদুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, খালিদ হোসেন।
রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে দলের নেতৃত্বে দেন ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ফারুক হাসান। ছিলেন হাবিবুর রহমান, জিসান মহসীন, সাদ্দাম হোসেন, আরিফুর রহমান তুহিন, মাহবুব তুহিন,মোহাম্মদ তারেক রহমান, শিরিন আখতার, মোজ্জম্মেল হক মিয়াজি।
এনডিএমের বৈঠকে ছিলেন ববি হাজ্জাজ, মোমিনুল আমিন, হুমায়ুন পারভেজ খান, ফারুক উজ জামান চৌধুরী, নুরুজ্জামান হীরা।