০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ: ‘বাধ্য হয়ে’ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার, বললেন শফিকুর

“কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ: ‘বাধ্য হয়ে’ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার, বললেন শফিকুর

শফিকুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 03:43 PM

Updated : 01 Oct 2026, 03:43 PM

রাড্ডা এমসিএইচের স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাধ্য হয়ে’ সরকার সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে নিতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “রাতের অন্ধকারে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় অবশেষে সরকার ও সরকারি দল বাধ্য হয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।”

১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সেখানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রায় দুইশ লোক দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে সেখানে ঢুকে একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। আর পাকা ভবনের আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষ, টিকা কক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের জানালা-দরজা ভেঙে ফেলা হয়।

ভবনটি থেকে সব ধরনের আসবাবপত্র, ওষুধসামগ্রী, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, আলমারি নিয়ে যায় হামলাকারীরা। সব মিলিয়ে পুরো স্থাপনাটির কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয় বলে রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

ফেইসবুকে জামায়াতের আমির লিখেছেন, “এত বড় অপকর্মের জন্য শুধু সাংগঠনিক পদক্ষেপ মোটেই যথেষ্ট নয়। কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায়।

“একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্বও সরকারকে পালন করতে হবে।”

হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

হানিফ মিয়া ছাড়াও ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার নাম আসে, যারা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য আসে।

২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন মিষ্টি। রাড্ডা সেন্টারের জমিটি ওই সমিতির নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য তখন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তাতে সভাপতি হিসেবে মিষ্টির সই ছিল।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ছোট বোন। তার স্বামী প্রয়াত সাইদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকার একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাড্ডায় হামলা-ভাঙচুরের পর সংসদ সদস্য মিষ্টি দাবি করেন, ওই সমিতির সঙ্গে এখন আর তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হামলা ও ভাঙচুরে ঘটনাতেও তার কোনো হাত নেই।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাড্ডার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংসদ সদস্য মিষ্টির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ওই ঘটনায় বিএনপির কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে।

এর আগে রাড্ডার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ প্রশাসন।

আরও পড়ুন:

রাড্ডাকাণ্ড: বিএনপির সংরক্ষিত এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ