প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের
সংগীত ও শরীর চর্চা শিক্ষকের দুটি পদ সৃষ্টি করে ২৮ অগাস্ট নতুন নিয়োগ বিধিমালা প্রকাশ করে সরকার।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালায় সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির সমালোচনা করে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
মঙ্গলবার ঢাকায় এক সেমিনারে তিনি বলেন, “লেখাপড়ার মানের অবনতির কারণে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে যাচ্ছে, বাচ্চাদের মানসিক ও আদর্শিক ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
“সরকার সে দিকে লক্ষ না করে গানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে।”
কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে চরমোনাই পীর হিসেব পরিচিত ইসলামী আন্দোলনের প্রধান বক্তব্য রাখছিলেন বলে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গেল ২৮ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের দুইটি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
রেজাউল করিম বলেন, “মানুষ বাচ্চাদের ছোটকালে ইসলাম শেখাতে চায়। ইসলামের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। সরকারের উচিৎ স্কুলগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। তারা সেটা করছে না।
“আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন প্রজন্ম গড়তে অবিলম্বে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে; না হয় দেশের মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”
এর আগে প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপকে ‘ইসলাম বিরোধী অ্যাজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিলের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটি এর বদলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগকে বিধিমালায় যুক্ত করার দাবি করে বলেছে, এতে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের কর্মসংস্থান ঘটবে।
দেশের মানুষ ইসলামের জন্য ‘মানসিকভাবে প্রস্তুত’ মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, “৫ আগস্টের পরে সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা যদি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারি, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে ধিক্কার দেবে। তাই উলামায়ে কেরামকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।”
পরগাছা হয়ে থাকলে কখনোই মূল গাছ হয়ে ওঠা যায় না মন্তব্য করে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, “এখন সময় ‘মূলগাছা’ হয়ে ওঠা। তাই যারা ইসলামী মূল্যবোধের কথা বলে, কিন্তু ‘দেশকে মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি দেয়, যারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দেয় তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা উলামায়ে কেরামের শানে মানানসই না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র সাহসের ‘উচ্চস্বরে ধমকের’ সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, “শিক্ষা জাতীর মেরুদণ্ড তবে তা সুশিক্ষা হতে হবে। সাম্প্রতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে একটা দলের নেতার যে আচরণ দেখলাম, তাতেই বোঝা যায় দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও সুশিক্ষা অর্জন হয় নাই।”
‘দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে’ জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি নুরুল হুদা ফয়েজী।
সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, ইউনুছ আহমাদ, খেলাফত মজলিসের নেতা আহমাদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জালাল উদ্দীন, জামায়াতে ইসলামীর খলিলুর রহমান মাদানী, রাবেতাতুল ওয়ায়েজিনের মাওলানা হাসান জামিল, আতাউল্লাহ আমীন, যোবায়ের আহমাদ, ইউসুফ সুলতান, আবদুল্লাহ মাসুম, আবদুল্লাহ আল-মাসউদ, মুহাম্মাদ সালমান, মোহাম্মদ আলী, সুলতান মহিউদ্দিন, সাকিবুল ইসরাম কাসেমী, এনামুল হক মূসা, মুহাম্মদ সারওয়ার হোসেন, শামসুদ্দোহা আশরাফী, আবদুর রাজ্জাক, কামাল উদ্দিন সিরাজ, ইউনুছ ঢালী, ওয়ালী উল্লাহ।
