১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোট মাথায় রেখে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি জামায়াতের

ঐকমত্য কমিশনে কিছু সমস্যা হচ্ছে, যে কারণে সমাবেশ করে তাদের বার্তা সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসী, এমনকি কমিশনকেও জানাতে চায় জামায়াত, বলেন পরওয়ার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jul 2025, 10:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:24 PM

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাথায় রেখে শনিবার ঢাকায় বড় আকারে সমাবেশ করার সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবিতে এই ‘জাতীয় সমাবেশের’ কর্মসূচি দিয়েছে দলটি।

সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, যিনি এই সমাবেশকে নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “স্থলপথ, নৌপথ ও রেলপথ সবদিক থেকে আমাদের লোকেরা সকাল থেকে…রাতেই ঢাকায় প্রবেশ শুরু করবে। আমাদের যে সাত দফা এবং আরও দফা জনগণের বাড়ছে। সমাবেশ যত এগিয়ে আসছে গণদাবি তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

সকল দফাই দলটির ‘জাতীয় নেতৃবৃন্দ’ সভামঞ্চ থেকে ঘোষণা করবেন বলেও জানান তিনি।

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা ছাড়া জামায়াতের দাবির মধ্যে রয়েছে- সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, আনুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন ও প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা। 

তার আগে ১১ জুলাই জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার বিশেষ সদস্য (রোকন) সম্মেলনে এই জাতীয় সমাবেশের বার্তা দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, “আমাদের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে হবে।

“শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় ইসলামের পতাকা উত্তোলন এবং ইসলামী ঐক্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সবার চাওয়া-পাওয়া।”

তিনি বলেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জাতীয় সম্মেলন হল তার টার্নিং পয়েন্ট। তার সফল বাস্তবায়নে এখন থেকে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

শুক্রবার ঐক্যমত্য কমিশনে অংশ নেওয়ার পরেও জাতীয় সমাবেশ করে সাত দফা দাবি উত্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, “যদিও ঐক্যমত্য কমিশনে আমাদের নেতৃবৃন্দ প্রতিনিধিত্ব করছেন। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু সমস্যাতো তৈরি হচ্ছে। সবাই একমত হলেতো হয়েই যেতো।

“যে কারণে এই জাতীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের বার্তাটা সরকার, প্রশাসন, দেশবাসীর কাছে এমনকি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের কাছে পৌঁছাতে চাই। এইজন্য সমাবেশটা সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

দাবি পূরণ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয় আমরা নির্বাচনে যাব, নিশ্চয় নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে ইনশাল্লাহ।”

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের সমাবেশ ঘিরে লাখো মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করার কারণে ‘কিছু যানজট’ ও ‘সাময়িক জনদুর্ভোগ’ হওয়ার সম্ভাবনায় ঢাকাবাসী এবং দেশবাসীর কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তিনি বলেন, “এই লাখ লাখ মানুষ প্রবেশ করার কারণে কিছু যানজট হবে, সাময়িক কিছু জনদুর্ভোগ হতে পারে। দেশবাসীর সড়কে, রেলপথে যেসব যানজট এবং কিছুটা কষ্ট হবে। সম্মানিত আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে রাজধানীবাসী এবং দেশবাসীর কাছে আমি অগ্রীম ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

“এই কষ্ট দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে। অতীতেও আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আশা করি, আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা এই কষ্টটা মেনে নেবেন। আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি এবং অবস্থাটাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”

সমাবেশ উপলক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমাদের আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য মঞ্চের পেছনে গ্রিনরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা মাঠে বসার জন্য ত্রিপল দিয়ে সমতলভাবে বিছিয়ে দেব। আমাদের মঞ্চে প্রায় তিনশর মত চেয়ার থাকবে। আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের জন্য মঞ্চে আসন থাকবে এবং আসনগুলো সুনির্দিষ্ট থাকবে।”

তিনি জানান, মঞ্চের সামনে দুইদিকে ছয়শ অতিরিক্ত চেয়ার থাকবে, যেখানে আরও আমন্ত্রিত অতিথি, জুলাই যোদ্ধা যারা আহত এবং কিছু শহীদ পরিবার, সাংবাদিক, আমন্ত্রিত অতিথি জেলা আমিররা আসন গ্রহণ করবেন।

এছাড়া ৩৩টি এলইডি স্ক্রিন সেট, উদ্যানের বাইরে তিন শতাধিক মাইকের ব্যবস্থা থাকবে। সমাবেশস্থলে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে কথা হয়েছে দাবি করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “ওনারা চেষ্টা করছেন, ওনারা আশ্বস্ত করেছেন সাধ্য অনুযায়ী সব ধরণের সহযোগিতা দেবেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ট্রাফিক বিভাগের সাথে দফায় দফায় আমাদের নেতৃবৃন্দ বসেছেন। 

“আমাদের বাইরে থেকে আগত বাসগুলোর ড্রপিং স্পট করা হয়েছে। কোথায় কোথায় বাসগুলো থাকবে, সুনির্দিষ্ট জায়গা সেখানেও আমাদের স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।”

পুরনো খবর:

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ 'নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট': পরওয়ার