ভোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সিপিবির

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, বলছে দলটি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Nov 2023, 03:54 PM
Updated : 19 Nov 2023, 03:54 PM

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি।

শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, জনমত উপেক্ষা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি ছাড়া দলীয় সরকার বহাল রেখে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। 

“এতে সংঘাত-সংঘর্ষ অব্যাহত থাকবে। জনগণের জানমাল ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে এবং বর্তমান সরকারের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।”

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।  মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত, তা বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর।  মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। তার তিন সপ্তাহ পর হবে ভোটগ্রহণ।

সিপিবির কেন্দ্রীয কমিটির সভায় সরকারের পদত্যাগের দাবি জানানোর পাশাপাশি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ‘তদারকি সরকারের’ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার নিশ্চিত করে নির্বাচনী তফসিল পুনর্নির্ধারণ করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে সিপিবি বলছে, সেই কারণে তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না।

সভায় দ্রব্যমূল্যের ঊধর্গতি, গার্মেন্ট শ্রমিকদের ‘ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত’ করে মজুরি নির্ধারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সভায় নির্বাচন ও করণীয় বিষয় আলোচনা উত্থাপন করেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, এ এন রাশেদা, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, মোতালেব মোল্লা, পরেশ কর, আনোয়ার হোসেন রেজা, এম এ সাঈদ, কাজী সোহরাব হোসেন, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ফজলুর রহমান, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, মিহির ঘোষ।

এর আগে গত শনিবার দলের জাতীয় পরিষদের সভায় বিভিন্ন জেলার ৪৩ জন প্রতিনিধি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।