১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যেনতেন নির্বাচনই বড় দলের লক্ষ্য: মাহমুদুর রহমান

“সাধারণ নির্বাচনের মত এবার যেন টাকার খেলা না হয়, এবার জনগণকে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Oct 2025, 10:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:32 PM

‘জুলাই যোদ্ধাদের’ লড়াই শেষ হয়নি মন্তব্য করে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পরই সব সমাধান হয়ে যাবে মনে করা বোকামি হবে।

গত কয়েকদিনে সরকার প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনকালীন প্রশাসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় বিষ্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যেনতেন নির্বাচনই বড় রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য।” 

বৃহস্পতিবার আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এর যৌথ সভায় বক্তব্য রাখছিলেন মাহমুদুর রহমান।

জাতীয় নির্বাচনের পর পর সব ঠিক হয়ে যাবে, এমন আশা না করে জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান এসেছে এই সভা থেকে।

সেখানে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের নেতারা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে মনেপ্রাণে ধারণ কারার জন্য ঐক‍্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের তাগিদ দেন।

তারা বলছেন, ক্ষমতা নয়, জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই রাজনৈতিক দলগুলোর মনোযোগের প্রধান বিষয় হওয়া উচিৎ। তা নাহলে অভ্যুত্থানে যারা জীবন ও অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন তারা ক্ষমা করবেন না।

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই শহীদ আনাসের চিঠি পড়ে শোনান। 

তিনি বলেন, “শহীদ আনাসসহ হাজারো শহীদ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য জীবন দেয় নাই। বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা কাঠামো হারানোর ভয়ে জুলাইকে বিপ্লব না বলে, শুধু আন্দোলন বলে থাকে। 

“অথচ শহীদদের আত্মত্যাগ আর জনতার অকুন্ঠ সমর্থনকে সরকারের বৈধতার সিঁড়ি মনে না করে, ১০৬ অনুচ্ছেদকে ভিত্তি মনে করা হচ্ছে।”

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “জুলাইয়ের সকল শক্তিকে ভুল সংশোধন করে আবার রাজপথে নামতে হবে।”

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “ক্ষমতা আর জনতাকে আলাদা করার সুযোগ নাই, জনগণের কাছেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। এবারের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, ৪৬ বা ৭০ সালের মত এই নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

“সাধারণ নির্বাচনের মত এবার যেন টাকার খেলা না হয়, এবার জনগণকে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হবে।” 

আপ বাংলাদেশের আহবায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, “ক্ষমতা ভাগাভাগির দৌড় অভ্যুত্থানকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। অথচ হাসিনার ক্ষমতাকে দেবত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে দেশবাসী মাঠে নেমেছিল। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখার প্রতিবাদেই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো বহাল আছে, অথচ শুধু ক্ষমতার দৌড়ই অনেক রাজনৈতিক দলের লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ছে। 

“জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়াই অভ্যুত্থানের আসল চেতনা, আর কখনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ফিরতে দেওয়া হবে না।”

যৌথ সভায় অন্যদের মধ্যে ব্ক্তব্য রাখেন- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ওয়ারেসুল করিম বুলবুল, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল ওহাব মিনার, আপ বাংলাদেশের সদস্য সচিব আরেফিন হিজবুল্লাহ, রাফে সালমান রিফাত।