ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলকে ঠেকাতে ‘মব তৈরির’ অভিযোগ রিজভীর
“এবং জনসংখ্যার বিন্যাস দেখে নির্বাচন কমিশন নতুন করে কেন্দ্র ঘোষণা করবে এই আমাদের প্রত্যাশা, এই আমাদের দাবি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) অংশ নিতে ছাত্রদল যাতে মনোনয়নপত্র কিনতে না পারে সে জন্য ‘মব’ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
তিনি বলেন, “এই ডাকসু নির্বাচন সেখানে যাতে ছাত্রদল মনোনয়নপত্র কিনতে না পারে সেজন্য মব তৈরি করে বাধা দেয়া হচ্ছে, সেখানে মব সৃষ্টি করা হল।”
মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকতে কেন এ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি হল সে প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
রিজভী বলেন, “কেন এই মব হবে মহল্লায় মহল্লায়, কেনো হবে গ্রামে গ্রামে, জেলায় জেলায়। আজকে আইন বর্হিভূতভাবে সেখানে মব সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা তারা কেন নিজের হাতে আইন তুলে নিবে।”
রিজভীর কথায়, আইনের শাসন ‘ঠিকমত নেই’ বলেই ‘বেআইনি কর্মকাণ্ড হচ্ছে’।
“মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, রংপুরের তারাগঞ্জে দুই জন এই মব সংস্কৃতির শিকার হয়েছে। এরকম পরিস্থিতি তো আমরা কামনা করতে পারি না অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে।”
মঙ্গলবার দুপুরে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন রিজভী।
ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় ‘মব’ তৈরি করে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। হলের ‘নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের’ উপস্থিতিতে আগ্রহী প্রার্থীরা ফরম সংগ্রহ করতে পারেননি অভিযোগ করে ছাত্রদলের নেতারা ‘মবকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
তবে কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে কি না তা স্পষ্ট করেননি সংগঠনটির নেতারা। এদিকে অভিযোগ ওঠার বিষয়ে তদন্ত কমিটি করেছে ডাকসুর নির্বাচন কমিশন।
‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ তৈরি ভোটকেন্দ্র বাতিল দাবি
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মেয়াদে গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ যেসব ভোটকেন্দ্র করা হয়েছিল তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন রিজভী।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে যেসব ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে সেই ভোটকেন্দ্রগুলো বাতিল করতে হবে এবং জনসংখ্যার বিন্যাস দেখে নির্বাচন কমিশন নতুন করে কেন্দ্র ঘোষণা করবে এই আমাদের প্রত্যাশ, এই আমাদের দাবি।”
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিন নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন রিজভী।
“বিগত সময়ে যে তিনটা নির্বাচন হয়েছে, একটা হয়েছে ভোটার শূন্য নির্বাচন, একটা হয়েছে মধ্যরাতের নির্বাচন আর সর্বশেষটা হয়েছে ডামি নির্বাচন, এই সমস্ত নির্বাচন মানুষ ভুলে যায়নি।
“ওইসব নির্বাচন এখন জনগণ ভুলবে যদি এই নির্বাচন কমিশন ও অন্তবর্তীকালীন সরকার একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা ফে্ব্রুয়ারিতে করে।
গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের দাবি যদি নির্বাচন কমিশন পূরণ করে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে জনমনে ‘আস্থা ফিরবে’ বলে মনে করেন রিজভী।
ইসিকে নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির তাগিদ নিয়ে রিজভী বলেন, “প্রায় ১৬/১৭ বছর পরে বাংলাদেশের ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও নিরাপত্তায় ভোটকেন্দ্র যেতে পারবে সেই ব্যবস্থা ও সেই পরিবেশ নির্বাচন কমিশনকে তৈরি করতে হবে।”
‘ঋণ খেলাপিরা কেন নাবায়নের সুযোগ পাচ্ছে’
রিজভী বলেন, “বিগত সময়ে শেখ হাসিনার আমলে ব্যাংকগুলোতে যারা ঋণ খেলাপি হয়েছে সেই সাড়ে তিন লাখ হাজার কোটি টাকার খেলাপিদের রিশিডিউল করে তাদেরকে আবার নবায়ন করা হচ্ছে।”
“আবার এই সরকারের আমলেও প্রায় দেড় লাখ ঋণ খেলাপির ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। জনগণ কী এটা প্রত্যাশা করে ? যারা ঋণ খেলাপি তারা সেই টাকা পরিশোধ করে নাই, আবার দেড় লাখ কোটি টাকা নতুন করে কেন রিসিডিউল করা হয়েছে,কেনো নবায়ন করা হয়েছে?”
ব্যাংক লুটকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন রিজভী।
তিনি বলেন, “মহিউদ্দিন খানের মত দুর্বৃত্ত মানুষ যারা ফার্মাস ব্যাংক করে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে, নাফিজ সরাফতের মত দুর্বৃত্ত মানুষ যারা পদ্মা ব্যাংকের পুরো টাকা লুট করেছে সেই সমস্ত মালিকদেরকে গ্রেপ্তার করুন, আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। যারা জনগণের টাকা লুট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করুন।”
জনগণের লুট করা টাকা যাতে ফেরত আসে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রিজভী।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সভাপতি এসএম জিলানি ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মৗদের নিয়ে রিজভী জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এ সময় জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।
এই সময়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
