১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বড় মাছ, ছোট মাছ নিয়ে ফেইসবুকে যা লিখলেন মাহফুজ

“আপনি একটি আদর্শিক গ্রুপের বিরোধিতা করলে আপনাকে ইতিহাস থেকে নাই করে দেওয়া হবে। যেন বা আপনি ছিলেনই না।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 11:48 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ইতিহাসকে মাছের পুকুর কিংবা বাজারের সঙ্গে তুলনা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা মাহফুজ আলম। 

বুধবার বিকালে নিজের ফেইসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “মুক্তির দিনে এসে এসব বেমানান। তবু জানিয়ে যাই ইতিহাস এক মাছের পুকুর কিংবা বাজার! ইতিহাসের মাৎস্যনায় তো বাস্তব। বড় মাছ মেজো/ছোট মাছ গিলে খাবে। মেজো/ছোট মাছ আবার বড় হয়ে অন্যদের গিলে খাবে। গত দুই বছরে কি হয়নি এসব? আবারো হবে, সময় এলে সেখানে অন্যরা থাকবে না। 

“আপনি একটি আদর্শিক গ্রুপের বিরোধিতা করলে আপনাকে ইতিহাস থেকে নাই করে দেওয়া হবে। যেন বা আপনি ছিলেনই না। থাকলেও গাদ্দারবত ছিলেন। যদিচ, কোনোভাবে ওই আদর্শিক গ্রুপের সাথে তাল মিলিয়ে চললে প্রধান ২/৪ পুতচরিত্রদের একজন হয়ে ওঠা কোন ইস্যুই ছিল না। 

“একটি দলে যোগ না দিলে ঐ দলের লোকজন আপনার নামই নিবে না। যদিও দলটি গড়ে তোলায় আপনি প্রতিষ্ঠাতাদের কিংবা নীতিনির্ধারকদের একজন ছিলেন। দলের তৈরি কোনো ইভেন্টের ইতিহাসেও আপনার নাম নেওয়া হবে না। নিলেও দায় দেওয়ার জন্য নেওয়া হবে। যদিচ, আপনি ওই ইভেন্টে সকল নীতিনির্ধাণে অন্যতম একজন ছিলেন। 

“ফলে, যার হাতে ক্ষমতা সে ইতিহাস লিখবে। এটা নিয়ে অভিযোগ করবে দলের/ আদর্শিক গোত্রের লোক। কারণ, দলের/আদর্শিক গোত্রের ক্ষমতারোহণের জন্য ইতিহাসের উপর কর্তৃত্ব দরকার। ক্ষমতারোহণ করে তারা কার/কাদের ইতিহাস লিখবেন, কাদের বাদ দিবেন সেটা বলাই বাহুল্য।”

এ স্ট্যাটাসের কারণ সম্পর্কে জানতে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাহফুজ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়েও রাতে ফেইসবুকে পোস্ট দেন মাহফুজ। তিনি লেখেন, “ভারত হাসিনাকে এবং তার সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার একটি মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। এটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ভারতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার একটি লক্ষণ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার এক স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দুঃসাহস।

“বাংলাদেশের এবং এ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে হওয়া এই ষড়যন্ত্রের দায় ভারত কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

“আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক চাই; তবে তার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখতে হবে।”