Published : 11 Dec 2025, 07:49 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা মোটামুটিভাবে সন্তুষ্ট’।
তিনি বলেছেন, “শব্দের একটু এদিক-ওদিক থাকতে পারে সে বিষয়গুলো আমি খুব বেশি বড় করে দেখি না। মূল বিষয়টা হচ্ছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘোষণা হয়েছে, যেটা আমি মনে করি যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত বড় উল্লেখযোগ্য একটা ঘটনা।
“একইসঙ্গে আমরা মনে করি যে আজকে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তফসিল নিয়ে দলের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।
নির্বাচন নিয়ে দলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠান করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আমরা প্রত্যাশা করি যে, নির্বাচন কমিশন একেবারে নিরপেক্ষভাবে, সুষ্ঠভাবে, অবাধ ও একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে।
“এখানে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী তারা সবাই সচেতনভাবে এই নির্বাচনটিকে একটি উৎসবমুখর নির্বাচনে পরিণত করবেন।”
ফখরুল বলেন, “আমরা সবাই জানি যে বিগত ১৫ বছর এই দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুতরাং আজকে আবার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। আজকে একটা নতুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক একটা পার্লামেন্ট আমরা গঠন করতে সক্ষম হব।
“নিঃসন্দেহের এটা আমার জন্যে অত্যন্ত আনন্দের দিন। আমি বরাবরই বলেছি যে নির্বাচনের ব্যাপারে আমার কোনো আশঙ্কা নেই, নির্বাচন হবে কি হবে না, এরকম শঙ্কাও ছিল না। নির্বাচন হতেই হবে সেটা হয়েছে, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে এবং ইনশাল্লাহ নির্বাচন হবে।”
আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের দিন রেখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত, তা বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। তার তিন সপ্তাহ পর হবে ভোটগ্রহণ।
জুলাই অভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই বছরের মাথায় এ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
ভোটের মাঠে শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “চূড়ান্তভাবে প্রার্থী তালিকা আমরা দেইনি আপনারা সবাই জানেন, আমরা প্রাথমিক কথা বলেছিলাম এবং সেই তালিকা এখন চূড়ান্ত হবে, হয়েই গেছে প্রায়।
“আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎভাবে আন্দোলন করেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আমি মনে করি যে, কোনো সমস্যা থাকবে না। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, যারা বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারব।”
তিনি বলেন, ‘‘এমনকি যারা অন্যখান থেকে অন্যান্য দল বা জোটে অংশগ্রহণ করবেন, তারা সবাই গণতন্ত্রের ‘স্পিরিট’ নিয়ে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।”
সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘আপনারা জানেন প্রায় নয় মাস সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, কতগুলো বিষয় একমত হতে পারেনি। সেগুলো গণভোটের মাধ্যমে আসবে।”