১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের বেশিরভাগ প্রার্থী ভোট করবেন ‘দান-ধারের’ টাকায়

জামায়াতের অধিকাংশ প্রার্থী স্বজনদের বাইরে ‘শুভানুধ্যায়ীদের দান’ পাচ্ছেন।

উত্তম সেন গুপ্ত

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jan 2026, 11:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:31 PM

চট্টগ্রামের বিএনপি ও জামায়াতের বেশিরভাগ প্রার্থী তাদের স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া ‘ধার’ ও ‘দানের’ টাকা খরচ করবেন নির্বাচনে। 

চট্টগ্রাম জেলার সংসদীয় ১৬টি আসনে বিএনপির ১৭ প্রার্থীর মধ্যে সাতজন ছাড়া অন্যরা ব্যক্তিগত টাকার বাইরে স্বজনদের কাছ থেকে ‘ধার’ ও ‘দানের’ টাকায় তাদের নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করবেন বলে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছেন।

অপরদিকে জামায়াতের ১৪ প্রার্থীর অধিকাংশই ভোটের খরচ মেটাতে স্বজনদের বাইরে ‘শুভানুধ্যায়ীদের দানের’ টাকায় ভোট করবেন বলে তাদের দেওয়া তথ্যে দাবি করেছেন। 

তসসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিন গণভোটও হবে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় এখন আপিল আবেদন গ্রহণ চলছে।

তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ থেকে ভোট পর্যন্ত প্রার্থীদের যাবতীয় সম্ভাব্য ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হয়। নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে এ খরচ দেখাতে হবে। ভোটে অংশ নেওয়া দলগুলোরও ব্যয়সীমা রয়েছে নির্বাচনি আইনে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে সংসদ নির্বাচনে এবার ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচ নির্ধারণ করে প্রার্থীর ব্যয়সীমানা বাড়ানো হয়েছে।

৩০০ আসনের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে; ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে; ৮ লাখ ৪ হাজারের বেশি।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীরা তাদের যে হলফনামা ও সম্ভাব্য ব্যয়ের উৎসের যে বিবরণী দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের তালিকার পাশাপাশি সেগুলো প্রকাশ করেছে।

প্রার্থীদের নির্বাচনি খরচ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুই দলের বেশির ভাগ প্রার্থী তাদের স্ত্রী, সন্তানের কাছ থেকে ‘ধার’ বা ‘অনুদান’ নিয়ে নির্বাচনী খরচ নির্বাহ করার তথ্য দিয়েছেন। 

চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করার তথ্য দিয়েছেন। 

এ আসনে ভোটার আছেন ৫ লাখ ৬ হাজার ২৫৯ জন। যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৬ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪৩ জন নারী ভোটার।

এখানে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী তার সম্ভাব্য নির্বাচনি ব্যয় ধরেছেন ৫০ লাখ ৬২ হাজার টাকা। আর বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীনের ব্যয় হবে ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩০। 

জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী এ আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীন এবারই প্রথম প্রার্থী হয়েছেন।

শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচনি ব্যয় বিবরণীতে লিখেছেন, নিজ আয় থেকে তিনি ব্যয় করবেন ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৯০ টাকা। স্বজনদের মধ্যে তার প্রবাসী দুই ভাই ‘অনুদান’ দিয়েছেন ১৮ লাখ ও ভায়রাভাই দিয়েছেন ৬ লাখ টাকা।  

এছাড়া ‘শুভানুধ্যায়ী’ হিসেবে সাতকানিয়ার দুইজন এবং লোহাগাড়ার এক বাসিন্দাসহ তিন ব্যক্তি ১৬ লাখ টাকা ‘দান’ করবেন বলে তথ্য দিয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী। 

নাজমুল মোস্তফা আমীন তথ্য দিয়েছেন, তার নির্বাচণি ব্যয়ের ১৫ লাখ টাকা তার ব্যবসার আয় থেকে আসবে। আর তার স্ত্রীর স্বর্ণ বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা ও তার ব্যবসায়ী ছেলের কাছ থেকে পেয়েছেন ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩০ টাকা। 

খরচের টাকা আসবে যেখান থেকে

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই উপজেলা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন ৩০ লাখ টাকা খরচ করবেন বলেছেন। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকার তার নিজের এবং বাকি ২০ লাখ টাকা তার জামাতা থেকে ‘ধার’ নেবেন। 

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছাইফুর রহমান। আইনজীবী এ প্রার্থী নির্বাচনি খরচ হবে ১৫ লাখ টাকা, যার ১ লাখ টাকা নিজে জোগাড় করার তথ্য দিয়েছেন।

ছাইফুর রহমানের ব্যয়ের বাকি টাকার মধ্যে ভাই ও ভগ্নিপতি ২ লাখ করে ৪ লাখ এবং ‘শুভানুধ্যায়ী’ এক ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা ‘দান’ করবেন। অপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে ‘ধার’ নেওয়া ৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য নির্বাচনি ব্যয়ের উৎস হিসেবে বিবরণীতে বলেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর নিজের ব্যাংক জমা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮ লাখ টাকা সম্ভাব্য খরচের তথ্য দিয়েছেন।

সেখানে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন সম্ভাব্য খরচের উৎস দেখিয়েছেন তার জমানো টাকা থেকে ২০ লাখ, স্ত্রী ও মেয়ের কাছ থেকে পাওয়া ১০ ও ৫ লাখ করে ১৫ লাখ টাকা। 

নুরুল আমিন তার ‘শুভানুধ্যায়ী’ তিন ব্যক্তির একজনের কাছ থেকে ৩ লাখ এবং দুইজনের কাছ থেকে ২ লাখ করে ৭ লাখ টাকা ‘দান’ পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন। 

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ উপজেলা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার ২৪ লাখ টাকা সম্ভাব্য খরচের তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে নিজের কাছে থাকা এবং সম্পদ বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা জোগাড় করেছেন। তার দুই ভাই ও ভগ্নিপতির কাছ থেকে পেয়েছেন ১২ লাখ টাকা। আমেরিকা প্রবাসী এক ব্যক্তি ৪ লাখ এবং অপর এক ব্যক্তি তাকে ৩ লাখ টাকা দিচ্ছেন।

এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা নির্বাচনের পুরো খরচ ১৫ লাখ টাকা তার অতীতের সঞ্চয় হতে ব্যয় করার তথ্য দিয়েছেন। 

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড উপজেলা ও নগরীর ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ব্যবসায়ী আসলাম চৌধুরী সম্ভাব্য খরচের উৎস বিবরণীতে লিখেছেন, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে তিনি খরচের ২৫ লাখ টাকা নেবেন। তাছাড়া ৫ লাখ টাকা তার স্ত্রীর কাছ থেকে ‘ধার’ নেবেন এবং ২ লাখ টাকা দেবেন তার মেয়ে।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিক সম্ভাব্য খরচের যে তথ্য দিয়েছেন সেখানে বলেছেন, ২ লাখ টাকা তার নিজের। শ্বশুর ও ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ করে ১০ লাখ টাকা ‘ধার’ নিয়েছেন। 

এছাড়া দুই ‘শুভানুধ্যায়ী’ তাকে ৫ লাখ করে ১০ টাকা দান করবেন বলে ব্যয়ের উৎস বিবরণীতে লিখেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারি উপজেলা ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দীন তার নির্বাচনি খরচের ২৫ লাখ টাকাই তার আইন পেশা, বাড়ি ভাড়া ও কৃষিখাত থেকে জোগাড় করার তথ্য দিয়েছেন।

এ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি দুইজনকে দলীয় মনোনয়ন দিলেও কাউকে চূড়ান্ত করেনি। বিএনপির প্রথম দলীয় মনোনয়ন পাওয়া গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ৩৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য খরচের তথ্য দিয়েছেন। 

এ টাকার মধ্যে নিজের ১০ লাখ টাকা, আর স্ত্রী ও ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ করে ২০ লাখ এবং ছেলের কাছ থেকে পাবেন ৫ লাখ টাকা। 

আর একই দল থেকে পরে মনোনয়ন নিশ্চিত করা গোলাম আকবর খোন্দকার তার সম্ভাব্য খরচের সাড়ে ৩৩ লাখ টাকার পুরোটাই নিজের নগদ, ব্যাংক জমা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আয় থেকে নিচ্ছেন।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহজাহান মঞ্জু ৫ লাখ টাকা নিজের জমানো এবং ৫ লাখ টাকা ভায়রার কাছ থেকে থেকে পাবেন, এমন তথ্য দিয়েছেন।

এছাড়াও তার দুই ‘শুভানুধ্যায়ী’ তাকে ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা ‘দান’ করতে পারে বলে তিনি ব্যয়ের উৎস বিবরণীতে লিখেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমার সময় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। ফাইল ছবি 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমার সময় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী ৮ লাখ নিজের ব্যবসা ও অন্যান্য খাত থেকে জোগাড় করবেন। আর মায়ের সঞ্চিত ১০ লাখ এবং ব্যবসায়ী ভাই ও স্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লাখ করে ৩০ লাখ টাকা পাবেন বলে তথ্য দিয়েছেন। 

এ আসনে হুমামের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এটিএম রেজাউল করিম পেশায় চিকিৎসক, তার নির্বাচনি খরচের ১০ লাখ টাকা নিজের আয় থেকে আসবে। 

এছাড়া তার চিকিৎসক স্ত্রী ও ভাগিনার কাছ থেকে ৩ লাখ করে ৬ লাখ, চিকিৎসক শ্যালিকা ও ভায়রার কাছ থেকে ২ ও ৩ লাখ করে ৫ লাখ টাকা দান হিসেবে পাবেন বলে তথ্য দিয়েছেন। 

রেজাউল করিম তার উৎস বিবরণীতে ‘শুভানুধ্যায়ী’ আরও তিন চিকিৎসকের কাছ থেকে টাকা নেবেন লিখেছেন। তাদের দুইজন ৩ লাখ করে ৬ লাখ এবং অপরজন দুই লাখ টাকা দেবেন।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী উপজেলা, নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ব্যয়ের যে উৎস বিবরণী দিয়েছেন সেখানে সাড়ে ১৮ লাখ তার ব্যবসা, ঘরভাড়া ও শেয়ার ব্যবসা থেকে জোগাড় করবেন, আর ৫ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চিকিৎসক আবু নাছের তার নির্বাচনি খরচের ৩০ লাখ টাকা পেশাগত আয় থেকে জোগাড় করার পাশাপাশি নিজের ভাইয়ের কাছ থেকে ২ লাখ এবং স্ত্রীর বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন। 

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী ও বাকলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান তার সম্ভাব্য ব্যয়ের ৪০ লাখ টাকার পুরোটাই নিজে জোগাড় করছেন বলে রিটানিং অফিসারকে জানিয়েছেন। 

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী একেএম ফজলুল হককে। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব থাকা এ চিকিৎসক হলফনামায় সেখানকার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করার কথা তুলে ধরেছেন। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে নাগরিকত্ব বাছাইয়ের আবেদন গৃহীত হওয়ার কোনো দালিলিক প্রমাণ দিতে না পারায় রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। 

যদিও তিনি নাগরিকত্ব বাতিলের প্রমাণসহ আবেদন করার কথা জানিয়েছেন। 

ফজলুল হক তার নির্বাচনি খরচের মধ্যে ২০ লাখ নিজের নগদ ও ব্যাংক জমা থেকে খরচ করবেন বলে উৎস বিবরণীতে লিখেছেন। এছাড়া স্ত্রীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ‘ধার’ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ব্যয়ের উৎস বিবরণীতে। 

চট্টগ্রাম-১০ (শুলকবহর, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে। 

তার নির্বাচনি খরচের ৪৫ লাখ টাকার পুরোটাই নিজেই জোগাবেন বলেছেন এই প্রার্থী।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী তার নির্বাচনি খরচের টাকার উৎস দেখিয়েছেন, নিজের ১২ লাখ, স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ৮ ও ৫ লাখ করে ১৩ লাখ, ‘শুভানুধ্যায়ী’ এক ব্যক্তির ‘দানের’ হিসেবে ৫ লাখ টাকা।

তাছাড়া ভগ্নিপতির কাছ থেকে ১০ লাখ এবং অপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা ব্যয়ের উৎস বিবরণীতে লিখেছেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

পেশায় ব্যবসায়ী এই রাজনীতিক তার নির্বাচনি খরচের ১৫ লাখ টাকা নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এবং ১০ লাখ টাকা নিজের স্ত্রীর কাছ থেকে ‘ধার’ নিচ্ছেন, এমন তথ্য দিয়েছেন ব্যয়ের উৎস বিবরণীতে।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম উল্লেখ করেছেন তার মোট খরচের ৫ লাখ টাকা আসবে তার বেতন থেকে। আর ভাইয়ের কাছ থেকে ১২ লাখ ও অপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ‘ধার’ নিচ্ছেন।

এছাড়াও শফিউল আলমকে তার শ্বাশুড়ি ১০ লাখ ও তার পরিচিত এক ব্যক্তি ৭ লাখ টাকা ‘দান’ করবেন। 

চট্টগ্রাম-১৩ (কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান নিজের ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত ১০ লাখ টাকা নির্বাচনে খরচ করবেন। 

মাহমুদুল হাসানের নিজের ফুফাত ভাই ৫ লাখ এবং তার পরিচিত এক ব্যক্তি ৩ লাখ টাকা ‘অনুদান’ দেবেন। পাশাপাশি তিনি ২ লাখ টাকা ভাইয়ের কাছ থেকে ‘ধার’ করবেন বলে তথ্য দিয়েছেন। 

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম তার ব্যবসা ও স্থাপনার ভাড়া থেকে আয় করা ৩০ লাখ ৫২ হাজার টাকা নির্বাচনে খরচ করবেন, স্ত্রী ও দুই সন্তান দেবেন ৯ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া আংশিক) এ আসনের বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ তার খরচের ৩১ লাখ ৩৪ হাজার টাকার পুরোটাই নিজ ব্যবসা ও নগদ টাকা থেকে খরচ করবেন।

এ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। সেখানে জসীম উদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এলডিপি সভাপতি অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক। 

ওমর ফারুক তার নির্বাচনি ব্যয়ের ২০ লাখ টাকা নিজের এবং ৫ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়ার কথা ব্যয়ের উৎস বিবরণীতে লিখেছেন।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী উপজেলা) বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম বলেছেন তার নির্বাচনি ব্যয়ের ২০ লাখ টাকা তার নিজের এবং স্ত্রী দেবেন আরও ১৫ লাখ টাকা। 

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ১০ লাখ টাকা নিজের আয় থেকে খরচ করবেন। তাছাড়া তার দুই ভাই ৫ লাখ করে ১০ লাখ এবং দুই ‘শুভানুধ্যায়ী’ ১০ লাখ ও ৫ লাখ করে ১৫ লাখ টাকা করে দেবেন। 

পুরানো খবর:

হলফনামা: বছর ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী জসীমের আয় ও সম্পদ দ্বিগুণ

হলফনামা: চট্টগ্রামে জামায়াতের কোটিপতি ৪ চিকিৎসক, স্ত্রীরাও কোটিপতি

হলফনামা: তিন ব্যারিস্টারের যত সম্পদ