Published : 07 Nov 2025, 09:28 PM
বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কারণে কিছু মানুষ নির্বাচন চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “নির্বাচন ছাড়াই যদি ভালো ভালো খাবার খাওয়া যায়, তাহলে নির্বাচন চাইবে কেন, এটা কি আমরা বুঝি না? আমরা সবাই বুঝি।
“ওই খাওয়া আর খাওয়ানো যাবে না। মজার মজার খাবার খাবে বাংলাদেশের মানুষ।”
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় বিপ্লব উদ্যানের পাশের সড়কে এক জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ সমাবেশ আয়োজন করে।
আমীর খসরু বলেন, “একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই, আগামী সংসদে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেটা ঢাকায় বসে কিছু মানুষ আগামী সংসদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
“হ্যাঁ, প্রতিটি ঐকমত্য আমরা পরিপূর্ণভাবে পালন করব। কিন্তু এর বাইরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে সাংঘর্ষিক রাজনীতির দিকে যাবেন না। মানুষ শান্তি চায়, বাংলাদেশের মানুষ সহনশীল রাজনীতি চায়, বাংলাদেশের মানুষ দ্বিমত পোষণ করেও আরেকজনের মতের প্রতি সম্মান জানাতে চায়।”
বিএনপিও এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না করে রাস্তায় গিয়ে যদি নিজেদের চিন্তা জনগণের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিতে চান, এর চেয়ে অগণতান্ত্রিক আর কিছু নেই৷ সুতরাং বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়।
“তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা ভোটের মাধ্যমে তাদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আর যে সংসদ তার কাছে দায়বদ্ধ থাকব; তার কাছে জবাবদিহি থাকবে। সুতরাং গণতন্ত্রে যদি বিশ্বাস করেন, সঠিক পথে আসুন।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, “যারা আগামী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, বিলম্বিত করতে চায়, তাদের ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরাজিত করতে হবে।
“এদেশের মালিক দেশের জনগণ। তাদের মালিকানা নিশ্চিত হবে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে, একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে, একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে। সুতরাং যারা এই নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের সাতই নভেম্বরের মতো পরাজিত করতে হবে।”
জুলাই সনদ বিষয়ে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্যমত হয়েছে, সেই ঐক্যমতের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই সনদ হয়েছে, সুতরাং চ্যাপ্টার ক্লোজ। এর বাইরে যাবার কোনো সুযোগ নেই।
“যারা এর বাইরে গিয়ে তাদের নিজস্ব দাবিদাওয়া অন্য দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, বাংলাদেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বলছি- গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে হবে। শেখ হাসিনার পথে হাঁটলে চলবে না, স্বৈরাচারের পথে হাঁটলে চলবে না।”
সাবেকমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, “গণতন্ত্রে যদি বিশ্বাস করেন, তাহলে জনগণের ম্যান্ডেটের জন্য জনগণের কাছে যান। ঢাকায় বসে আপনাদের নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না৷
“প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ভাবনা, চিন্তা, দর্শন আছে। সুতরাং আমরা সম্মান করি, কিন্তু একদলের ইচ্ছা আরেকদলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷”
‘গণতন্ত্রের শত্রুরা নির্বাচন চায় না’
দলীয় প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, “আর কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে। এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলি করা হয়েছে, একজন নিহত হয়েছেন, আমাদের নেতা এরশাদ উল্লাহ আহত হয়েছেন, আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন৷
“বলা হচ্ছে, দুই দলের অন্তর্দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। ঠিক আছে দুই দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব, কিন্তু সেটা এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে কেন হতে হবে? সেটা বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হবে কেন? তাহলে জনগণ প্রশ্ন তুলছে, এই দুই দলের অন্তর্দ্বন্দ্বকে ব্যবহার করে কেউ আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় কিনা।”
তিনি বলেন, “আপনাদের সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, যারা আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, বিলম্বিত করতে চায়, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। তারা দেশের জনগণের অধিকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তারা বাংলাদেশে নির্বাচন চায় না।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহিন এবং ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম ও বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, মনজুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ।