বিদ্যুতের ঘাটতি নেই তো লোডশেডিং কেন: ফখরুল

হারিকেন হাতে নিয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি কর্মীরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 01:53 PM
Updated : 29 July 2022, 01:53 PM

‘চুরি-দুর্নীতি’ করে সরকার দেশের জ্বালানি খাতের ‘সর্বনাশ’ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেছেন, “গতকালই তিনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি নেই তো লোডশেডিং কেন, ঘাটতি নেই তো ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই কেন?”

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে দুর্নীতি করে, চুরি করে তারা (সরকার) বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সর্বনাশ করে দিয়েছে। আজকে শহরে দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ যায় আর গ্রামে যেখানে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য বিদ্যুৎ দরকার সেখানে ৭/৮ ঘণ্টা কোনো বিদ্যুৎ থাকে না। অথচ এই সরকার এই বিদ্যুতের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে এবং লুট করে বিদেশে পাঠিয়েছে।”

মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, “কেন আপনারা জ্বালানি লোডশেডিং রেশন করছেন, গ্যাস রেশন করছেন, কেনো আজকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন অশনি সংকেত?”

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপি মহাসচিব। বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে ‘অব্যবস্থাপনার’ প্রতিবাদে তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কয়েক দিন আগে অর্থমন্ত্রী বললেন যে, আমরা আইএমএফ থেকে টাকা ধার নেব না। আমরা এখন শক্তি বাড়াচ্ছি অর্থনীতির মধ্যে। কালকে আমরা পত্রিকায় দেখলাম যে তারা সাড়ে চারশ বিলিয়ন ডলার ধার চেয়েছে আইএমএফের কাছে।”

ক্ষমতাসীনরা মুখে ‘বড় বড় কথা’ বললেও মানুষের সাথে ‘প্রতারণা’ করে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

রির্জাভের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “দেশে এখন ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার। এই ৩১ বিলিয়ন ডলার সঠিক নয়। এখানে ৮/৯ কোটি ডলার আছে সোনা। আর শুধু ব্যবহার করা যায় এর পরিমাণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ১৬ বিলিয়নের বেশি নয়।”

সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংসের মুখে’ নিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত করছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

সমাবেশে আসা নারী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পত্রিকায় দেখলাম, ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ছয় মাসের শিশু সুরাইয়ার মাথার খুলি পুলিশের গুলিতে উড়ে গেছে। পত্রিকা খোলেন, প্রতিদিন দেখবেন হাজারো মানুষ, তারা হয় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, অথবা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে মারা যাচ্ছে…।”

লোডশেডিংয়ে প্রতিবাদ জানাতে বিএনপির নারী কর্মীরা সমাবেশে হারিকেন হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এ ছাড়া মূল মঞ্চেও একটি হারিকেন ঝুলিয়ে রাখা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের মা-বোনেরা এখানে হারিকেন নিয়ে এসেছেন। এই হারিকেনটা গণভবনে শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়ে দেন। তার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেন।

“শুধু এই মিটিংয়ের মধ্যে হারিকেন আনলে হবে না। যখনই অন্ধকার আসবে, যখন লোডশেডিং শুরু হবে আপনারা মোমবাতি ও হারিকেন নিয়ে বের হবেন। এই মোমবাতি, হারিকেন নিয়ে না বের হলে আমরা আলোচিত হব না।”

সমাবেশে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে আর সময় দেব? আজকে তাদের পতন ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। আজকে বিদ্যুৎ, এর পরে জ্বালানি তেল...।

“তাই এখন আর অনেক দফা-টফা নাই। এখন একটাই দফা, এক দাবি। এক দফা এক দাবি সরকারের পদত্যাগ। পরিষ্কার কথা-এই মুহূর্তে পদত্যাগ কর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর কর।”

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আপনাদের কাছে আহ্বান, আর সময় নেই, এখন জেগে উঠতে হবে। এখন আমাদের নেতা-নেত্রীদের নেতৃত্বে জেগে উঠতে হবে…। সেই বিখ্যাত উক্তি- দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান।”

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল বক্তব্য দেন।

এছাড়া সাইফুল আলম নিরব, যুবদলের মামুন হাসান, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক মোস্তা্ফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, ছাত্রদলের সাইফ মাহুমদ জুয়েল সামবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনের আঙিনায় অমিত হাবিবের মরদেহ জানাজার জন্য আনা হলে বিএনপির সমাবেশ দশ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক