Published : 05 Sep 2025, 08:13 PM
জামানত আড়াইগুণ বাড়ানোসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বেশ কয়েকটি বিষয়ে আনা সংশোধনী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘জটিল করে তুলবে’ বলে মনে করছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।
সংসদকে ‘কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত করার চক্রান্ত’ রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাসদের এ অবস্থান তুলে ধরেছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
তার ভাষ্য, “নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে জামানত বাড়ানোসহ অনেকগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে, তার ফলে নির্বাচনকে জটিল ও সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়া অসম্ভব করে তুলবে।”
জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা এবং নির্বাচনী ব্যয়সীমা ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ লাখ করার প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, “ধনীদের জন্য সহজ এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রার্থী হওয়া কঠিন করে তোলা হয়েছে। এর ফলে বাস্তবে সংসদ পূর্বের মতই কাটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হবে। যা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার পরিপন্থি।”
রোজার আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের লক্ষ্যে ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থা ইসি। এরইমধ্যে ভোটের কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনি আইন সংস্কার নিয়ে মাসখানেক ধরে দফায় দফায় পর্যালোচনা করে ইসি। এরপর আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ইসি, যাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। মঙ্গলবার তা সরকারের অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ইসি।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হলে সরকারের অনুমোদনের জন্য তা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপন হবে। সেই ধাপ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি সংশোধনীর অধ্যাদেশ জারি করবে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী এ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
এমন পরিস্থিতিতে দলের সঙ্গে সংলাপের আগে আরপিও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চালালেও কোনো পরামর্শ পেলে তা বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ইসির তরফে।
এরমধ্যে আরপিও সংশোধনী নিয়ে বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “‘না’ ভোটের বিধান চালু করা আমাদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে না ভোটের বিধান চালু করা ভোটারদের মত প্রকাশের পথকে রুদ্ধ করবে।”
অনলাইনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এর ফলে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কত সহজ করা যায় সেই পথ বের করাই কমিশনের কাজ। অথচ তা না করে কমিশন অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিধান বাতিলের প্রস্তাব করেছে যা মোটেই কাম্য নয়।”
বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করে ফিরোজ বলেন, “এর ফলে দমন পীড়নের মাত্রা বাড়বে এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ থাকলে বা ফেরারি আসামিদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধানও ‘নতুন জটিলতা’ তৈরি করবে।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এই সিদ্ধান্ত যতক্ষণ পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত না হচ্ছে, ততক্ষণ অপরাধী সাব্যস্ত না করার নীতিরও পরিপন্থি। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রবণতাও বাড়বে।”
তিনি সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে জামানত না বাড়িয়ে বরং ৫ হাজার টাকা করা ও নির্বাচনী ব্যয়সীমা কমিয়ে ৩ লাখ টাকা করার দাবি জানান।
একইসঙ্গে শুধু একক প্রার্থীর ক্ষেত্রেই নয়, একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রেও ‘না ভোটের‘বিধান চালু, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিধান বহাল রাখা, সশস্ত্র বাহিনীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা না দেওয়া এবং মামলা বা ফেরারি থাকলেই প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার বিধান প্রবর্তন না করার দাবি জানিয়েছে দলটি।