০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তৌফিক ইমরোজ খালিদী: একজন সম্পাদক, একজন শিক্ষক

ইংরেজিতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নামের ইনশিয়াল টিআইকে একসঙ্গে পড়লে হয় টিক। সাংবাদিকতায় তার নামের পাশে সবসময় জ্বলজ্বল করবে সেই টিকচিহ্ন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী: একজন সম্পাদক, একজন শিক্ষক

তৌফিক ইমরোজ খালিদী

জাহিদ নেওয়াজ খান জাহিদ নেওয়াজ খান

Published : 03 Oct 2026, 05:15 PM

Updated : 03 Oct 2026, 05:20 PM

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সবচেয়ে সুন্দর ফুলটি ঝরে গেছে। বাগানের সবচেয়ে সুন্দর গোলাপটি যখন পরিপূর্ণ হয়, তার যে সৌন্দর্য, পরিপূর্ণতা, তার যে সৌরভ; সেটা সবাইকে মুগ্ধ করে প্রকৃতির নিয়মে একদিন ঝরে যায়। আমাদের সাংবাদিকতার সেই পরিপূর্ণ গোলাপটি গতকাল ঝরে গেছে। সাংবাদিকতায় একজন সর্বোচ্চ যতটুকু দিতে পারেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী তার সবটাই দিয়ে গেছেন। কিন্তু এটা অবশ্যই বলতে হবে যে, মানুষ হিসেবে মাত্র ৫৯ বছরে চলে যাওয়া অকালপ্রয়াণ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর চলে যাওয়ার খবরটি তাই মেনে নেওয়া কঠিন। তিনি সেই কিছু মানুষের একজন যার চলে যাওয়া কেবল একজন মানুষের মৃত্যু নয়; তার সঙ্গে একটি সময়, একটি অভিজ্ঞতার ক্যানভাস, একটি কর্মসংস্কৃতি এবং একটি মানদণ্ডও যেন হঠাৎ আমাদের সামনে অনুপস্থিত হয়ে যায়। তৌফিক ভাইয়ের চলে যাওয়াটা ঠিক তেমনই।

তার সঙ্গে সম্পর্কের শুরুটা আমার সাংবাদিকতার একেবারে শুরুর দিকের দিনগুলোতে। তখন আমি ‘দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস’ পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করেসপন্ডেন্ট। সাংবাদিকতা তখন আমার কাছে মূলত শেখার একটি সময়। কীভাবে খবর সংগ্রহ করতে হয়, কীভাবে লিখতে হয়, কীভাবে একটি বাক্য তৈরি করতে হয়, কীভাবে তথ্যের ভেতর থেকে খবর বের করে আনতে হয়, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড বুঝতে হয়; সবই তখন বুঝে নেওয়ার সময়।

সেই সময় আমি ছিলাম তৌফিক ভাইয়ের জুনিয়র একজন সহকর্মী, একটি সংবাদপত্র অফিসে সবচেয়ে জুনিয়র । কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, তিনি শুধু সিনিয়র সহকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার শিক্ষকও।

আমার সাংবাদিকতা জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তার একটি ছোট্ট স্মৃতি আজ খুব মনে পড়ছে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস’-এর পুরনো ধাঁচের কম্পিউটারে আমি প্রথম যে বাক্যটি লিখেছিলাম, যেটি ছিল আমার ইংরেজি সাংবাদিকতার প্রথম বাক্য, সেটি ছিল ভুল। হঠাৎ পেছন থেকে একজনের কণ্ঠ শুনলাম: বাংলায় ভেবে লিখলে হবে না। বাক্যটি তিনি শুধু ঠিক করে দেননি, এর মাধ্যমে তিনি ইংরেজিতে লেখার প্রাথমিক পাঠটিও দিয়েছিলেন।

ঘটনাটি হয়তো তার কাছে খুবই সামান্য, কিন্তু আমার কাছে সেটি আজও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন ভালো সাংবাদিকের তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বড় কোনো বক্তৃতা নয়, একটি ভুল বাক্য ঠিক করে দেওয়া, একটি শব্দের ব্যবহার বুঝিয়ে দেওয়া কিংবা একটি প্রশ্ন করতে শেখানোই সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে থাকে।

পরে ২০০৬ সালে তার সঙ্গে আবারও আমার কাজের সূত্র তৈরি হয়। তিনি তখন বিবিসি থেকে ফিরে একটি টেলিভিশন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন। আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছিল। সেই সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, তোমার বেতন হবে ৭০ হাজার টাকা।

সেটা ২০০৬ সালের কথা।

আজ এত বছর পর সেই কথাটি মনে পড়লে আমি শুধু অঙ্কটির কথা মনে করি না, বরং একজন সম্পাদক ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবে তৌফিক ভাইয়ের একটি মৌলিক বিশ্বাসের কথা মনে পড়ে। তিনি মনে করতেন, সাংবাদিকতার মান ভালো করতে হলে সাংবাদিককে পেশা হিসেবে সম্মান দিতে হবে এবং তার যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিককে যদি পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা না দেওয়া যায়, তাহলে তার কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চমানের সাংবাদিকতা আশা করাও কঠিন।

এই জায়গাটিই তৌফিক ভাইকে আমার কাছে আলাদা করে দেয়।

আমি তখন বিডিনিউজের ফাউন্ডিং চিফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছিলাম। এর কয়েকমাস পর বিডিনিউজ নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর, তৌফিক ভাই দায়িত্ব নেন এবং সেই সময়ে নতুন সেটআপে আমি আর সেখানে কন্টিনিউ করিনি। পেশাগত পথ আলাদা হয়ে গেছে, প্রতিষ্ঠান বদলেছে, সময় বদলেছে। কিন্তু মানুষের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা তো আর সেভাবে বদলায় না।

তৌফিক ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার একটি বড় অংশ: সাংবাদিকতায় স্ট্যান্ডার্ড বলে একটা বিষয় আছে। সবক্ষেত্রেই।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তৌফিক ইমরোজ খালিদী এই স্ট্যান্ডার্ডের অন্যতম বড় নির্মাতা। আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়নে, তিনি এ দেশের সাংবাদিকতার মানদণ্ড তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন। তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যে সাংবাদিকতার চর্চা তৈরি করেছে, সেটি বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বিগত দুই দশকে বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার যে বিস্তার আমরা দেখেছি, তার একেবারে শুরুর সারিতে বিডিনিউজের অবস্থান ছিল। আর সেই প্রতিষ্ঠানকে সুসাংবাদিকতার সংস্কৃতি, গতি ও মানের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়।

অনলাইন সাংবাদিকতার বাজারে পরে অসংখ্য পোর্টাল এসেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। কিন্তু বিডিনিউজ যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, সেই মানদণ্ডে আর কেউ অর্জন করতে পরেনি, কিংবা সেই চেষ্টা তারা করেনি। এটি আলাদা কোনো বিতর্কের বিষয় হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার ইতিহাস লিখতে গেলে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি শুধু একটি সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করেননি, তিনি একটি সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন।

প্রতিষ্ঠান মানে শুধু একটি ভবন, ওয়েবসাইট, সার্ভার কিংবা একটি ব্র্যান্ড নয়। প্রতিষ্ঠান মানে মানুষ। সাংবাদিক। সম্পাদক। রিপোর্টার। নিউজরুমের সংস্কৃতি। ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়া। ভালো কাজ হলে তার স্বীকৃতি দেওয়া। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: একটি নির্দিষ্ট মানের নিচে না নামার জেদ।

তৌফিক ভাইয়ের সেই জেদ ছিল।

তাকে অনেকে হয়তো একরোখা মানুষ হিসেবে মনে রাখবেন। কথাটা পুরোপুরি ভুলও নয়। তবে আমার কাছে তার সেই একরোখামি ছিল যুক্তির প্রতি এক ধরনের আনুগত্য। তিনি কোনো একটি বিষয়ে বিশ্বাস করলে, সেটিকে তিনি যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতেন এবং নিজের অবস্থান থেকে সহজে সরে আসতেন না। কিন্তু সেই দৃঢ়তার সঙ্গে ছিল আরেকটি জিনিস: বাকশালীনতা।

গতরাতে চ্যানেল ওয়ানের টকশোতে ‘বাকস্বাধীনতা এবং বাকশালীনতা’ বিষয়ে কথা বলার সময় শুরুতেই তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় আমি তার সেই বাকশালীনতা সম্পর্কে বলছিলাম। সেখানে বলেছিলাম, আজকের আলোচনার বিষয় যদি হয়, ‘বাকস্বাধীনতা এবং বাকশালীনতা’ তাহলে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জীবন ও সাংবাদিকতার সঙ্গে এই দুটি শব্দের গভীর সম্পর্ক আছে।

তার সাংবাদিকতা শুধু নিজের কথা বলার স্বাধীনতার জন্য ছিল না। তিনি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিলেন, যেখানে মানুষ কথা বলতে পেরেছে, ভিন্নমত প্রকাশ করতে পেরেছে, প্রশ্ন তুলতে পেরেছে। বিডিনিউজের নিউজরুম ও তার প্রকাশিত কনটেন্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও মতপ্রকাশের পরিসরও একটি জায়গা পেয়েছে।

কিন্তু মুক্তভাবে কথা বলার অর্থ তার কাছে কখনোই যা খুশি তা বলা ছিল না। এখানেই ‘বাকস্বাধীনতা’ আর ‘বাকশালীনতা’র মধ্যে তার নিজের একটি ভারসাম্য ছিল।

তিনি নিজের মত প্রকাশের অধিকার যেমন গুরুত্ব দিতেন, তেমনি অন্যের মর্যাদার জায়গাটিও বুঝতেন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা তার কাছে দায়িত্বহীন স্বাধীনতা ছিল না। একটি সংবাদ কীভাবে লেখা হবে, কোন শব্দ ব্যবহার করা হবে, একটি কোটেশন কীভাবে অবিকল রাখতে হবে, একজন সহকর্মীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে, একটি টিমকে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে; সব কিছুর মধ্যেই তিনি একটি পেশাগত শালীনতা বজায় রেখেছেন সবসময়।

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আমাদের জন্য যা রেখে গেছেন, তার মধ্যে এই একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তৌফিক ভাই ছিলেন স্মার্ট একজন মানুষ। তার মধ্যে একই সঙ্গে সাংবাদিক, সম্পাদক, সংগঠক, উদ্যোক্তা এবং শিক্ষক; এই কয়েকটি সত্তা কাজ করত। দেশে বিডিনিউজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাও ছিল বিস্তৃত। ২০১৭ সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আইসিটি খাতে বিশেষ সম্মাননা পান। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত কোনো পুরস্কার নয়। তার সবচেয়ে বড় অর্জন: তিনি ভালো সাংবাদিকতাকে প্রমোট করেছেন, উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ‘ তিনি সাংবাদিক তৈরি করেছেন, ভালো সাংবাদিক।

তার নিউজরুম থেকে বেরিয়ে আসা বহু সাংবাদিক আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করছেন। তাদের প্রত্যেকের কাজের মধ্যে হয়তো তৌফিক ভাইয়ের প্রত্যক্ষ ছাপ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু সাংবাদিকতার একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব, দ্রুততার সঙ্গে নির্ভুলতা ধরে রাখার চেষ্টা, সম্পাদনার প্রয়োজনীয়তা এবং পেশার প্রতি দায়বদ্ধতার যে সংস্কৃতি তিনি তৈরি করেছিলেন, তার কোনো না কোনো অংশ তাদের মধ্যে রয়ে গেছে।

এই অর্থে একজন সম্পাদক চলে গেলেও তার উত্তরাধিকার অনেক।

আজ তার অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে তার ঋজু কণ্ঠ, নরম সুরে তার তর্ক, তার যুক্তি, তার দৃঢ়তা, তার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। মনে পড়বে তার সঙ্গে কাজের দিনগুলো। মনে পড়বে নিউজরুমের আলোচনা। মনে পড়বে কোনো একটি বাক্য নিয়ে তার আপত্তি। কোনো একটি খবর নিয়ে তার প্রশ্ন। অথবা হয়তো এমন কোনো ছোট্ট ঘটনা, যা তার কাছে ছিল তুচ্ছ, কিন্তু কারও জীবনে হয়ে আছে বড় শিক্ষা।

আমার ক্ষেত্রে সেই স্মৃতিগুলোর একটি হলো: ভুল ইংরেজি বাক্য ঠিক করে দেওয়া। আরেকটি হলো: একজন তরুণ সাংবাদিকের পারিশ্রমিক নিয়ে তার ভাবনা।

সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠান গড়ার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকও গড়েছেন। তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিদায় তাই আমার কাছে একটি নক্ষত্রের হঠাৎ নিভে যাওয়ার মতো। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি উজ্জ্বল অধ্যায়েরও যেন যবনিকাপাত হলো।

তবে একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো তার কত বছর বেঁচে ছিলেন, কতগুলো পদে ছিলেন, কতগুলো পুরস্কার পেয়েছেন; সেটি নয়। তিনি তার পরের প্রজন্মের জন্য কী রেখে গেলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তৌফিক ভাই রেখে গেলেন একটি প্রতিষ্ঠান। রেখে গেলেন একটি সাংবাদিকতার মানদণ্ড। রেখে গেলেন অসংখ্য সাংবাদিক। রেখে গেলেন কিছু কঠিন প্রশ্ন: সাংবাদিকতা কি শুধু পেশা, নাকি একটি দায়িত্বও? মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের সম্পর্ক কী? একটি সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীন হতে পারে, এবং সেই স্বাধীনতাকে কতটা শালীনতার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়?

আজ তিনি নেই।

কিন্তু তার ঠিক করে দেওয়া সেই বাক্যের মতোই তার তৈরি সাংবাদিকতার মানদণ্ড, তার তৈরি প্রতিষ্ঠান এবং তার তৈরি সাংবাদিকেরা তাকে দীর্ঘদিন মনে রাখবেন।

ইংরেজিতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নামের ইনশিয়াল টিআইকে একসঙ্গে পড়লে হয় টিক। সাংবাদিকতায় তার নামের পাশে সবসময় জ্বলজ্বল করবে সেই টিকচিহ্ন।

জাহিদ নেওয়াজ খান: সম্পাদক, চ্যানেল আই অনলাইন। প্রধান নির্বাহী সম্পাদক, চ্যানেল আই (এনসিএ)।