Published : 02 Mar 2026, 12:16 PM
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। রমজান মাস—ফলে সেহরি খেয়ে ধীরেসুস্থে ঘুমাতে গেলে যেমন ক্ষতি নেই, আবার একটু দেরি করে ঘুম থেকে জাগলেও খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। কিন্তু কে জানত যে সেই কাকডাকা ভোরে মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে এক উদ্বেগজনক খবর? আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
যুদ্ধের বয়স দ্বিতীয় দিনে গড়ানোর আগেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েলি মিসাইলের নিশানায় পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন, সঙ্গে যেমন তার পরিবারের সদস্যরা আছেন, তেমনি আছেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে হত্যার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। ফলে শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে ইরানে হামলা পরিচালনা করছে, সেসব ঘাঁটির দিকেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করেছে।
দুবাইয়ের ঝাঁ-চকচকে জীবনে ছন্দ পতনের সুর শোনা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আর্থিক বাজারে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। প্রশ্ন হচ্ছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের অর্থনীতি বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে? প্রবাসী আয় ও তেল-আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কতটা আক্রান্ত হবে এই সংঘাতে? চলুন, সেসব দিকে নজর দেওয়া যাক।
তেলের বাজার: সংকটের কেন্দ্রবিন্দু

ইরান ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় । ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। বার্ষিক বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার। এই প্রণালির মাধ্যমে প্রধানত ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল ও এলএনজি বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়।
এসব তেলের ৮৪ শতাংশ ঢোকে এশিয়ার বাজারে, যার আবার ৬৯ শতাংশ এশিয়ার চার দেশ—চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যায়। তাই বলতে গেলে এশিয়ার কলকারখানা, পরিবহনব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক গ্রিড পুরোপুরি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে চীন, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরান ইতোমধ্যে এই প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে সংঘাত আরও তীব্র হলে তেলের সরবরাহে দীর্ঘ মেয়াদে বড়সড় ধাক্কা লাগবে। ইরান ডনাল্ড ট্রাম্পকে ভয় দেখানোর এই সুযোগ হাতছাড়া করবে কেন? যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে থাকলে, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শুক্রবারেও প্রতি ব্যারেলের দাম ছিল সাড়ে ৭২ ডলার।
তেলের দাম বাড়া মানে শুধু জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি নয়; এর সঙ্গে পরিবহন, উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া সরাসরি জড়িত। তাছাড়া বর্তমানে বিশ্ব তেল বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা খুব সীমিত, তাই চাইলেও অন্য দেশগুলো উৎপাদন বাড়াতে পারবে না। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলেও তা বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে সামান্য সরবরাহ বিঘ্ন বড় ধরনের দাম বৃদ্ধির কারণ হবে, এর ফলে বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
মূল্যস্ফীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সংকট
যখন তেলের দাম বাড়ে, তখন সেটা শুধু জ্বালানি খরচে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি মাথাচাড়া দেয়, যা অনেক দেশকেই অর্থনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে ফেলে। সম্প্রতি অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমিয়ে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছিল, কিন্তু নতুন করে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য সুদের হার কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এর অর্থ স্পষ্ট: ঋণের সুদ বাড়বে। ফলে বিনিয়োগ কমে যাবে। চাকুরির সুযোগ কমবে। মানুষ জীবনযাত্রার খরচ কমাতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে তেল-আমদানিনির্ভর দেশগুলো যেমন বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানের মত দেশে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি খরচও বেড়ে যাবে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।
বৈশ্বিক বাজারের প্রতিক্রিয়া
যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে, যেমন ডলার বা সোনা মজুদ করে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এছাড়া, এই যুদ্ধ পণ্য পরিবহন, বীমা ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ব্যয় বাড়িয়ে দেবে, যা সরাসরি পরিবহন খরচকে প্রভাবিত করবে। যখন সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, তখন উৎপাদন খরচও বাড়ে এবং এর প্রভাব পড়ে শিল্পপণ্য ও ভোক্তাপণ্যের দামেও। সহজ কথায়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অর্থনীতির সব স্তর যেমন শেয়ারবাজার, উৎপাদন খরচ, ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যে পৌঁছে যাবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি
ইরান নিজেই দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের মধ্যে রয়েছে। ১ আমিরকান ডলার কিনতে ৪৩,০০০ ইরানিয়ান রিয়াল গুনতে হয়। যদিও আমেরিকা বলছে যে, ইরানের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এই যুদ্ধ, কিন্তু বাস্তবতা হলো ইরানের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য ও উন্নয়নহীনতার পেছনে বছরের পর বছর ধরে আমেরিকা ও তাদের মিত্র পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞাই দায়ী। ফলে ইরানের অর্থনীতি অনেকাংশে তেল বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেল রপ্তানি কমবে, সরকারি ব্যয় (বিশেষত সামরিক ব্যয়) আগের চেয়ে বাড়বে, এসব কারণে সামাজিক অস্থিরতা তীব্র হয়ে উঠবে। যার প্রভাব আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বাজারেও পড়বে।
গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়বে সংকট
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু স্থানীয় নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদি সংঘাত সীমিত থাকে এবং দ্রুত শেষ হয়, তাহলে বাজারের প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকবে। কিন্তু যদি এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন হয়ে যাবে।
তেলের সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়াবে। এর ফলে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি উর্ধ্বমুখী হবে। বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন কমবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ধীর হয়ে যাবে।
১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট আমাদের দেখিয়েছে, যখন তেলের দাম চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল, তখন বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে মন্দার মুখোমুখি হয়েছিল। ইতিহাসই প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে এর প্রভাব কেবল কয়েক মাসের জন্য সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বছরের পর বছর বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এক কোটি ডলারের সামান্য বেশি। তার মধ্যে বড় একটা অংশ বাংলাদেশ রপ্তানি করে। বিপরীতে ইরান থেকে আমদানি হয় খুবই সামান্য। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাটের সুতা, তৈরি পোশাক।
অথচ এক দশকে আগেও বাংলাদেশ ইরান থেকে বছরে কয়েকশ ডলারের পণ্য আমদানি করত। আমদানি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন করা অত্যন্ত জটিল। ফলে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ পান না। এক দশক আগেও বাংলাদেশের বাজারে ইরান থেকে আসা রঙবেরঙের ম্যাট্রেস ও ঘর সাজানোর কারুপণ্য দেখা গেলেও সেসব এখন বিরল।
বাংলাদেশের রান্নাঘরেও প্রভাব হবে সীমাহীন
তাহলে এ প্রশ্নটা আসে যে, বাংলাদেশের বাজারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কারণ কি? বাংলাদেশ তেল ও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। এলপিজি (রান্নার গ্যাস) দাম বাড়তে পারে, বৈশ্বিক বাজারে ডিজেল বা পেট্রোলের দাম বাড়লে বাংলাদেশেও ততক্ষণাৎ তার প্রভাব পড়বে, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে।
পরিবহন ব্যয় বাড়লে চাল, ডাল, তেল, সবজি সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলে সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচে তার প্রভাব পড়বে।
আরব আমিরাত থেকে সৌদি আরব, কাতার থেকে ওমান–মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক কাজ করে। সোয়া কোটি প্রবাসীর বড় একটা অংশ মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেন। প্রতিবছর শুধু বৈধ পথে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফলে এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে শুধু শ্রমিকের চাকরি নয়, তাদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি খরচ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
দেশের বিরাট সংখ্যক জনসংখ্যার জীবনযাপন সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমলে ডলারের তুলনায় টাকার মান আরও কমবে। রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে মূল্যস্ফীতিতে হাসফাঁস করা দেশের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, দৈনন্দিন খাদ্য সংগ্রহ, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খরচ বহন করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন হবে।
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও উৎপাদন খরচকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের মতো তেল-আমদানিনির্ভর দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক, তাদের পরিবার ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এর প্রভাব সীমাহীন।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সংঘাত কেবল দূর-দূরান্তের রাষ্ট্রকে নয়, সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটতে থাকা যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত কুমিল্লার কোনো পরিবারের ভাতের থালায় এসে পৌঁছায়।