১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকসু ভোটের আগে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধ: সহিংসতা রোধ নাকি নিয়ন্ত্রণ?

ডাকসু নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যুক্তি দিয়ে প্রশাসন বলছে সহিংসতা ঠেকানোই লক্ষ্য। কিন্তু সমালোচকদের মতে—এটি একটি বিশেষ একটি পক্ষকে সুবিধে দেওয়ার কৌশল এবং এর ফলে ক্যাম্পাসে গোপন রাজনীতির পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

ডাকসু ভোটের আগে হলে রাজনীতি নিষিদ্ধ: সহিংসতা রোধ নাকি নিয়ন্ত্রণ?
ডাকসু নির্বাচন কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভোট নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র কেমন হবে—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীও।

শেখ রফিক

Published : 15 Aug 2025, 03:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এখন বেশ উত্তেজনা চলছে। ৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আবাসিক হলে রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা ততই নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ঘোষণার আগে টিএসসিতে যুদ্ধাপরাধীদের ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে প্রদর্শনী—যা ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদ ডেকে এনেছে এবং রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও প্রকট করেছে। প্রশাসন দাবি করছে, সহিংসতা ও দখলদারিত্ব রোধে এই সিদ্ধান্ত জরুরি। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী ও সংগঠন বলছে, এর আড়ালে চলছে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সীমিত করার পরিকল্পনা, যার সুবিধা পাবে তারা—যারা প্রকাশ্যে নয়, গুপ্ত রাজনীতিতে দক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরীক্ষাগার। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বই থেকে চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী লড়াই—প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ ছিল সম্মুখসারিতে। এখানে রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং অধিকার রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক চর্চা। আর সেই চর্চার হৃদপিণ্ড হলো ডাকসু।

ডাকসু নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আবাসিক হলে ‘প্রকাশ্য ও গুপ্ত’ রাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়াটা আকস্মিক হলেও এর আগে প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যদিও বলা হচ্ছে হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের এই আন্দোলনও একটি পরিকল্পনার অংশ। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজনকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ব্যানারে আয়োজিত প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে। যদিও পরে চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রদর্শনীটি সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া ছিল বিভক্ত। ছাত্র ইউনিয়ন একে বলেছে অপরিণামদর্শী—যা প্রকাশ্য রাজনীতিকে দুর্বল করে, গুপ্ত রাজনীতিকে শক্তিশালী করে। ছাত্রদল মনে করছে, ঈর্ষান্বিত পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ইস্যুটি উসকে দিয়েছে। কয়েকটি সংগঠনের অভিযোগ—শিবিরের গুপ্ত রাজনীতিকে সুবিধা দিতেই প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ছাত্রশিবির এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বলছে, পরিচয় লুকিয়ে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

এখন প্রশ্ন—এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের প্রয়াস, নাকি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার কৌশল? বাস্তবতা হলো, প্রশাসনের সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ঠতা আছে তারা অঘোষিতভাবেই প্রভাব বজায় রাখতে পারবে, কিন্তু বিরোধী ও স্বাধীন প্রার্থীরা কার্যত কোণঠাসা হবে। গুপ্ত রাজনীতি তো গুপ্তই, এটা নিষিদ্ধ করার সুযোগ কোথায়?

শিক্ষার্থীদের অনেকের শঙ্কা—এভাবে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে ‘গণরুম’ সংস্কৃতি বন্ধ করা যাবে না। বরং এর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীনদের আনুকূল্য পাওয়া ছাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে আর ভিন্নমতের ছাত্রদের জন্য পরিস্থিতি হবে দমনমূলক। রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সমর্থকরা অবশ্য পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, তারা বলছেন—রাজনীতি ফিরলে আবারও সহিংসতা ও দখলদারিত্ব ফিরে আসবে।

কিন্তু আসল সমাধান কি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা? নাকি প্রয়োজন ন্যায়সঙ্গত আবাসন নীতি, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা? অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত মূলত বিরোধী শক্তি ও স্বাধীন প্রার্থীদের দুর্বল করার জন্য নেওয়া হয়েছে, যা ডাকসু নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক চরিত্রকে ক্ষুণ্ন করবে।

২০১৯ সালে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন ফিরেছিল, কিন্তু পক্ষপাতিত্ব, ভয়ভীতি, হল দখলের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের আস্থা নষ্ট করেছিল। এবারের নির্বাচন তার চেয়েও বড় প্রশ্নের মুখে—এটি কি সত্যিই হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক? নাকি হলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে আগেই তার প্রাণহীন রূপ তৈরি করা হচ্ছে?

২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন তো লড়বেই। সম্ভবত স্বতন্ত্র প্যানেল এবারই সবচেয়ে বেশি হতে যাচ্ছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ডাকসুর এই নির্বাচনে এবারই প্রথম ইসলামী ছাত্রশিবির নির্বাচন করছে। ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শাখা সভাপতি সাদিক কায়েম। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ছাত্র শিবিরের ঢাবি শাখার বর্তমান সভাপতি এসএম ফরহাদ। এই দুজনই আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের ভেতরে লুকিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগে বহু সমালোচনাবিদ্ধ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এখনও পর্যন্ত তাদের প্যানেল ঘোষণা করেনি। তবে বাগছাস থেকে ভিপি পদে কাদের এবং জিএস পদে বাকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্র ফেডারেশন থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আরমানুল হক এবং জিএস পদে লড়বেন সাকিবুর রনি।

গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট থেকে মেঘমল্লার বসু ভিপি অথবা জিএস পদে নির্বাচনে লড়বেন। জোট বলছে, যদি স্বতন্ত্র প্যানেলের কাউকে ভিপি পদে সাপোর্ট দেওয়া হয়, তাহলে মেঘমল্লার বসু জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর যদি সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তিনি ভিপি পদেও লড়তে পারেন। অথবা, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট থেকে অন্য কাউকে ভিপি পদে মনোনীত করা হলে, সেক্ষেত্রেও বসু জিএস পদে লড়তে পারেন। তবে জোট স্পষ্ট করে বলছে, মেঘমল্লার বসু অবশ্যই ভিপি অথবা জিএস—যে কোনো এক পদে নির্বাচন করবেন। এছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট থেকে এজিএস পদে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের কথা বলা হচ্ছে। বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলেই জোটবদ্ধ হতে পারে তাহলে নির্বাচনের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উমামা ফাতেমা (ভিপি) এবং মহিউদ্দিন মাহী (জিএস)—যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি। শুরুতে উমামা ও মাহী এক প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচন করবেন বলে শোনা গেলেও সেই সমঝোতা ভেঙ্গে গেছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আরেক স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হচ্ছেন শামীম হোসেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংসদের জামালউদ্দিন খালিদ ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে ভিপি পদে লড়বেন বিন ইয়ামিন মোল্লা।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট রীতিমতন সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক দলের দখলে চলে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো, যেখানে যোগ্যতা বা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে স্বার্থপর নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের নয়, বরং নির্দিষ্ট দল ও সংগঠনের স্বার্থ রক্ষা করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগসহ শাসকগোষ্ঠীর ছাত্র সংগঠনগুলো হল-সিট দখল, নিপীড়ন ও জুলুমের রাজনীতি চালিয়ে আসছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র রাজনীতির প্রতি অবিশ্বাস ও হতাশা তৈরি করেছে। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীরা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির বিকাশের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, যা স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী ছাত্র সংগঠনের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়। তাই তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে।

গোপন রাজনীতি, সামাজিক কাজ ও ধর্মীয় কর্মসূচির আড়ালে অনায়াসে নিজেদের স্বার্থ চালানোর ফলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা সংকুচিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ বা সীমিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে এক নতুন ধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান ঘটাবে, যা ভিন্নমত দমন ও অগণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করবে। ছাত্র রাজনীতি না থাকলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের শক্তি থাকবে না। তাই ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বরং সন্ত্রাস ও দখলদারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং পরেও ডাকসু বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। মুক্তিযুদ্ধোত্তর কালে দীর্ঘ সময় ডাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকার কারণে এর কার্যকর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

বিগত নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, ডাকসুর ক্ষমতা সীমিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। তাই শুধু নির্বাচন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না— প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ও গঠনতান্ত্রিক কাঠামো, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেবে।

ইতিহাস বলছে, রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সহিংসতা বা দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি। বরং গোপনে রাজনীতি চালালে তা আরও অগণতান্ত্রিক, অস্পষ্ট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য মুক্ত ও উন্মুক্ত সংগঠিত হতে পারে না।

মনে রাখা প্রয়োজন— জুলাই অভ্যুত্থান ছিল, পুরো স্বৈরচারী-ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে এক গণজাগরণ। অভ্যুত্থানের পরের দিন থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের চেতনাকে পাল্টে দেওয়ার ডাক দিয়েছিল—দেয়ালজুড়ে, রাস্তায়, ক্যাম্পাসে এবং মঞ্চে। সেই সময় সারাদেশের ছাত্র সমাজ ও জনগণ লিখে দিয়েছিল, তারা কেমন বাংলাদেশ চায়: বাংলাদেশ কারো বাপের নয়, সবার। ধর্ম যার যার, দেশ সবার। আমরা চাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, যেখানে মানুষের চিন্তা ও বিশ্বাস থাকবে নিরাপদ। আমরা চাই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হোক, যেন কেউ ক্ষুধায়, বেকারত্বে, অনিশ্চয়তায় হারিয়ে না যায়। শিক্ষা শেষে চাকরি চাই, বেকারমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এই দেশ হবে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত—যেখানে রাষ্ট্রের সম্পদ লুটেরাদের পকেটে যাবে না, বরং জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে। তারা বলেছে: খুন-ধর্ষণের বিচার চাই, সমান অধিকারের বাংলাদেশ চাই, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ চাই, মানুষের মতো বাঁচতে চাই। এইসব স্লোগান ছিল ছাত্র-জনতার রক্তে লেখা বাংলাদেশের ইশতেহার।

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসেছে ডাকসু নির্বাচন। ডাকসু নির্বাচন কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভোট নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র কেমন হবে—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীও।