Published : 28 Jul 2026, 12:21 AM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে এবার ইন্টারনেটে আরেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তাদের শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে; যেটির প্রতীক কাঁকড়া।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নতুন সংগঠনটির নাম ‘ই২০ জনতা পার্টি’। এটি লোগো বা মাস্কট হিসেবে বেছে নিয়েছে কাঁকড়াকে। এ মাধ্যমে দ্রুত সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা বাড়ছে বলে তথ্য এনডিটিভির।
এরইমধ্যে ই২০ জনতা পার্টি ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির পদত্যাগের দাবি তুলেছে।
সিজেপির তীব্র আন্দোলনের মুখে রোববার পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দেশটির জাতীয় পরীক্ষাগুলোয় প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তরুণ প্রজন্ম (জেন জি) পরিচালিত এ রাজনৈতিক সংগঠন রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলে।
এ সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে থাকার মধ্যে সোমবার সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে কাঁকড়াদের এ সংগঠনের কথা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নীতির বিরোধিতা, পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি ও মাইলেজ কমে যাওয়ার অভিযোগ এবং গ্রাহকদের খাঁটি পেট্রোল কেনার বিকল্প অধিকার না দেওয়ার কারণ দেখিয়ে ই২০ জনতা পার্টি মন্ত্রী নীতিন গড়করির পদত্যাগ দাবি করছে।
এতে বলা হয়, ই২০ জনতা পার্টির প্রধান দাবি হল, জনগণের জন্য শত শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল কেনার সুযোগ দেওয়া এবং জ্বালানির স্বচ্ছ লেবেলিং নিশ্চিত করা। কারণ পেট্রোলে ইথানল মেশানোর বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘নিম্ন মানের’ মিশ্রণহীন জ্বালানিতে ফেরত যাওয়ার কোনো প্রস্তাব তাদের বিবেচনায় নেই।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এরইমধ্যে ইনস্টাগ্রামে ই২০ জনতা পার্টির অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিমুহূর্তে তাদের অনুসারীর সংখ্যা বাড়ছে।
E20 Janta Party is not a political party.
We are an independent citizens’ movement focused on raising issues that affect the common people. Our only agenda is to ensure transparency, protect consumer rights, and encourage an open public discussion on the real impact of India’s…
— E20 JANTA PARTY (@E20Party) July 26, 2026
সিএনবিসির খবরে বলা হয়, ই২০ জনতা পার্টির পেছনে কারা আছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। গত ২৬ জুলাই সংগঠনটির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে বলা হয়, “ই২০ জনতা পার্টি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। আমরা সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা তুলে ধরার লক্ষ্যে গঠিত একটি স্বাধীন নাগরিক আন্দোলন।
“আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভোক্তার অধিকার রক্ষা এবং ভারতের ই২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) নীতির প্রকৃত প্রভাব নিয়ে একটি উন্মুক্ত পাবলিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা অনুমোদন করি না। আমাদের সমর্থন সাধারণ জনগণের পক্ষে, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে নয়।
“এই আন্দোলনের পেছনে কারা আছে বা এটি কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে, এই ধরণের গুজব বা রটনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এই ধরনের জল্পনা-কল্পনা কেবল মূল বিষয় থেকে সবার নজর অন্যদিকে সরিয়ে দেয়। আমাদের দাবি একেবারেই সাধারণ; জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং ভোক্তাদের কথা শোনার অধিকার নিশ্চিত করা।”
ভারতে বর্তমানে যে পেট্রোল পাওয়া যায় সেটিকে ‘ই২০’ বলা হয়, কারণ এতে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে। সরকার এটিকে প্রযুক্তির দিক থেকে উন্নত বা আধুনিক জ্বালানি হিসেবে বর্ণনা করে।
তবে সমালোচকদের দাবি, ই২০ জ্বালানির কারণে গাড়ির মাইলেজ (প্রতি লিটারে চলার দূরত্ব) কমে যায় এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়।
যদিও ভারতের সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলছে, এটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব। কোনো ল্যাবরেটরি টেস্ট বা বাস্তব ব্যবহারের পর্যবেক্ষণে এমন প্রমাণ মেলেনি যে ই২০ ব্যবহারে ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি হয় বা ক্ষয় বাড়ে।
তবে সরকার স্বীকার করেছে, ই১০ প্রযুক্তির গাড়িগুলোতে ই২০ জ্বালানি ব্যবহার করলে মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে।