‘বিদেশ থেকে ৬০ কোটি রুপি এসেছিল জাকির নায়েকের অ্যাকাউন্টে’

বিতর্কিত ভারতীয় বক্তা জাকির নায়েকের ব্যাংক হিসাবে গত তিন বছরে তিনটি দেশ থেকে প্রায় ৬০ কোটি রুপি জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে ভারতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 August 2016, 07:09 PM
Updated : 12 August 2016, 07:33 PM

পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার বলা হয়, ওই সব অর্থ পরে জাকির নায়েকের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় বলে মুম্বাই পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জাকির নায়েকের আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করে তার লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পেয়েছেন তারা।

তিনটি দেশ থেকে এসব অর্থ পাঠানো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এখনও জানি না কী জন্য এই অর্থ এসেছিল। আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে এসব অর্থের হদিস পেয়েছি। টাকাগুলো পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল।”

গত মাসে ঢাকার গুলশানের এক ক্যাফেতে হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জনের প্রাণহানির পর জঙ্গিবাদে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশে জাকির নায়েকের পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়। গুলশানে হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত দুজন তার বক্তৃতা নিয়মিত শুনতেন বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে।

জাকির নায়েকের ভাষণে প্ররোচিত হয়ে ভারতের কয়েকজন তরুণের আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমানোরও খবর আসে সংবাদমাধ্যমে।

এসব বিষয় প্রকাশ্যে আসার পর জাকির নায়েকের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার; মুম্বাইয়ে তার অফিস ঘিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই থেকে প্রচারিত তার পিস টিভির সম্প্রচার ভারতে নিষিদ্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় কেবল অপারেটররা সেটি দেখাতেন। সেটিও বন্ধের উদ্যোগ নেয় ভারত সরকার। এ অবস্থায় সৌদি আরবে থাকা জাকির নায়েক ভারতে ফেরার ঘোষণা দিলেও তিনি আর নিজ দেশে ফেরেননি।

ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ) প্রতিষ্ঠা করে তার মাধ্যমেই পিস টিভির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন জাকির নায়েক।

অনুসন্ধানে পাওয়া ৬০ কোটি রুপি তার এনজিও ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নামে নয়, তার নিজের অ্যাকাউন্টে এসেছিল বলে জানান মুম্বাই পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

“আমরা জাকির নায়েকের আয়ের উৎস সম্পর্কে তাদের (আইআরএফ কর্মকর্তাদের) জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি, অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা জমাদানকারী ও নায়েকের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপারে,” বলেন তিনি।

আইআরএফ ছাড়াও আইআরএফ এডুকেশনাল ট্রাস্ট নামে জাকির নায়েকের আরেকটি এনজিও রয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, এই দুটি এনজিওর বিরুদ্ধে ভারতের ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট-২০১০’ এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

ওই আইনের আওতায় দুটি এনজিওই ‘শিক্ষামূলক’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধিত হলেও তারা বিদেশি তহবিল নিয়ে ‘ধর্মীয় ও ধর্ম-সংক্রান্ত’ কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ থাকায় সেটি আইনের লংঘন কি না সেটি খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে ওই ৬০ কোটি রুপির মধ্যে কোনো অবৈধ অর্থ নেই বলে দাবি করেছেন জাকির নায়েকের ঘনিষ্ঠ একজন।

তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, “কোনো অবৈধ লেনদেন নেই। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ অর্থ এসেছিল এবং আয়কর বিভাগ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আইআরএফের সব লেনদেনের তথ্য যাচাই করা।

“যা-ই হোক এসব অর্থ সাদা এবং সব তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাড়াতেও এটা সাহায্য করছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক