Published : 19 Dec 2025, 06:13 AM
ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে ফার্মগেটে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের পর ছাদে আটকা পড়া একজন সাংবাদিক তার রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগের পর উন্মুত্ত জনতার একাংশ যখন ডেইলি স্টার ভবনের দিকে অগ্রসর হয়, তখন বাইরে থেকে একজন ফোনে তাদের সেই খবর দেন।
খবর পেয়ে ডেইলি স্টারের বার্তা কক্ষে থাকা কর্মীরা নেমে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে ভবনের নিচে ‘মব’ এসে ভাঙচুর শুরু করে এবং এক পর্যায়ে আগুন দেয়।
ওই অবস্থায় ধোঁয়ার মধ্যে নিচে নামার চেষ্টা বাদ দিয়ে সংবাদকর্মীদের একটি অংশ উঠে যান দশ তলার ছাদে।
ওই সাংবাদিক বলেন, সব মিলিয়ে তারা মোট ২৮ জন ছিলেন। ভীষণ উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন সবাই।
কিছুক্ষণ পর ভবনের ক্যান্টিন বয় সাহস করে ছাদ থেকে ভবনের বাইরের ফায়ার এক্সিটের মই বেয়ে নেমে যান। কিন্তু নামার পর তিনি মবের কবলে পড়েন এং মারধরের শিকার হন। ওই ঘটনা দেখে অন্যরা আর কেউ মই বেয়ে নামার সাহস করেননি।
এক পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে নিচতলার আগুন নেভায় এবং চারজন ফায়ারম্যান ছাদে উঠে আসেন আটকা পড়া কর্মীদের নামিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু নিচে উন্মুত্ত জনতার ভাঙচুর চলতে থাকায় কেউ নামার সাহস পাচ্ছিলেন না। তারা ছাদের দরজা বন্ধ করে দেন।
ফায়ার সর্ভিসের কর্মীরা সাহস দিয়ে বলছিলেন, নিচে সেনাবাহিনী আছে, ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হামলাকারীদের কয়েকজন ছাদে উঠে এসে দরজায় ধাক্কা দেওয়া শুরু করলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন ছাদে থাকা ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মীও ভড়কে যান।
আটকা পড়া সংবাদকর্মীরা ছাদে থাকা টব জড়ো করে দরজা আটকে রাখার চেষ্টা করেন। তাদের সময় কাটতে থাকে আতঙ্কের মধ্যে।
এক পর্যায়ে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ডেইলি স্টার ভবনের নিচে এসে হামলাকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে নূরুল কবীর উল্টো হেনস্তার শিকার হন।
পরে ভবনের নিচে থাকা সেনা সদস্যরা কৌশল করে এক পাশের সিঁড়ি ছেড়ে দেন। হামলাকারীরা তখন ওই পাশ দিয়ে উপরে উঠে ভাঙচুর-লুটপাট শুরু করে।
এই ফাঁকে ছাদে এবং ভবনে আটকা পড়া ডেইলি স্টার কর্মীদের ফায়ার এক্সিটের সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে এনে পেছন দিক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। ততক্ষণে ভোর পৌনে ৪টা বেজে গেছে।
ডেইলি স্টারের ওই সাংবাদিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কপাল ভালো, আজ বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। জানি না দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।”