Published : 06 Apr 2026, 07:51 PM
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহরুন রুনি হত্যার বিচার দীর্ঘ দেড় দশকেও না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক সমিতির নেতারা।
তাদের দাবি, তদন্তে অবহেলা ও ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রভাবের কারণেই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বলা হয়, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, "সাগর-রুনি হত্যার বিচারের জন্য শুরুতে সাংবাদিকদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, তা সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে একটি মহল সুবিধা নিয়েছে।"
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, “সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ। এই হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে কেউই নিরাপদ থাকবে না।”
ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, “এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১২৩ বার পেছানো হয়েছে, যা নজিরবিহীন। কেন র্যাবের হাতে তদন্ত দেওয়া হল, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।”
সাংবাদিক হারুনুর রশিদ স্বপন বলেন, "সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির কথা বলা হলেও ১৪ বছরেও তা বাস্তবে দেখা যায়নি। পর্দার আড়ালে শক্তিশালী কোনো গোষ্ঠী এই ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে সন্দেহ রয়েছে।
“বিগত সরকারের পাশাপাশি পরবর্তী সময়েও মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব, এই ধামাচাপার সংস্কৃতি ভেঙে দেওয়া।"
সাংবাদিকরা ডিআরইউসহ অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাগর-রুনি হত্যার বিচারের জন্য আন্দোলনের ডাক দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে সংগঠনের সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ডিআরইউর সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুশান্ত সাহা সমাবেশে বক্তব্য দেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।
রুনির ভাই নওশের আলম রোমান সে সময় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় বিচার প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি।
পুরনো খবর
সাগর-রুনি হত্যা: কেন প্রতিবেদন জমা হল না? ব্যাখ্যা তদন্ত কর্মকর্তার
সাগর-রুনি হত্যার ১৪ বছর: 'যতদিন নিঃশ্বাস আছে, ততদিন বিচার চাইতে থাকব'