যে মানসিকতায় জীবনে আসবে সাফল্য
ভুল বা ব্যর্থতা কি পথ আগলে দাঁড়াচ্ছে নাকি নতুন পথ দেখাচ্ছে?
জীবনযাত্রার প্রতিটি ধাপে নানান বাধা-বিপত্তি, ভুল সিদ্ধান্ত বা ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিগুলোতে একজন মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তার নিজস্ব ‘মানসিকতা’ বা ‘মাইন্ডসেট’-এর ওপর।
মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভুল বা ব্যর্থতাকে শেষ সীমানা মনে না করে সেটিকে শেখার একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখাই হল ‘বিকাশমুখী মানসিকতা’ বা ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’।
সাইকোলজি টুডে-র নির্বাহী সম্পাদক ও মনস্তত্ত্ববিদ লিবি মা, তার জীবনমুখী পর্যালোচনায় নিজের বাবার জীবনের এক লড়াইয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন।
যুদ্ধের প্রতিকূলতা এবং পরিবারের চরম অসহযোগিতা সত্ত্বেও কেবল তীব্র কৌতূহল এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি বই পড়ে ঘোড়ায় চড়া, সাঁতার বা হারমোনিকা বাজানো শিখেছিলেন। এমনকি বোমা হামলার কারণে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পায়ে হেঁটে অন্য একটি দূরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেছিলেন।
লিবি মা-এর মতে, “এই ধরনের মানসিক স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হল গ্রোথ মাইন্ডসেটের মূল ভিত্তি, যা মানুষকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও আশাবাদী রাখতে সাহায্য করে।”
এই মনোবিদের মতে, “যখনই কোনও ব্যক্তি সমালোচনা বা চ্যালেঞ্জের মুখে অতিরিক্ত আত্মরক্ষামূলক বা নিরাপত্তাহীন বোধ করেন, তখনই তার মানসিকতা ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ থেকে সরে গিয়ে ‘স্থবির মানসিকতা’ বা ‘ফিক্সড মাইন্ডসেট’-এ রূপ নেয়।”
প্রয়াত মার্কিন মনস্তত্ত্ববিদ রিক স্নাইডার, তার ‘আশা’ বা ‘হোপ থিওরি’ এবং বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত গবেষণায় দেখিয়েছেন, একটি ক্ষিপ্র ও নমনীয় সংবেদনশীলতা মানুষকে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে আফসোস করার পরিবর্তে পাশে থাকা খোলা দরজাগুলো দেখতে সাহায্য করে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলি’র মনস্তত্ত্বের অধ্যাপক অ্যালিসন গোপনিক, শিশুদের সহজাত জ্ঞানীয় ক্ষমতার ওপর করা একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, প্রাপ্তবয়স্করা কোনও খেলনা সচল করার ক্ষেত্রে তাদের পুরানো ও চেনা নিয়মেই আটকে থাকেন। অন্য দিকে, শিশুরা খুব সহজেই আগের ব্যর্থ পদ্ধতি বর্জন করে সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে খেলনাটি সচল করতে পারে।
এই মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, “পরাজয়বাদী শব্দচয়ন পরিহার করে নিজের ভেতরের এই সহজাত কৌতূহল ও শেখার আগ্রহকে বাঁচিয়ে রাখাই বার্ধক্যকে জয় করার এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার উপায় হিসেবে কাজ করে।”
