Published : 30 Jul 2026, 12:23 PM
প্রতিবছর ২৯ জুলাই বিশ্ব লিপস্টিক দিবস পালিত হয়। তাই বলে, সারা বছর কি ঠোঁট রাঙানো বন্ধ থাকবে? মোটেই তা নয়।
তবে সকালে যত্ন করে লিপস্টিক লাগিয়ে বের হওয়ার পর, দুপুরের খাবার বা এক কাপ চা শেষ হতেই ঠোঁটের রং ফিকে হয়ে পড়ে। অফিস, ভ্রমণ কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে বারবার লিপস্টিক ঠিক করও হয়ে ওঠে বেশ বিরক্তিকর।
তাই বিশ্ব লিপস্টিক দিবস চলে গেলেও, জেনে নেওয়া যেতে পারে ঠোঁটে লিপস্টিকের রং দীর্ঘ সময় ধরে রাখার কার্যকর কৌশল।
প্রথম ধাপ, ঠোঁট প্রস্তুত করা
রূপ বিশারদ ও বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান শারমিন কচির মতে, “ঠোঁটের রংয়ের ভিত্তি তৈরি হয় লিপস্টিক লাগানোর আগেই। ঠোঁটে যদি মৃত কোষ জমে থাকে বা শুষ্ক চামড়া উঠে থাকে, তাহলে কোনো লিপস্টিকই দীর্ঘ সময় সুন্দর দেখাবে না।”
তিনি পরামর্শ দেন, “নরম ভেজা কাপড় অথবা চিনি দিয়ে তৈরি মৃদু স্ক্রাবের সাহায্যে ঠোঁটের মৃত কোষ পরিষ্কার করা যেতে পারে। এরপর হালকা আর্দ্রতাদায়ক লিপবাম লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, যাতে তা ঠোঁটে ভালোভাবে শোষিত হয়।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “সপ্তাহে দুয়েকবারের বেশি ঠোঁট ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে, ঠোঁটের কোমল ত্বকের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।”
আর্দ্রতাদায়ক লিপবামের অতিরিক্ত অংশ মুছে নেওয়া
আর্দ্রতাদায়ক বাম ব্যবহার করে এর ওপর লিপস্টিক ব্যবহার করা কোনোভাবেই সঠিক উপায় না বরং এটি সাধারণ ভুল।
তাই বাম ব্যবহারের পর বাড়তি অংশ আলতোভাবে মুছে ফেলতে হবে। কারণ অতিরিক্ত তেলতেলেভাব থাকলে লিপস্টিক ঠোঁটের সঙ্গে ভালোভাবে আটকে থাকতে পারে না। ফলে খুব দ্রুত লিপস্টিক উঠে যেতে শুরু করে।
পাতলা স্তরে লিপস্টিক ব্যবহার
একবারেই বেশি পরিমাণে লিপস্টিক দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন, এই রূপচর্চাকর।
প্রথমে একটি পাতলা স্তর লাগিয়ে টিস্যু দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে অতিরিক্ত অংশ তুলে ফেলতে হবে। এরপর আরেকটি পাতলা স্তর ব্যবহার করতে হবে। এতে রং আরও সমানভাবে বসে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।
শারমিন কচি বলেন, “লিপস্টিক ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে দুই ঠোঁট বারবার ঘষা উচিত নয়। এতে রং ঠিকভাবে বসার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”
শুধু কিনারা নয়, পুরো ঠোঁটেই লিপলাইনার
শুধু ঠোঁটের বাইরে লিপলাইনার দিয়ে রেখা এঁকে লিপস্টিক ব্যবহার করা যথাযথ উপায় নয়। পুরো ঠোঁটেই একই রংয়ের রেখা টেনে ভরাট করে নেওয়া ভালো।
এটি লিপস্টিকের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করে। ফলে ওপরের রং কিছুটা ফিকে হয়ে গেলেও, নিচের স্তরটি ঠোঁটের রং সমান রাখে এবং লিপস্টিক দীর্ঘ সময় সুন্দরও দেখায়।
শারমিন কচির ভাষায়, “পুরো ঠোঁট ভরাট করে রেখা ব্যবহার করলে লিপস্টিকের স্থায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়।”
বর্ষাকালে বাড়তি যত্ন
বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় লিপস্টিকের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। তাই এই সময়ে পুরো লিপস্টিক, পুনরায় নতুন করে লাগানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন, শারমিন কচি।
তিনি পরামর্শ দেন, “প্রথমে ফিকে হয়ে যাওয়া অংশ আলতোভাবে পরিষ্কার করে শুধু প্রয়োজনীয় জায়গায় নতুন করে লিপস্টিক লাগাতে হবে। এরপর চাইলে ঠোঁটের মাঝখানে অল্প পরিমাণ লিপগ্লস দেওয়া যেতে পারে। এতে ঠোঁট সতেজ দেখাবে এবং অতিরিক্ত ভারীও লাগবে না।”
ঠোঁটের ধরন বুঝে প্রসাধনী
সব ধরনের ঠোঁটের জন্য একই ধরনের লিপস্টিক উপযুক্ত নয়। কারও ঠোঁট বেশি শুষ্ক হলে দীর্ঘস্থায়ী হলেও অতিরিক্ত শুষ্কতা সৃষ্টি করে এমন প্রসাধনী ব্যবহারে অস্বস্তি হতে পারে।
তাই ঠোঁট সহজেই শুষ্ক হয়ে গেলে নিয়মিত আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন লিপস্টিক ব্যবহারই ভালো।
আরও পড়ুন