০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের উপায়

সুস্থ সম্পর্কে থেকে তীব্র সংশয়ে ভোগা হতে পারে মানসিক ব্যাধির লক্ষণ।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2026, 02:39 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

একটি সুন্দর ও বিশ্বস্ত সম্পর্কের মধ্যে থেকেও প্রতিনিয়ত সঙ্গীর ভালোবাসা নিয়ে মনে মনে এক ধরনের তীব্র সন্দেহ করা এক নীরব মানসিক সংকট।

সবকিছু ঠিকঠাক চলার পরেও— ‘সঙ্গী কি আসলেই ভালোবাসেন?’, ‘সম্পর্কটি কি টিকবে?’, নাকি ‘হঠাৎ করে একদিন ব্রেইকআপ হয়ে যাবে?’— এমন অনবরত চিন্তার কাল্পনিক জালে জড়িয়ে থাকাকে মনস্তত্ত্বের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটি’ বা ‘সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তা’

হেল্থলাইন ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই দীর্ঘমেয়াদী মানসিক অস্থিরতা অবহেলা করলে, শরীরে তীব্র ক্লান্তি, অবসাদ ও পেটের গোলযোগের মতো নানান শারীরিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।

সম্পর্কজনিত দুশ্চিন্তার প্রধান লক্ষণ

অনেকেই বুঝতে পারেন না তাদের এই ক্ষণস্থায়ী ভয়গুলো কখন একটি মানসিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ৪টি লক্ষণ দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া সম্ভব।

নিজের গুরুত্ব নিয়ে সারাক্ষণ সন্দেহ করা: মার্কিন মনোবিদ অ্যাস্ট্রিড রবার্টসন ব্যাখ্যা করেন,“রিলেশনশিপ অ্যাংজাইটি’র বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন মনের গভীরে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন জাগে— ‘আমি কি সঙ্গীর কাছে আসলেই গুরুত্বপূর্ণ?’ সঙ্গী একটু ব্যস্ত থাকলে বা বার্তার উত্তর দিতে সামান্য দেরি করলেই মনে হয় তার অনুভূতি পরিবর্তন হয়ে গেছে।”

সম্পর্ক ভাঙার অবিরাম ভয় ও অবদমন: সঙ্গী রাগ করতে পারেন বা ছেড়ে চলে যেতে পারেন— এই অবচেতন ভয়ে মানুষ নিজের প্রয়োজনীয় ভালো বা মন্দ লাগাগুলো সঙ্গীর সামনে প্রকাশ করা বন্ধ করে দেয়।

কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও, শুধুই সম্পর্ক টেকাতে নিজের মতামতকে অবদমন করে রাখা বড় লক্ষণ।

তিলকে তাল করে দীর্ঘমেয়াদী অমিল খোঁজা: সম্পর্ক খুব চমৎকার কাটলেও মস্তিস্ক প্রাকৃতিকভাবেই তুচ্ছ বা ছোটখাটো অমিলগুলোকে বড় করে দেখতে শুরু করে। যেমন— সঙ্গীর গানের বা আসবাবপত্রের পছন্দ আলাদা হলে, তা দিয়ে পুরো সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে ধরে নেওয়া।

অবচেতনভাবে সম্পর্ক নষ্ট করার প্রবণতা: যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ‘ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি থেরাপিস্ট’ ডা. জেনিফার লিটনার বলেন, “অনেকে নিজের অজান্তেই সঙ্গীর সঙ্গে অহেতুক তর্কে লিপ্ত হন। মন খারাপ হলে নিজেকে গুটিয়ে নেন কিংবা সঙ্গীর ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করতে সম্পর্কের সীমারেখা ভাঙার চেষ্টা করেন।”

এর প্রধান মনস্তাত্ত্বিক উদ্দেশ্য হল, সঙ্গী তাকে কতটা ভালোবাসেন তা অবচেতনভাবে যাচাই করা।

এই মানসিক সংশয় শান্ত করার ৪টি নিয়ম

সম্পর্কের এই ক্ষতিকর চক্র ভেঙে নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাসকে সুযোগ দিতে বিশেষজ্ঞরা ৪টি নিয়ম অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন।

নিজের স্বকীয়তা ও সত্তা বজায় রাখা: কাউকে ভালোবাসার অর্থ মানে, নিজের ব্যক্তিগত ভালোলাগা, শখ বা নিজস্ব স্বাধীনতাকে পুরোপুরি বিসর্জন দেওয়া নয়। সঙ্গী মূলত আপনার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়েছিলেন, তাই সম্পর্কের খাতিরে নিজের সত্তাকে চেপে রাখলে সঙ্গীও এক সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

মনের প্রাপ্তি ও বর্তমান মুহূর্তকে প্রাধান্য দেওয়া: ভবিষ্যতের কাল্পনিক দুশ্চিন্তায় মগ্ন না থেকে বর্তমান মুহূর্তে সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়গুলোকে উদযাপন করা উচিত। সম্পর্কটি কয়েক বছর পর টিকবে কি-না, তা নিশ্চিত না হলেও, বর্তমানের ভালোলাগাগুলোকে উপভোগ করাই মস্তিস্ককে শান্ত রাখার বৈজ্ঞানিক উপায়।

সংলাপে ‘আমি’ ব্যবহার করা: কোনো বিষয়ে ক্ষোভ থাকলে সঙ্গীকে সরাসরি দোষারোপ না করে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করা ভালো।

যেমন, ‘তুমি ইদানীং বদলে গেছ’ বলার চেয়ে ‘আমার মনে হচ্ছে আমাদের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলছে’— এভাবে কথা বললে স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।

আবেগের বশে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বর্জন: মনের ভেতরে কোনো অস্থিরতা কাজ করলে হঠাৎ করে সঙ্গীকে ঘন ঘন টেক্সট করা বা তার অবস্থান নিয়ে জেরা করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

যখনই এমন তীব্র আবেগ আসবে, তখন গভীর শ্বাসের ব্যায়াম করা, একটু হেঁটে আসা কিংবা কোনো বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে মনোযোগ ঘুরিয়ে নেওয়া নিরাপদ।

আরও পড়ুন

পুরুষের যেসব আচরণে নারী ‘ব্রেইকআপ’ করে

সঙ্গী বিশ্বাসঘাতক হওয়ার মানসিক লক্ষণ

ভালোলাগার মানুষটি অবহেলা করলে

অনিশ্চিত সম্পর্কে আছেন কি-না, বুঝবেন যেভাবে