০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মন খারাপ করা ‘কনটেন্ট’ বাড়ায় মানসিক ক্লান্তি

খুঁজে খুঁজে আনন্দদায়ক বা শিক্ষামূলক বিষয় দেখার নাম ‘ব্লুমস্ক্রলিং’।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 06:29 PM

Updated : 07 Oct 2026, 06:29 PM

অবসরে, কাজের ফাঁকে বা শুধুই সময় কাটাতে চোখ ফেলে না ফোনের পর্দায় থেকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা নানান তথ্য, ভিডিও বা ছবি আনন্দ দেয়, মজা লাগে কখনও আবার মন খারাপ করে দেয়।

তথ্য জানার প্রয়োজন আছে। তবে সব সময় নেতিবাচক খবরের মধ্যেই ডুবে থাকা মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলতে পারে।

তাই পুরোপুরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরিবর্তে দেখার বিষয়টি সচেতনভাবে বদলে দেওয়া যেতে পারে।

মন ভালো করা, আনন্দদায়ক ও অনুপ্রেরণামূলক বিষয় খুঁজে দেখার এই অভ্যাসকেই বলা হয় ‘ব্লুমস্ক্রলিং’।

ব্লুমস্ক্রলিং বলতে যা বোঝায়

ইচ্ছা করেই এমন সব বিষয় দেখা, যা মনকে ভালো করে, শান্ত করে বা আনন্দ দেয়।

সুন্দর প্রকৃতির দৃশ্য, মজার ভিডিও, প্রাণীর ছবি, মানুষের ভালো কাজের গল্প, ভ্রমণের দৃশ্য, রান্না, নিজের পছন্দের শখ বা কোনও অনুপ্রেরণামূলক বিষয় সবই এর মধ্যে পড়তে পারে।

মার্কিন স্নায়ু ও মনোবিজ্ঞানী ড. সানাম হাফিজ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “ব্লুমস্ক্রলিং হল অনলাইনে এমন সব বিষয় ইচ্ছা করে দেখা, যা ভালো অনুভূতি তৈরি করে।”

অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুলে সেখানে যা সামনে আসছে, তা নির্বিচারে দেখার বদলে নিজের মন ভালো রাখে এমন বিষয় বেছে নেওয়াই এর মূল কথা।

আর এর মাধ্যমেই নিজের মানসিক শান্তি রক্ষা করা, মেজাজ ভালো রাখা এবং অনলাইন ব্যবহারে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা সম্ভব। তারমানে এই নয় যে, খারাপ খবর বা বাস্তবতার দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে হবে।

নিউ ইয়র্ক সিটি’র ‘কমপ্রিহেন্ড দ্য মাইন্ড’ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড. সানাম হাফিজের মতে, “খারাপ ঘটনা ঘটছে না এমন মনে করা বা সব ধরনের খবর এড়িয়ে চলাই ব্লুমস্ক্রলিংয়ের উদ্দেশ্য নয়। বরং অনলাইনে দেখা বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করাই এর লক্ষ্য। সবকিছু যদি উদ্বেগ, রাগ বা অস্থিরতা তৈরি করে, তাহলে নিজের জন্য কিছুটা আনন্দদায়ক বিষয় রাখাও জরুরি।

নেতিবাচক খবরের মধ্যে আটকে গেলে যা হয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খবর দেখার পর একই ধরনের আরও অনেক খবর সামনে আসতে থাকে।

একটি দুশ্চিন্তার বিষয় থেকে আরেকটি, তারপর আরও একটি— এভাবে কখন দীর্ঘ সময় চলে যায়, তা বোঝা কঠিন।

এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘ডুমস্ক্রলিং’। অর্থাৎ একের পর এক নেতিবাচক বা উদ্বেগ তৈরি করা বিষয় দেখতে থাকা। আর ডুমস্ক্রলিংয়ের বিপরীত ধারণাই হল ব্লুমস্ক্রলিং।

একের পর এক খারাপ খবর দেখতে থাকলে মানুষ বেশি উদ্বিগ্ন, বিরক্ত ও ক্লান্ত বোধ করতে পারে। ফোন রেখে দেওয়ার পরও সেই খবরগুলো মাথায় ঘুরতে থাকে। মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হতে পারে এবং একই বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।

দম্পতি ও পরিবারবিষয়ক মার্কিন থেরাপিস্ট নিলুফার নেকুর মতে, “ডুমস্ক্রলিং মানুষের মধ্যে চাপ ও অতিরিক্ত  সতর্কতার একটি ধারাবাহিক চক্র তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ নতুন কোনও বিপদের খবর আসছে কি-না, সেটি দেখার জন্য বারবার পর্দার দিকে তাকানো শুরু হয়।

এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।”

অন্যদিকে, ব্লুমস্ক্রলিংয়ের সময় মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও স্থিতিশীল ডোপামিন নিঃসরণ বাড়াতে পারে।

ইতিবাচক সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে এই রাসায়নিকগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভালো গল্প, মানুষের উপকার করার দৃশ্য বা আনন্দদায়ক বিষয় দেখা মনকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পুরোপুরি বন্ধ করাই কি সমাধান?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শও পাওয়া যায়। তবে বাস্তবতায় থেকে সকলের জন্য সেটা সম্ভব নাও হতে পারে।

কারণ কাজ, তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন প্রয়োজনেও এটা ব্যবহার হয়।

তাই সবকিছু ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে কী দেখা হচ্ছে, সেটির দিকেই নজর দেওয়া যেতে পারে। নিজের পছন্দের বিষয়গুলো সামনে রাখলে একই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও মানসিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

ইতিবাচক বিষয় দেখার মাধ্যমে পৃথিবীতে শুধু খারাপ ঘটনাই ঘটছে না, ভালো ঘটনাও ঘটছে এই অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে মানুষের প্রতি সহানুভূতিও বাড়তে পারে।

নিজের পর্দাকে নিজের মতো করে সাজান

ব্লুমস্ক্রলিংয়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু সুবিধা কাজে লাগানো যায়।

নিলুফার নেকু এমন বিষয় কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন, যেগুলো দেখলে বারবার মন খারাপ হয়।

কোনও বিষয় পছন্দ না হলে সেটি আর দেখতে না চাওয়ার ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রকাশনা বিরক্তিকর হলে সেটিও নীরব করা যেতে পারে।

ডা. সানাম হাফিজ বলেন, “কোন কোন বিষয় দেখার পর নিজেকে উদ্বিগ্ন, রাগান্বিত, অনিরাপদ বা মানসিকভাবে নিঃশেষ মনে হয়, সেদিকে খেয়াল করা দরকার। এমন বিষয় বা ব্যক্তির অনুসরণ বন্ধ করে বরং যেসব বিষয় হাসায়, নতুন কিছু শেখায় বা নিজের আগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।”

অপ্রয়োজনীয় বার্তার শব্দ বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করা বা প্রয়োজন না থাকলে কিছু সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ব্যবহার সরিয়ে রাখাও কাজে আসতে পারে।

পুরানো খবর:

যৌন জীবন নষ্টের পেছনে স্মার্টফোন
সবুজেই মিলতে পারে মনের শান্তি
মোবাইল ফোনের কারণে ঘাড়ে ব্যথা হলে
পোস্ট করার পর যে কারণে বারবার চোখ চলে যায় ফোনে