২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ছোট বসার ঘর যেভাবে বড় দেখানো যায়

এক আসবাবের বহুমুখী ব্যবহার জায়গা দখর কমায়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Nov 2025, 05:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:06 PM

ছোট বাসা মানেই যেন জায়গার অভাব, সজ্জার সীমাবদ্ধতা আর একঘেয়েমি পরিবেশ— এই ধারণা কিন্তু এখন আর ঠিক নয়।

সামান্য পরিকল্পনা, মাপজোক আর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে ছোট বসার ঘরও হয়ে উঠতে পারে বড়, আরামদায়ক ও রুচিশীল।

বড় সোফা রাখতেই পারেন

অনেকেরই ধারণা, ছোট ড্রয়িংরুমে ছোট সোফা বামানায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজাইনার থেকলা গ্লুকের মতে, এটি ভুল ধারণা।

তিনি রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “ছোট ঘরে স্ট্যান্ডার্ড সাইজের সোফা রাখলে ঘর বরং বড় দেখায়।”

আগে ঘরের পরিমাপ ভালোভাবে জেনে নিয়ে সোফা নির্বাচন করা উচিত। বড় সোফা বসালে বসার আরাম বাড়ে এবং ঘরের ভারসাম্যও ঠিক থাকে।

পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখা বা আড্ডার সময় এটি হয়ে উঠবে আরামদায়ক কেন্দ্রবিন্দু।

সংরক্ষণযোগ্য আসবাব ব্যবহার

ছোট ড্রয়িংরুমে জায়গার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অগোছালো জিনিসপত্র। কাগজ, চিঠি, ব্যাগ বা বিভিন্ন ছোটখাটো জিনিস। তাই আসবাব নির্বাচনেই থাকতে হবে বুদ্ধিমত্তা।

ছোট জায়গায় প্রতিটি আসবাবের কাজ থাকা উচিত একাধিক। এমন আসবাবই জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।

লুকানো স্টোরেজসহ বেঞ্চ, তার-ঢাকা কনসোল টেবিল বা সোফার নিচে ঢুকে যাওয়া সাইড টেবিল ব্যবহার করা উচিত। এতে চলাচলের পথ ফাঁকা থাকে, ঘর বড় দেখায় এবং ব্যবহারও সহজ হয়।

বহুমুখী আসবাব

একটি ঘর যদি বসার জায়গা, খাবার কোণা এবং কাজের জায়গা— সব একসঙ্গে হয়, তাহলে আলাদা আলাদা আসবাবের দরকার পড়ে না।

এমন ঘরে একটি বহুমুখী কাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে টানলে ডেস্ক বের হয় বা ভাসমান তাক ব্যবহার করে মেঝের জায়গা বাঁচানো যায়।

এমনকি সুন্দরভাবে সাজানো বই বা কফি টেবিলের বইও হতে পারে দারুণ সাইড টেবিলের বিকল্প।

ছাদ পর্যন্ত সাজান

উচ্চতার ব্যবহার ছোট ঘরকে বড় দেখানোর সহজ উপায়।

অনেক সময় মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত তাক বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ঘর পায় স্থাপত্যগত সৌন্দর্য আর প্রয়োজনীয় স্টোরেজ।

যদি বহুমুখী আসবাব বসানো সম্ভব না হয়, তাহলে বাজারে পাওয়া যায় এমন তাক কিনতে পারেন।

নিচের অংশে দরজাযুক্ত আলমারি রাখলে অতিরিক্ত চাদর বা বড় জিনিস সহজেই লুকিয়ে রাখা যায়।

জানালার পর্দায় হোক শৈল্পিক ছোঁয়া

ছোট ঘরে জানালার পর্দা কেবল গোপনীয়তার জন্য নয়, বরং শৈল্পিক শিল্প। রঙিন বা নকশাদার কাপড় ঘরে এনে দেয় প্রাণচাঞ্চল্য। তবে পর্দার রডটি যেন ছাদ থেকে কয়েক ইঞ্চি নিচে বসানো হয়।

এতে চোখ ওপরের দিকে যায়, ফলে ছাদ উঁচু মনে হয় এবং ঘর বড় দেখায়।

পুরানো আসবাবের নতুন ব্যবহার

বর্তমানের অনেক আসবাব বড় ঘরের জন্য তৈরি। তাই ছোট জায়গার সঙ্গে মেলে না। এই সমস্যার সহজ সমাধান—পুরানো বা ভিনটেজ আসবাব।

মার্কিন অন্দরসজ্জাকর সারাহ স্কেলসের মতে, “পুরানো আসবাব সাধারণত ছোট আকারের হয় এবং ঘরে আনে এক অনন্য চরিত্র।”

তাই চাইলে পুরানো চেয়ার বা সোফার কাপড় পাল্টে বা নতুন কুশন বসিয়ে সেটিকে দিতে পারেন সম্পূর্ণ নতুন রূপ।

আলোই পরিবর্তন আনে

ছোট ঘরের মাধুর্য গড়ে দেয় আলোর বিন্যাস। অর্থাৎ আলো একটি ঘরকে গড়ে তোলে বা ভেঙে দেয়।

ছাদের ঝাড়বাতি হোক বা দেয়ালে লাগানো প্রতিটি আলোই গুরুত্বপূর্ণ।

সারাহ একই প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন, “ঘরে আলো রাখতে হবে বিভিন্ন স্তরে। ছাদের আলো, টেবিল ল্যাম্প, দেয়ালের লাইট ইত্যাদি। এমনকি বইয়ের স্তূপের ওপরে রাখা ছোট ল্যাম্পও ঘরে এনে দেয় ভিন্ন উষ্ণতা।”

বর্তমানে ব্যাটারিচালিত লাইট সহজলভ্য, তাই বিদ্যুৎ সংযোগের ঝামেলাও নেই।

আরও পড়ুন

রান্নাঘর সাজানোর পন্থা

রং থেকে দেয়াল সুরক্ষা

যেসব কারণে ঘর দেখতে অগোছালো লাগে