ওজন কমলে চর্বিগুলো কই যায়?
অবাক করা মতো হলেও সত্যি যে, কিছু চর্বি নিঃশ্বাসের সাথে বের হয়ে যায়।
সাধারণ ধারণা হল ওজন কমা মানে চর্বিও গলা। তবে গলে যায় কোথায়? বের হয়ে যায় শরীর থেকে?
ওজন কমলে চর্বি কই যায সেটা জানলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
যেভাবে চর্বির কমার প্রক্রিয়া চলে
কম ক্যালরি গ্রহণ করার কারণে দেহ, জমানো ফ্যাট বা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।
“এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘লিপোলাইসিস”- ইটদিসনটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা নিবাসী পুষ্টিবিদ ক্রিস্টিন কার্লি।
চর্বি-কোষের উপাদানগুলো রক্ত প্রবাহে মিশে গিয়ে দেহের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। এই ‘ফ্যাটি অ্যাসিডস’ পেশি, কোষসহ দেহের কোনায় কোনায় পৌঁছে শক্তি যোগায়।
ডায়েট ও ব্যায়াম একসাথে করার ফলে যা হয়
যখন ডায়েট বা কম ক্যালরির খাদ্যাভ্যাসে যাওয়া হয় তখন দেহ শরীরের চর্বির ভাগাড়ে হানা দেয় শক্তির জন্য। এই প্রক্রিয়াতে চর্বি রূপান্তরিত হয় ‘ফ্যাটি অ্যাসিডস’ এবং ‘গ্লাইসেরোল’য়ে। যা কিনা শক্তির উৎ স হিসেবে কাজ করে।
যখন ব্যায়াম করা হয় তখন দেহের চর্বি খরচের পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পেশিগুলোতে শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তখন পেশিগুলো ওই ফ্যাটি অ্যাসিডস এবং গ্লুকোজ সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে চর্বি খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
তবে আরেকটি বিষয় হল চর্বি চোখের পলকে জাদুর মতো অদৃশ্য হয়ে যায় না।
ক্রিস্টিন কার্লি বলেন, “বরং চর্বি রূপান্তরিত হয় পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডে; যা নিঃশ্বাস বা ঘাম ও প্রশ্রাবের সাথে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। তাই যদি ওজন কমে তবে বুঝতে নেবেন অনেকখানি চর্বি আপনি নিঃশ্বাসের সাথে বের করে দিয়েছেন।”
দেহের চর্বি কমানোর কিছু কার্যকর পন্থা
- খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেহের চর্বি কমানোর প্রক্রিয়া নির্ভর করে। তাই দেহের বাড়তি ওজন কমাতে কিছু পন্থা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন কার্লি।
- চর্বি কমানোর প্রথম ধাপ হল, চাহিদার চাইতে কম ক্যালরি গ্রহণ। সেটা হতে পারে ক্যালরি কম গ্রহণ করা বা ব্যায়াম করা।
- খেতে হবে পরিমিত। খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর দিতে হবে। বেশি খাওয়া যাবে না। খিদা লাগলে খেতে হবে। অযথা যখন তখন খাওয়া যাবে না।
- আর্দ্র থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
- শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। ‘ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি গাইডলাইন্স ফর আমেরিকান্স’ অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হালকা মাত্রায় বা ৭৫ মিনিট মাঝারি মাত্রায় ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- পাশাপাশি স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং যুক্ত করতে হবে। পেশি গঠন করার ব্যায়াম বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি আর দেহের সৌন্দর্য বাড়ায়।
- পর্যাপ্ত ঘুমেরও দরকার রয়েছে। অপর্যাপ্ত ঘুম হরমোনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে ও খিদা বাড়ায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমাতে প্রতি রাতে অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
- দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ থেকে বাজে খাদ্যাভ্যাস ঝুঁকে পড়ে। তাই স্বাস্থ্যকর উপায়ে মানসিক চাপ কমাতে হবে। এক্ষেত্রে ধ্যান, ইয়োগা বা মনোবিজ্ঞানির সাহায্য নেওয়া কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন
