১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইয়ারবাডস পরিষ্কার রাখার সহজ উপায়

কানে দিয়ে গান শোনা হচ্ছে, সেই ইয়ারবাডস ঠিক মতো পরিষ্কার না করলে হয়ত জীবাণুর সাগরে ভাসছেন।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2025, 01:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:15 PM

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের মতোই ইয়ারবাডসও দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অফিসে কাজ করার সময়, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়, ব্যায়াম করার সময় এমনকি ঘুমানোর আগেও অনেকেই কানে দেন ইয়ারবাডস।

তবে জানেন কি এই ছোট এই যন্ত্রে প্রতিনিয়ত জমে ব্যাক্টেরিয়া, ধুলাবালি ও কান থেকে আসা ময়লা!

শব্দের মান বা ‘সাউন্ড কোয়ালিটি’ কমে যাওয়া অথবা কানে অস্বস্তির অন্যতম কারণ হতে পারে অপরিষ্কার ইয়ারবাডস।

রিয়েলসিম্পল ডটকম- এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিকি হুইটিয়ার হাসপাতাল সেন্টার’য়ের তথ্যানুসারে জানানো হয়, “প্রতিদিন ব্যবহৃত ইয়ারবাডস যদি নিয়মিত স্যানিটাইজ না করা হয়, তাহলে এতে প্রচুর জীবাণু জমে। এগুলো কানকে সংক্রমিত করতে পারে এবং যা অতিরিক্ত ‘ওয়াক্স’ বা কানে ময়লা জমার জন্য দায়ী হতে পারে।”

তাদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার না করলে কানের ভেতরে জমে থাকা ময়লা একসময় জমাট বেঁধে শ্রবণশক্তি পর্যন্ত প্রভাবিত করতে পারে।

কত ঘন ঘন পরিষ্কার করা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রতিদিন ইয়ারবাডস ব্যবহার করা হয়, তবে সপ্তাহে একবার দ্রুত পরিষ্কার ও মাসে অন্তত একবার ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।

গরমকালে ঘাম বেশি হলে অথবা ব্যায়ামাগারে ব্যবহার করলে আরও বেশি ঘন ঘন পরিষ্কার করা উচিত।

পরিষ্কারে যা লাগে

ইয়ারবাডস পরিষ্কারে যেসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী দরকার তা হল হালকা ডিশওয়াশিং তরল সাবান, তুলা বা কটন, মাইক্রোফাইবার কাপড়।

আর স্যানিটাইজ করার জন্য প্রয়োজন আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল বা রাবিং অ্যালকোহল, অ্যালকোহল ওয়াইপস, কটন। এছাড়া ফ্যাব্রিক পাউচ পরিষ্কারে দরকার ডিশওয়াশিং লিকুইড ও হালকা গরম পানি, বাটি।

ধাপে ধাপে ইয়ারবাডস পরিষ্কারের উপায়

ধাপ এক: পরিষ্কার দ্রবণ তৈরি

একটি ছোট বাটিতে আধা কাপ হালকা গরম পানির সঙ্গে ১/৪ চা-চামচ ডিশওয়াশিং লিকুইড মিশিয়ে নিতে হবে। সাবানের পরিবর্তে হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার থাকে।

ধাপ দুই: সিলিকন বা ফোম টিপ খুলে ভিজিয়ে রাখা

ইয়ারবাড থেকে আলতো করে নরম সিলিকন রাবারের অংশগুলো খুলে নিতে হবে এবং ওই দ্রবণে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে।

ধাপ তিন: পরিষ্কার ও শুকানো

ভিজে থাকা সিলিকন বা রাবারের অংশগুলো তুলা দিয়ে আলতো করে মুছে ধুলাবালি বা ময়লা সরিয়ে নিতে হবে।

এরপর হালকা গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে মাইক্রোফাইবার বা লিন্ট-ফ্রি কাপড়ে রেখে শুকাতে হবে।

অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন এগুলো একেবারে শুকনো না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় ব্যবহার না করা হয়।

ধাপ চার: মেশ কাভার পরিষ্কার

মেশ বা খাপের অংশটি নিচের দিকে ধরে রাখতে হবে, যেন ময়লা ভেতরে না পড়ে। এবার একটি শুকনা ও নরম টুথব্রাশ দিয়ে আলতো করে ময়লা সরালেই হবে।

স্যানিটাইজ করার পদ্ধতি

অ্যালকোহলে রাবার বা সিলিকনের অংশটি মুছতে হবে। যদি সিলিকন ‘টিপ’ হয়, তাহলে অ্যালকোহল ওয়াইপস বা আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলে ভেজানো কটন দিয়ে মুছে নিতে হবে। ফোম টিপ অ্যালকোহলে ভেজালে ক্ষতি হতে পারে, তাই সেগুলো শুধু সাবান পানি দিয়েই পরিষ্কার করাই ভালো।

মেশ বা খাপের স্ক্রিনে অ্যালকোহল ব্যবহার

একটি হালকা ভেজা (কিন্তু চুপচুপে নয়) কটনবাড দিয়ে মেশ অংশ মুছে নিতে হবে। এরপর এক ঘণ্টা শুকাতে হবে ঠিকঠাক।

বডি ও কর্ড মোছা

বাইরের প্লাস্টিক বডি বা কর্ড (যদি থাকে) অ্যালকোহল ওয়াইপ বা বাড দিয়ে মুছে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

শুকাতে দেওয়া

শুকাতে কোনোভাবেই গরম বাতাস ব্যবহার করা যাবে না, যেমন- হেয়ার ড্রায়ার। কারণ তাপে যন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। দ্রুত শুকানোর জন্য একটি বাক্সে সিলিকা জেল প্যাকেট দিয়ে রাখা যায়। এতে ভালো ফল মিলবে।

ইয়ারবাডস কেইস পরিষ্কার করা

সিলিকন বা প্লাস্টিক কেইসের ক্ষেত্রে মাইক্রোফাইবার দিয়ে মুছতে হবে। ইয়ারবাডস বের করে কেইসের ভেতর ও বাইরে ভালোভাবে মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। চারকোণা ও চার্জিং পোর্টে জমে থাকা ময়লা তুলা দিয়ে সরানো জরুরি।

অ্যালকোহল দিয়ে মোছা

যদি কেইসে এখনও দাগ বা ময়লা থাকে, তবে অ্যালকোহল ওয়াইপস বা অ্যালকোহলে ভেজানো কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছতে হবে। তবে ইলেকট্রনিক অংশে অ্যালকোহল লাগনো যাবে না। আর সেদিকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।

শুকানো

মোছার পর অবশ্যই এক ঘণ্টা শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর ইয়ারবাডস কেইসে রাখতে হবে।

ফ্যাব্রিক পাউচ পরিষ্কারের উপায়

প্রথমেই একটি বাটিতে হালকা গরম পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ’ডিশ লিকুইড সোপ’ মিশিয়ে নিতে হবে।

পরের ধাপে পাউচ ভিজিয়ে রাখতে হবে। তবে পাউচটি সম্পূর্ণভাবে খোলার চেষ্টা করে তবেই সাবান পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা উচিত।

এই ধাপে হাত দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। হাত দিয়ে আলতো করে ঘষে ধুলাবালি বা ময়লা সরিয়ে, এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা এবং শুকিয়ে নেওয়া জরুরি।

দীর্ঘ সময় ইয়ারবাডস পরিষ্কার রাখার পদ্ধতি

কেইস ব্যবহার করা। আর ব্যাগ বা পকেটে না রেখে সবসময় ইয়ারবাডস কেইসে রাখতে হবে। ঘাম হলে শুকিয়ে নিতে হবে।

ব্যায়ামাগারে ব্যবহার করলে পরে ভালোভাবে শুকিয়ে কেসে রাখা উচিত। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি।

কোনোভাবেই সরাসরি রোদে বা গরম জায়গায় রাখা যাবে না। চার্জিংয়ের সময় কেইস বন্ধ রাখতে হবে, এতে ধুলাবালি ভেতরে ঢুকবে না।

বিশেষজ্ঞ মতামত ও সতর্কতা

রিয়েলসিম্পল ডটকম –এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কান, নাক ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. লরেন হান্টার বলেন, “অপরিষ্কার ইয়ারবাডস বারবার ব্যবহার করলে কানে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।”

আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা -এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানের ভেতর পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে দীর্ঘমেয়াদে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

আরও পড়ুন

যেসব পরিষ্কারের জিনিস নিয়মিত বদলানো উচিত

ঘরের জঞ্জাল পরিষ্কার করার সহজ নিয়ম

ঘরের যে স্থানগুলো পরিষ্কার রাখা জরুরি