বর্ষায় প্রজনন অঙ্গ সুরক্ষিত রাখতে
বর্ষার আমেজ পছন্দের হলেও, স্যাঁতস্যাঁতেভাব স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়।
আর্দ্র আবহাওয়া ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ায় যা যৌননাঙ্গে বাজে প্রভাব ফেলে।
অত্যাধিক ঘাম, অপর্যাপ্ত শুষ্কতা যোনিপথে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে যা পরিবর্তিতে সংক্রমণ বাড়ায়।
বর্ষায় ‘ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন’ প্রতিকারের উপায়
হেল্থশটস ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের পুনের খারাদির ‘মাদারহুড হসপিটাল’য়ের প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শদাতা ডা. সুশ্রুতা মোকাদাম এই সম্পর্কে বলেন, “বর্ষাকালে যোনির স্বাস্থ্য নানান কারণে আক্রান্ত হতে পারে। আর্দ্রতা বাড়ার কারণে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ বাড়ে এবং অপরিচ্ছন্নতার জন্য ফাঙ্গাসের প্রকোপ দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ ভেজা কাপড় পরা যোনির স্বাস্থ্যকে আরও বেশি হুমকির সম্মুখীন করে।”
এছাড়া বর্ষায় র্যাশ, প্রদাহ, মূত্রনালীতে সংক্রমণ ও যোনির প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। যোনি দীর্ঘক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকলে আর্দ্রতা বাড়ে ফলে এই স্থানের পিএইচ’য়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
আর ক্যান্ডিডা ফাঙ্গাসের সংক্রমণ থেকে দেখা দেয় ঘন, সাদা স্রাব ও চুলকানির সমস্যা, জানান এই বিশেষজ্ঞ।
তাই, বর্ষাকালে ব্যক্তিগত পরিছন্নতা মেনে চলা জরুরি।
মৃদু ও পিএইচ ভারসাম্য রক্ষাকারী পরিষ্কারক
যোনিঅঞ্চল পরিষ্কার করতে মৃদু ও পিএইচ ভারসাম্য রক্ষাকারী পরিষ্কারক কুসুম গরম পানির সাহায্যে ব্যবহার করতে হবে।
কড়া সাবান বা পরিষ্কারক এই স্থানের পিএইচ’য়ের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই সচেতন হওয়া জরুরি।
বায়ু চলাচল করে এমন সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার
বাতাস চলাচল করে এমন সুতি অন্তর্বাস পরা অতিরিক্ত আর্দ্রতা দূর করে সংক্রমণ প্রতিহত করতে সহায়তা করে।
সিনথেটিক তন্তু আর্দ্রতা আটকে রাখে। তাছাড়া আঁটসাঁট পোশাক বাতাস চলাচলে বাধা দেয়। তাই ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাতাস চলাচল নিশ্চিত করে ঘাম ও আর্দ্রতা শোষণে সহায়তা করে।
মাসিকের পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা
মাসিক চলাকালীন অপরিচ্ছনতা সংক্রমণের জন্য দায়ী, বিশেষ করে বর্ষায়।
যৌন স্বাস্থ্যে সুস্থতায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে প্যাড পরিবর্তন করা, শুষ্কতা নিশ্চিত করা, সুগন্ধি ধরনের পণ্যের ব্যবহার বাদ দেওয়া এবং ব্যাক্টেরিয়ায় সংক্রমণ এড়াতে ভালো মতো হাত পরিষ্কার করা জরুরি।
ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করা
ভেজা অন্তর্বাস দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সংক্রমণ এড়াতে বৃষ্টিতে ভিজলে বা ঘামলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অন্তর্বাস পরিবর্তন করে নেওয়া উচিত।
স্যাঁতস্যাঁতেভাব দূর করা
গোসল করা বা পরিচ্ছন্ন হওয়ার পরে যৌনিঅঞ্চল ভালোমতো পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুছে নিতে হবে। সংবেদনশীল স্থান হওয়াতে খুব বেশি জোড়ে ঘষা যাবে না। আর ঘন ঘন শেইভ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
গণ শৌচাগার এড়িয়ে চলা
গণ শৌচাগারে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যথাযথ পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা হয় না। তাই ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ এড়াতে যতটা সম্ভব গণ শৌচাগার এড়িয়ে চলতে হবে। আর যদি বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হয় তাহলে নিশ্চিত হতে হবে যেন তা পরিচ্ছন্ন থাকে।
আর্দ্র থাকা
পর্যাপ্ত পানি পান দেহ থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে যোনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক
মিলনে নিরাপত্তা মেনে চলা জরুরি। এর মাধ্যমে সংক্রমণ একে অপরের মাঝে প্রবাহিত হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা আবশ্যক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।
কোনো কারণে অস্বাভাবিক লক্ষণ বা অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
