১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বনানীর যাত্রা বিরতিতে একবেলা

নিজের মতো হোক না হয় একটা দিনের একবেলা।

রিফাত পারভীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 05:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

ব্যস্ত জীবনে ‘যাত্রা বিরতি’ শব্দটি যেন কেবল পথের মাঝখানে থেমে যাওয়ার কথা বলে না, বরং একটু নিজের কাছে ফেরার সুযোগও তৈরি করে। যাত্রা বিরতি রেস্তোরাঁটি ঠিক তেমনই একটি জায়গা।

প্রচলিত রেস্তোরাঁর মতো শুধু খেতে বসার জন্য নয়, এখানে এক বেলা সময় কাটানোকে সাজানো যায় নিজের পছন্দমতো।

খাওয়া, আড্ডা, ছবি তোলা, কেনাকাটা, গান শোনা কিংবা সবুজের মধ্যে কিছুক্ষণ নিরিবিলি বসে থাকা- একটি দুপুর বা বিকেলও এখানে হয়ে উঠতে পারে ছোট ছুটির মতো।

রেস্তোরাঁটি বনানীর ১৭/এ সড়কের ৬৩ নম্বর বাড়িতে নতুন করে দেশীয় আবহে সাজানো হয়েছে।

এক বেলা শুরু হোক পছন্দের খাবারে

যাত্রা বিরতিতে সময় কাটানো শুরু হতে পারে খাবার দিয়ে। তবে এখানে খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত খাবারের বাইরে একটু ভিন্ন স্বাদও খুঁজে দেখা যায়।

খাবারের তালিকায় রয়েছে খুদের ভাতের সঙ্গে পাঁচ ধরনের বিশেষ ভর্তা, ভুনা মাশরুমের সঙ্গে চালের রুটি, ল্যাটকা খিচুড়ি, বেগুন ভাজা, সবজি কোফতা ও মাশরুম তেহারি, চাল, ছিটা রুটি এবং সবজি দিয়ে তৈরি খাবার, বিন্নি চালের ভাত।

মিষ্টি দিয়ে শেষ হোক খাবারের গল্প

যাত্রা বিরতির খাবারের তালিকায় রয়েছে ক্ষীরের পাটিসাপটা, খেজুরের গুড় দিয়ে ঘরে পাতা দই, নারিকেল পুর দেওয়া ভাপা পুলি এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার ও ফল।

তাই এক বেলা খাওয়ার পরিকল্পনায় শুধু প্রধান খাবার নয়, শেষে মিষ্টির জন্যও কিছুটা সময় রাখা যেতে পারে।

এক কাপ চায়ের সঙ্গে ধীর হয়ে যাওয়া

খাওয়া শেষ করেই উঠে পড়তে হবে— এমন কোনো তাড়া না থাকলে এক কাপ চা নিয়ে আরও কিছুক্ষণ বসে থাকা যায়।

যাত্রা বিরতির তালিকায় রয়েছে গুড়ের চা, পুদিনা-পাতার চা ও তুলসী চায়ের মতো কিছু আলাদা স্বাদের পানীয়।

এছাড়া রয়েছে ডাব আর শাঁসের কোকনাট মিক্স।

এই সময়টুকু হতে পারে দিনের ধীর মুহূর্ত। এক বেলার ব্যস্ততার মধ্যেও এমন বিরতি মনকে অনেকটাই হালকা করতে পারে।

ছবি গল্প ধরে রাখে

যাত্রা বিরতির সাজসজ্জাতে বাঁশ, কাঠ, খড়, গামছা ও বাঁশের চিকের মতো দেশীয় আবহ পাওয়া যাবে। ধানমন্ডি, বনানী, গুলশানের আধুনিক রেস্তোরাঁর ঝলমলে সাজের বদলে এখানে গ্রামের বাড়ির বারান্দা বা চালাঘরের ছাপই স্পষ্ট।

তাই শুধু খাবার বা নিজের ছবি না তুলে জায়গাটির সাজসজ্জাকেও ছবির গল্পে রাখা যায়।  

নিজের মতো করে সবুজের মধ্যে

ব্যস্ততার মধ্যে সবুজের উপস্থিতি সবসময় সহজে পাওয়া যায় না। যাত্রা বিরতির ছাদের বসার জায়গায় সময় কাটানোর সুযোগ থাকায়, সেখানে খাবারের পাশাপাশি কিছুটা খোলা পরিবেশও পাওয়া যাবে।

সবুজের মধ্যে বসে থাকার জন্য আলাদা কোনো আয়োজন দরকার নেই। হাতে বই থাকলে কয়েক পৃষ্ঠা পড়া যায়, গান শুনতে ভালো লাগলে হেডফোনে নিজের পছন্দের গান শোনা যায়, অথবা কোনো কিছুই না করে শুধু চারপাশ দেখা যায়।

একা গেলে এই সময়টা হতে পারে নিজের সঙ্গে থাকার; আর সঙ্গে কেউ থাকলে হতে পারে ধীরগতির আড্ডার।

খাবারের পর একটু ঘোরাঘুরি

যাত্রা বিরতি যে শুধু খাবারের জায়গা নয়, সেটার আরেকটি কারণ হল- এর সঙ্গে যাত্রার পোশাক ও জীবনযাপনের ভাবনার যোগ রয়েছে।

তাই খাবার শেষ করে যাত্রার দোকানে একটু ঘুরে দেখা যেতে পারে। কেনার ইচ্ছা না থাকলেও পোশাক, সাজসজ্জা বা ঘর সাজানোর জিনিস দেখা নিজেই এক ধরনের বিনোদন।

নিজের পছন্দের কিছু চোখে পড়লে সেটি কেনা যেতে পারে, আবার শুধু দেখে ফিরে আসাও যায়।

কেনাকাটায় স্থানীয়তার ছোঁয়া

যাত্রা বিরতিতে এক বেলা কাটানোর আরেকটি দিক হতে পারে কেনাকাটা। খুব বড় কিছু কেনার দরকার নেই। নিজের জন্য একটি পোশাক, ছোট কোনো সাজসজ্জার উপকরণ বা প্রিয়জনের জন্য উপহার— ছোট কোনো জিনিসও এই সফরের স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে।

বিশেষ করে দেশীয় পোশাক ও নকশার সঙ্গে সময় কাটানো গেলে, এক বেলার অভিজ্ঞতা শুধু খাবারের মধ্যে আটকে থাকে না। তখন খাবার, পোশাক, সাজসজ্জা ও সংস্কৃতি— সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটিকে একটু অন্যভাবে দেখা যায়।

আড্ডা হোক ধীরগতির

বন্ধুদের সঙ্গে গেলে যাত্রা বিরতিকে বানিয়ে নেওয়া যায় দীর্ঘ আড্ডার জায়গা। তবে সেই আড্ডা হতে পারে একটু ভিন্ন ধরনের।

শুধু দ্রুত খেয়ে উঠে যাওয়ার বদলে খাবার ভাগ করে খাওয়া, পুরানো গল্প করা, নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলা বা অনেক দিন পর দেখা হওয়া বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো—সবই করা যায়।

রেস্তোরাঁটির সঙ্গে সংগীত আয়োজনেরও যোগ রয়েছে এবং নিয়মিত বিভিন্ন সংগীত পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়।

তাই যাওয়ার আগে কোনো আয়োজন আছে কি-না জেনে নিলে, এক বেলার পরিকল্পনায় সেটিও যুক্ত করা যেতে পারে।

একা গেলে একা থাকারও সুযোগ

সব সময় রেস্তোরাঁয় যাওয়ার অর্থ বন্ধুদের নিয়ে হৈচৈ করা নয়। একা নিজের সঙ্গে সময় কাটাতেও এমন জায়গা বেছে নেওয়া যায়।

পছন্দের খাবার নিয়ে বসে থাকা, চা পান করা, বই পড়া, কিছু লেখা, ছবি আঁকা কিংবা শুধু চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করা— সবই হতে পারে একান্ত ব্যক্তিগত সময়।

একবেলা নিজের মতো করে কাটানো মানসিকভাবে আলাদা স্বস্তি দিতে পারে। কোথাও পৌঁছানোর তাড়া নেই, কারও জন্য আয়োজন করারও প্রয়োজন নেই, শুধু নিজের পছন্দমতো কয়েক ঘণ্টা।

বিশেষ দিনের ছোট আয়োজন

কেউ চাইলে এখানে ছোট পরিসরে জন্মদিন, বন্ধুত্বের উদ্‌যাপন কিংবা পারিবারিক কোনো উপলক্ষ্যও কাটানো যায়। যাত্রা বিরতির আলাদা প্রদর্শনী কক্ষ ও সুবিধা রয়েছে এবং সেখানে করা যায় বিভিন্ন ধরনের আয়োজন।

তবে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। কয়েকজন কাছের মানুষ, পছন্দের খাবার আর দীর্ঘ আড্ডা দিয়েও একটি সাধারণ দিনকে বিশেষ করে তোলা যায়।

আরও পড়ুন

রাজধানীতে পথের ধারে পাহাড়ি স্বাদের টানে

নিরামিষ রেস্তোরাঁয় ভোজন

অর্গানিক খাবারের রেস্তোরাঁ নিয়ে স্বাগতা