Published : 02 Sep 2026, 04:45 PM
চ্যাপা শুঁটকির তীব্র ঘ্রাণ আর কড়া ঝালের মেলবন্ধন গরম ভাতের সঙ্গে এক জাদুকরী স্বাদ তৈরি করে।
শুঁটকির এই চেনা স্বাদকে আরও একটু ঐতিহ্যবাহী ও গ্রামীণ ঘরানায় ফুটিয়ে তুলতে রন্ধনশিল্পী মিতা খানম নিয়ে এসেছেন রেসিপি— ‘ঝন্টি বেগুন দিয়ে চ্যাপা শুঁটকি’।
ছোট গোল বা লম্বাটে জাতের ঝন্টি বেগুনের সঙ্গে চ্যাপা শুঁটকির এই যুগলবন্দি ভাতের পাতে দারুণ জমে ওঠে।
উপকরণ
পদ্ধতি
ধাপ ১: শুঁটকি পরিষ্কার ও পেঁয়াজ ভাজা
প্রথমে চ্যাপা শুঁটকিগুলো কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ভেতরের সমস্ত ময়লা ও আঁশ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এবার চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে পরিমাণমতো সর্ষের বা সয়াবিন তেল গরম করতে হবে।
তেল ভালোভাবে গরম হলে মিহি করে কাটা পেঁয়াজ কুচি ও রসুন বাটা বা কুচি ঢেলে দিতে হবে। পেঁয়াজ নরম ও হালকা সোনালি-বাদামি হওয়া পর্যন্ত মাঝারি আঁচে অনবরত নেড়েচেড়ে ভাজতে হবে।
ধাপ ২: শুঁটকি গলানো ও মসলা কষানো
পেঁয়াজ বাদামি হয়ে এলে কড়াইতে আগে থেকে পরিষ্কার করে রাখা চ্যাপা শুঁটকিগুলো সরাসরি দিয়ে দিতে হবে। শুঁটকিগুলো তেলের মধ্যে কিছুক্ষণ ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে।
শুঁটকি যখন নরম হয়ে তেলের সঙ্গে পুরোপুরি গলে মিশে যাওয়ার উপক্রম হবে, তখন মসলা যেন পুড়ে না যায় সেজন্য সামান্য একটু বিশুদ্ধ পানি যোগ করতে হবে।
এরপর একে একে হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে পুরো মসলাটি খুব ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে।
ধাপ ৩: বেগুন যোগ ও দমে রান্না
মসলা কষাতে কষাতে যখন ওপর থেকে সুন্দর তেল ছেড়ে দেবে, তখন আগে থেকে কেটে রাখা বেগুনের টুকরোগুলো এবং কাঁচা মরিচ ফালি কড়াইতে দিয়ে দিতে হবে।
মসলার সঙ্গে বেগুন খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে কড়াইটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এই পর্যায়ে চুলার আঁচ মাঝারি রাখতে হবে।
বেগুনে বাড়তি কোনো পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ঢাকনা দেওয়ার পর বেগুন থেকে নিজেই প্রচুর প্রাকৃতিক পানি বের হবে।
ধাপ ৪: মাখামাখা করা ও পরিবেশন
মাঝেমধ্যে ঢাকনা খুলে আলতো করে নেড়ে দিতে হবে যেন তলায় লেগে না যায়। বেগুন সম্পূর্ণ সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে আসলে এবং কড়াইয়ের ওপরে সুন্দর তেল ভেসে উঠলে নামানোর আগে ভালো করে নেড়েচেড়ে ঝোল মাখামাখা করে নিতে হবে।
তৈরি হয়ে গেল স্নিগ্ধ সুঘ্রাণের ‘ঝন্টি বেগুন দিয়ে চ্যাপা শুঁটকি’।
এবার চুলা বন্ধ করে ধোঁয়া ওঠা গরম গরম ভাতের সঙ্গে দুপুরের ভোজে পরিবেশন করুন।
আরও রেসিপি